মাসআলা (১২১৬): আনফাল এর অর্থ হচ্ছে ঐ সর্বজনীন সম্পদ যা রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তার মাসুম স্থলাভিষিক্তগণের এক্তিয়ারভুক্ত থাকে। আর গাইবাতের যামানায় এর এক্তিয়ার ওয়ালীয়ে আমরে মুসলিমিনের এক্তিয়ারভুক্ত হয় (যা ইসলামী হুকুমতের কর্তৃত্বাধীন)। এ সম্পদ সমাজের জনকল্যাণমূলক কাজে এবং সর্বজনীন স্বার্থে কাজে লাগাতে হয়।
মাসআলা (১২১৭):আনফালের উৎসগুলো হলো:
১. ফেই (যে সম্পদ কোনো সৈন্য পরিচালনা যুদ্ধ ব্যতিরেকেই মুসলমানদের হাতে চলে আসে, ভূখ-ই হোক অথবা অন্য কিছু হোক)।
২. মৃত ভূমিসমুহ যা আবাদ ও উজ্জীবিতকরণ ব্যতীত ব্যবহার উপযোগী নয়।
৩. ঐসব শহর ও গ্রাম, যেগুলো তাদের মালিকরা ত্যাগ করে সেখান থেকে চলে গেছে।
৪. সমুদ্র ও বড় বড় নদীর তীর।
৫. প্রাকৃতিক বনভূমি ও ঝোপঝাড় এবং পর্বতের উপত্যাকা ও উত্তল ভূমি।
৬. রাজা বাদশাহদের বাছাইকৃত ও দামি দামি জিনিসপত্র, যেগুলো যুদ্ধের মধ্যে মুসলমানদের হস্তগত হয়।
৭. বিশেষ গণিমতসমূহ, যেমন ঃ উৎকৃষ্টমানের ঘোড়া, মূল্যবান পরিচ্ছদ ইত্যাদি।
৮. যেসব গণিমত মুসলমানদের নেতার অনুমতি ব্যতীত যুদ্ধের মাধ্যমে মুসলমানদের হস্তগত হয়।
৯. যারা মৃত্যুবরণ করে কিন্তু কোনো ওয়ারিশ থাকে না তাদের সহায় সম্পত্তি।
১০. খনিজ দ্রব্যাদি।
মাসআলা (১২১৮): সিটি কর্পোরেশনের জন্য উন্নয়ন কর্মকা-, শহর নির্মাণ ইত্যাদি কাজে নদীতটের বালি ও নুড়ির স্বতন্ত্র ব্যবহার করা জায়েয। আর বিশেষ ব্যক্তিবর্গের পক্ষ হতে বৃহত্তর ও সর্বজনীন নদীসমূহের তট ও কূলের ব্যক্তিগত মালিকানার দাবি গ্রহণীয় নয়।
সূত্রঃ রেসালায়ে মুস্তাখাব আল-আহকাম বই থেকে সংগ্রহীত
হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী – এর ফতোয়া অনুযায়ী সংকলিত