ঈমানদারদের শৈথিল্য নবীগণের (আ.) অর্জনকে ম্লান করতে পারে
হ্যাঁ, হয়তো ঈমানদারদের শৈথিল্য ও চেষ্টা-প্রচেষ্টার ত্রুটি এবং উপযুক্ত ক্ষেত্র প্রস্তুত না হওয়ার কারণে উক্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন বিলম্বিত হতে পারে। আবার কোন এক সময়কার সাফল্য ও অর্জনসমূহ পরবর্তী প্রজন্মের সমন্বয়হীনতা, অবহেলা ও গাফিলতির কারণে হাত ছাড়া হয়ে যেতে পারে; যেমনভাবে তা সংঘটিত হয়েছে। মানবেতিহাসে আমরা হযরত সোলাইমান (আ.), হযরত দাউদ (আ.) ও হযরত ইউসূফের (আ.) ন্যায় নবীদেরকে দেখেছি যারা বিভিন্ন সময়ে সমগ্র বিশ্ব কিংবা পৃথিবীর অধিকাংশ অঞ্চলে শাসন পরিচালনা এবং আল্লাহর বিধানকে সর্বজনীনভাবে কার্যকর করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে ঈমানদাররা নিজেদের করণীয় যথাযথভাবে সম্পন্ন না করায়, সংগ্রাম এবং চেষ্টা ও প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকায় পূর্বে অর্জিত সাফল্য ও অর্জনসমূহ হাত ছাড়া হয়ে গেছে। অর্থাৎ কোন একজন নবীর নবুয়্যতকালে অর্জিত সাফল্যসমূহ যথাযথভাবে সংরক্ষন না করায় কালের আবর্তে সেগুলো ম্লান হয়ে গেছে। কিন্তু নবীগণ (আ.) তাঁদের কাঙ্খিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ -যেগুলো হচ্ছে মানব কল্যাণ, মানুষের সংশোধন এবং একত্ববাদের সমাজ প্রতিষ্ঠা- হতে কখনও পিছপা হন নি এবং সেগুলো বাস্তবায়নেও ব্যর্থ হন নি। অর্থাৎ প্রত্যেক নবী যখন এসেছেন তখন সে নবীর উপস্থিতি এবং সে নবীর নবুয়্যত ও রেসালতের মিশন মূলত পূর্ববর্তী নবীর দাওয়াত ও চেষ্টা-প্রচেষ্টার ফসল। কেননা পূর্বগামী নবী চেষ্টা চালিয়েছেন মানুষ যাতে হেদায়েতপ্রাপ্ত ও আত্মিক উৎকর্ষতা সাধন করতে পারে, অনুরূপভাবে পরবর্তীতে আগত নবীও মানব জাতিকে একই পথে আরও অগ্রসর ও উন্নতি সাধনের চেষ্টা করেছেন। প্রকৃতপক্ষে পূর্ববর্তী নবীর দাওয়াত পরবর্তী নবীর দাওয়াতের ক্ষেত্রকে সুগম ও সহজসাধ্য করেছে। এভাবে যুগের পর যুগ ধরে নবীগণের অভিন্ন দাওয়াতের ধারা অব্যাহত ছিল।