খুলনায় আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতনীর উদ্যোগে ‘ঈদে গাদীর’ বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ঐতিহাসিক গাদীর-ই-খুমের মহান দিবস উপলক্ষ্যে খুলনায় এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত নূরানী অনুষ্ঠানে বহু গণ্যমান্য আলেম সমাজ এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া , ইমামে জামানার (আ.) এবং মহান আল্লাহর প্রশংসা ও রাসূলের শানে হামদ, নাত ও কাসিদা পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ঈদে গাদীরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং পবিত্র আহলে বাইতের মহান আদর্শ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

আহলে বাইতের আদর্শই মুক্তির পথ:
খুলনা সম্মিলিত ওলামায়ে কেরাম ও জামিয়্যাতে মুহিব্বিনে আহলে বায়েত-এর সম্মানিত সভাপতি আলহাজ্ব জনাব মাওলানা ইব্রাহীম ফায়জুল্লাহ সাহেব তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে বলেন, “ঈদে গাদীর আসলে কত বড় এবং মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন, তা বর্তমানের সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি অনেক আলেম সমাজও হয়তো অনুধাবন করতে পারেন না। এটি যে গোটা মুসলিম উম্মাহর জন্য কত বড় একটি নিয়ামত এবং আনন্দের দিন, তা আজ আমাদের গভীরভাবে বোঝার সময় এসেছে। বিদায় হজের ঐতিহাসিক মুহূর্তে, লক্ষাধিক হাজীর উপস্থিতিতে আমাদের মহান নেতা, আমাদের পরম আদর্শ রাসূলুল্লাহ (সা.) স্বয়ং নিজের হাত মোবারক তুলে মাওলা আলী -কে উম্মতের পথপ্রদর্শক ও ‘মাওলা’ হিসেবে চিনিয়ে দিয়েছিলেন। সেদিন মহান আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর জন্য ইমাম আলী (রা.)-কে মাওলা হিসেবে এক অনন্য উপহার দান করেছিলেন। তাই এই দিনটি নিঃসন্দেহে মুসলমানদের জন্য একটি মহিমান্বিত ঈদের দিন।”

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে আরও বলেন, “আমরা আজ এই জমিনে পবিত্র আহলে বাইতের প্রকৃত আদর্শ পালন করছি না; বরং আমরা চরিত্র ও কর্মে ইয়াজিদ ও মুয়াবিয়ার নীতিতে চলছি—যা আমাদের চরম ক্ষতি ও ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের যদি প্রকৃত কল্যাণ ও মুক্তি পেতে হয়, তবে আহলে বাইতের সেই মহান চরিত্রের বৈশিষ্ট্য ও আদর্শ আমাদের নিজেদের জীবনের ভেতরে ধারণ করতে হবে।”
রাসূলের (সা.) যোগ্য উত্তরসূরি ও মাওলা ইমাম আলী :

বায়তুন নূর জামে মসজিদের খতিব এবং খলিফা, প্রখ্যাত শায়েখ মাওলানা মান্জুরুল আহমাদ তাঁর মূল্যবান বক্তব্যে পবিত্র আহলে বাইতের মর্যাদা ও মওলা আলী (আ.)-এর অনন্য অবস্থান তুলে ধরে বলেন, “মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) স্বয়ং মওলা আলী -কে তাঁর ‘ওয়াসি’ বা প্রতিনিধি ও আত্মিক উত্তরসূরি বানিয়ে দিয়ে গেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেছেন—’আমার পর আর কোনো নবী নেই। কিন্তু হে আলী, আমার সাথে তোমার সম্পর্ক ঠিক তেমন, যেমন মূসা (আ.)-এর নিকট হারুন (আ.)-এর সম্পর্ক ছিল।’ নবী যদি উম্মতের জন্য আলোর দিশারী, পথপ্রদর্শক ও কাণ্ডারী হয়ে থাকেন, তবে ঠিক একই অর্থ ও মর্যাদা আলী -এর ক্ষেত্রে ‘মাওলা’ শব্দটির মাধ্যমেও প্রকাশ পায়। আমরা যদি ইসলামের ইতিহাসের দিকে তাকাই, তবে দেখতে পাই—যখনই নবী করীম (সা.)-এর কোনো বিশেষ প্রয়োজনে নিজের জায়গায় অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, তিনি বারবার গভীর আস্থা ও ভালোবাসায় ইমাম আলী (আ.)-কেই বেছে নিয়েছেন।” হযরত আলী -এর অনন্য অবস্থান তুলে ধরে বলেন, “মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) স্বয়ং ইমাম আলী (আ.)-কে তাঁর ‘ওয়াসি’ বা প্রতিনিধি ও আত্মিক উত্তরসূরি বানিয়ে দিয়ে গেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেছেন—’আমার পর আর কোনো নবী নেই। কিন্তু হে আলী, আমার সাথে তোমার সম্পর্ক ঠিক তেমন, যেমন মূসা (আ.)-এর নিকট হারুন (আ.)-এর সম্পর্ক ছিল।’ নবী যদি উম্মতের জন্য আলোর দিশারী, পথপ্রদর্শক ও কাণ্ডারী হয়ে থাকেন, তবে ঠিক একই অর্থ ও মর্যাদা ইমাম আলী (আ.)-এর ক্ষেত্রে ‘মাওলা’ শব্দটির মাধ্যমেও প্রকাশ পায়। আমরা যদি ইসলামের ইতিহাসের দিকে তাকাই, তবে দেখতে পাই—যখনই নবী করীম (সা.)-এর কোনো বিশেষ প্রয়োজনে নিজের জায়গায় অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, তিনি বারবার গভীর আস্থা ও ভালোবাসায়রাসূলের (সা.) যোগ্য উত্তরসূরি ও মাওলা ইমাম আলী (আ.):
বায়তুন নূর জামে মসজিদের খতিব এবং খলিফা, প্রখ্যাত শায়েখ মাওলানা মান্জুরুল আহমাদ তাঁর মূল্যবান বক্তব্যে পবিত্র আহলে বাইতের মর্যাদা ও ইমাম আলী (আ.)-এর অনন্য অবস্থান তুলে ধরে বলেন, “মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) স্বয়ং ইমাম আলী (আ.)-কে তাঁর ‘ওয়াসি’ বা প্রতিনিধি ও আত্মিক উত্তরসূরি বানিয়ে দিয়ে গেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেছেন—’আমার পর আর কোনো নবী নেই। কিন্তু হে আলী, আমার সাথে তোমার সম্পর্ক ঠিক তেমন, যেমন মূসা (আ.)-এর নিকট হারুন (আ.)-এর সম্পর্ক ছিল।’ নবী যদি উম্মতের জন্য আলোর দিশারী, পথপ্রদর্শক ও কাণ্ডারী হয়ে থাকেন, তবে ঠিক একই অর্থ ও মর্যাদা ইমাম আলী (আ.)-এর ক্ষেত্রে ‘মাওলা’ শব্দটির মাধ্যমেও প্রকাশ পায়। আমরা যদি ইসলামের ইতিহাসের দিকে তাকাই, তবে দেখতে পাই—যখনই নবী করীম (সা.)-এর কোনো বিশেষ প্রয়োজনে নিজের জায়গায় অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, তিনি বারবার গভীর আস্থা ও ভালোবাসায় মওলা আলী -কেই বেছে নিয়েছেন।

