মাসআলা (১১৬১): যে ব্যক্তির নিজ মালিকানাভুক্ত কোনো বসতবাড়ি নেই এবং বছরের মধ্যকার আয় হতে একটি জমি খরিদ করেছে যাতে সেখানে নিজের জন্য একটি বাড়ি নির্মাণ করতে পারে এরপর সেখানে নির্মাণকাজও শুরু করে দেয়, কিন্তু নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই খুমসবর্ষ এসে পড়েছে, তাহলে সেক্ষেত্রে সে ইতোমধ্যে যা কিছু নির্মাণ সামগ্রী বাবদ ব্যয় করেছে তাতে খুমস নেই।
মাসআলা (১১৬২): যে দেনার টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি (সময়বিহীন দেনা হোক আর সময়সীমার দেনা হোক, তদ্রূপ ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে দেনা হোক কিংবা কোনো জিনিস বাকিতে ক্রয় করার কারণে হোক), তা বাৎসরিক আয় হতে আলাদা (কর্তন) করা যাবে না, যদি না তা আয়ের বছরের খরচাদি বাবদ হয়ে থাকে। তাহলে সেক্ষেত্রে বছরের আয় হতে যে পরিমাণ টাকা দেনা পরিশোধে ব্যয় করতে চাইবে, তা কর্তন করা যাবে এবং বছরের আয়ের ঐ পরিমাণ টাকায় খুমস ধার্য হবে না। কিন্তু যদি পূর্ববর্তী বছরসমূহের দেনা পরিশোধের জন্য হয়ে থাকে, তাহলে যদিও বাৎসরিক আয় হতে তা পরিশোধ করা জায়েয আছে, কিন্তু যদি পরিশোধ না করে থাকে তাহলে বছরের আয় হতে কর্তন করা যাবে না।
মাসআলা (১১৬৩): যেসব চাকুরীজীবীর কখনো কখনো কিছু টাকা তাদের বাৎসরিক খরচাদি হতে উদ্বুত্ত থাকে, সেক্ষেত্রে অবশিষ্ট থেকে যাওয়া সমুদয় টাকার খুমস প্রদান করা ওয়াজিব। যদি তাদের নগদে ও কিস্তির দেনা থাকে, তবুও। তবে হ্যাঁ, যদি উক্ত দেনা বছরের মধ্যে ঐ বছরেরই খরচাদি মেটানো বাবদ অথবা বাকিতে বছরের কোনো প্রয়োজনীয় জিনিস খরিদ বাবদ হয়ে থাকে, এমতাবস্থায় তারা যদি তাদের দেনাকে ঐ বছরেরই মুনাফা হতে পরিশোধ করতে চায়, তাহলে বছর শেষের অবশিষ্ট টাকা হতে দেনার পরিমাণ টাকা কর্তন করা যাবে।
মাসআলা (১১৬৪): বসতবাড়ির দেনার কিস্তির ও অনুরূপ খরচাদি যথাসম্ভব ঐ বছরেরই আয় হতে পরিশোধ করা ভাল। কিন্তু যদি পরিশোধ করা না হয়, ঐ বছরের আয় হতে কর্তন করা যাবে না। বরং খুমসবর্ষের মাথায় আয়ের অবশিষ্ট থেকে যাওয়া টাকার উপর খুমস ধার্য হবে।
মাসআলা (১১৬৫): যে দেনা জীবন নির্বাহ খরচাদি ভিন্ন অন্য কোনো বাবদ (যেমন ধরুন, কাফফারা বাবদ দেনা) হয়ে থাকে, যদিও তা পরিশোধ করার জন্য বছরের আয় হতে ব্যয় করা জায়েয আছে, কিন্তু যদি বছরের শেষবধি পরিশোধ না করা হয়ে থাকে, তাহলে যে বছরে ঐ দেনা করা হয়েছে, যদি সেই বছরের ব্যবসায়ের মুনাফা থেকে তা কর্তন করা যাবে না। বরং ব্যবসা থেকে বছরের যে আয় উক্ত বছরের খরচাদির পর উদ্বুত্ত থাকবে তার খুমস পরিশোধ করা ওয়াজিব।
সূত্রঃ রেসালায়ে মুস্তাখাব আল-আহকাম বই থেকে সংগ্রহীত
হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী (মুদ্দা যিল্লুহু )- এর ফতোয়া অনুযায়ী সংকলিত