দক্ষিণাঞ্চলের সুপরিচিত ও প্রখ্যাত বক্তা মাওলানা নূরুল ইসলাম ফিরোজি বর্তমান বিশ্ব রাজনীতি ও মুসলিম উম্মাহর অভ্যন্তরীণ সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, “আমি আজ এটি স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, বর্তমান গোটা বিশ্বের বুকে মুসলমানদের শত্রুদের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান। এখন আর শিয়া-সুন্নি ভেদাভেদ কিংবা এসব নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেওয়ার সময় নয়; বরং পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে। আমরা মহান আল্লাহর দরবারে অন্তর থেকে দোয়া করি—বিশ্বের যেখানেই যারা আল্লাহর দ্বীন কায়েম করার জন্য এবং মুসলিম উম্মাহর স্বার্থে অক্লান্ত কাজ করে যাচ্ছেন, মহান আল্লাহ তাআলা তাদের শক্তি ও সামর্থ্য আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিন।”

গাদীর-ই-খুম ও ইসলাম পরিপূর্ণতার দিন: অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহিম খলিল রাজাভী তাঁর অত্যন্ত জ্ঞানগর্ভ বক্তব্যে বলেন, “আমাদের অবশ্যই পবিত্র আহলে বাইতের মহান আদর্শকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক ঘোষিত ‘মাওলা’ শব্দের প্রকৃত গভীরতা ও অর্থ অনুধাবনের জন্য সংশ্লিষ্ট হাদিসসমূহকে অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। বিদায় হজের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে প্রিয় নবী (সা.) উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে জিজ্ঞাসা করেছিলেন—’আমি কি তোমাদের জান বা নাফসের চেয়েও তোমাদের অধিক নিকটবর্তী ও অভিভাবক নই?’ উপস্থিত সকলে সমস্বরে উত্তর দিয়েছিলেন—’অবশ্যই, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাদের অভিভাবক।’ ঠিক তখনই আল্লাহর নির্দেশে রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করলেন—’অতএব, আমি যার মাওলা (অভিভাবক), এই আলীও তার মাওলা। আমি যার অভিভাবক, আলীও তার অভিভাবক।’ আর এই ঈদে গাদীর হচ্ছে মূলত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দ্বীন ইসলাম পরিপূর্ণতা লাভ করার ঐতিহাসিক ও মহাসম্মানিত দিন।”

ঐতিহাসিক স্বীকৃতি ও সত্য অনুসন্ধানের আহ্বান: অনুষ্ঠানের অন্যতম আলোচক হুজ্জাতুল ইসলাম ড. এম. এ. কাইউম তাঁর বক্তব্যে ইতিহাসের এক অকাট্য দলিল তুলে ধরে বলেন, “গাদীর-ই-খুমের ময়দানে আল্লাহর রাসূল (সা.) তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ সমাপ্ত করার পর, হযরত উমর স্বয়ং এগিয়ে এসে ইমাম আলী (আ.)-কে মোবারকবাদ ও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছিলেন—’হে আলী! আপনাকে অভিনন্দন। আজ থেকে আপনি আমার এবং সমস্ত মুমিন নর-নারীর অভিভাবক (মাওলা) হলেন।’ ইসলামের এই সুষ্পষ্ট ইতিহাস ও সত্যগুলোর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমাদের সকলেরই উচিত যেকোনো মন্তব্য করার আগে গভীর গবেষণা করা। বিশেষ করে আজকের  সমাজের কাছে আমার আকুল আহ্বান—আপনারা সত্যকে জানুন এবং এই সকল ঐতিহাসিক বিষয়ে আরও বেশি বেশি পড়াশোনা ও অধ্যয়ন করুন।”

উপস্থিত ওলামায়ে কেরাম ও সর্বস্তরের  জনতা বক্তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও দিকনির্দেশনা অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করেন এবং বিশ্ব মুসলিমের সুখ, সমৃদ্ধি ও ঐক্য কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Related posts

ঈদে গাদীর – ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও পটভূমি

আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার : নীরব সমাজ ধ্বংসের পথে

যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে উম্মাহ, ঐক্যের বন্ধন কতটা মজবুত?

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More