তাওয়াফের নামায সম্পকিত কিছু প্রশ্ন উওর

Macca Kabe

প্রশ্ন-৭৮: মকামের পেছনে যদি নারী ও পুরুষ পাশাপাশি নামায পড়ে তাহলে কি সঠিক হবে নাকি সঠিক হবে না?

উত্তর; কিঞ্চিৎ দূরত্ব এমনকি এক বিঘত পরিমাণ হলেও অথবা পুরুষ কিঞ্চিত নারীর চেয়ে সামনে এগিয়ে দাঁড়ালে অসুবিধা নেই।

প্রশ্ন-৭৯ : তাওয়াফের নামাযের জন্য অন্য কোনো ওয়াজিব নামাযের সাথে কি ইক্তিদা করতে পারবে?উত্তর : তাওয়াফের নামাযে জামাআত শরীয়তসম্মত কি-না জানা নেই।

প্রশ্ন-৮০। তাওয়াফের নামায ইচ্ছাকৃত কিম্বা ভুলক্রমে বর্জন করলে করণীয় কী? আর যদি হুকুমের প্রতি অজ্ঞতার কারণে বর্জন করে থাকে তাহলে তার হুকুম কী?

উত্তর : তাওয়াফের নামাযকে ইচ্ছাকৃত বর্জন করলে তা হজ্ব বাতিলের কারণ হয়। কিন্তু ভুলক্রমে অথবা হুকুমের প্রতি অজ্ঞতার কারণে বর্জন করলে এবং মক্কা থেকে দূরে চলে না গিয়ে থাকলে ও নামাযকে তার স্ব-স্থানে পড়তে তার কোনো কষ্ট না হয় তাহলে মসজিদুল হারামে ফিরে আসতে হবে এবং নামায পড়তে হবে। আর যদি মক্কা থেকে দূরে চলে গিয়ে থাকে তাহলে যেখানেই তার মনে পড়বে সেখানেই পড়ে নেবে।

প্রশ্ন-৮১ : তাওয়াফ ও তাওয়াফের নামাযের মধ্যে বিলম্ব করা কি জায়েজ? জামাআতের নামায অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে কর্তব্য কী?

উত্তর: ওয়াজিব হলো তাওয়াফের পর কোনো বিলম্ব ছাড়াই তাওয়াফের নামায সম্পন্ন করা। আর বিলম্ব গণ্য না হওয়া নির্ভর করে সাধারণ বিচারের ওপর, এ কারণে এটা অসম্ভব নয় যে, তাওয়াফ ও তার নামাযের মাঝে কয়েক মিনিটে প্রাত্যহিক নামায পড়া ক্ষতিকারক বিলম্ব বলে গণ্য হবে না।

প্রশ্ন-৮২ : ভিড়ের সময়ে কিম্বা ফজরের নামাজের জামাআত অনুষ্ঠানের সময় কর্মচারিরা বিশেষ করে নারীদেরকে মকামের পেছনে তাওয়াফের নামায পড়তে বাধা দেয়। লোকদেরকে তারা গালিগালাজ ও মারধরও করে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে হিজ্বর ও ইরাকী রোকনদ্বয়ের সংলগ্ন সীমানায় নামায পড়া কি যথেষ্ট হবে?

উত্তর: তাওয়াফের নামায মকামে ইবরাহীমের পেছনে পড়তে হবে। শর্ত হলো অন্যদের বিঘ্ন সৃষ্টি না করে। আর যদি ভিড় কিম্বা তাওয়াফকারীদের আধিক্যের কারণে মকামের নিকটে নামায পড়া সম্ভব না হয় তাহলে দূরবর্তী স্থানে নামায পড়া যাবে।

প্রশ্ন-৮৩ : অজ্ঞতাবশত তাওয়াফের নামায না পড়ার ক্ষেত্রে জাহেলে কাসের (অর্থাৎ যে অজ্ঞের অজ্ঞতার জন্য তার কোনো দোষ নেই) এবং জাহেলে মোকাসের (অর্থাৎ যে অজ্ঞের অজ্ঞতার জন্য সে নিজে দায়ী) এর মধ্যে কি কোনো পার্থক্য রয়েছে?

উত্তরঃ এই মাসআলায় জাহেলে কাসের এবং জাহেলে মোকাসসের এর হুকুম ভুলে যাওয়া ব্যক্তির হুকুমের সমান।

প্রশ্ন-৮৪: যদি সাঈ’র মাঝে বুঝতে পারে যে, তাওয়াফের নামায পড়েনি তাহলে তার কর্তব্য কী?

উত্তর : মনে পড়ার সময় সাঈকে ছেদ করতে হবে এবং দুই রাকআত নামায তার স্ব-স্থানে সম্পন্ন করতে হবে। অতঃপর ফিরে এসে সাঈ সম্পূর্ণ করবে।

প্রশ্ন-৮৫: বুঝসম্পন্ন একটি শিশুকে তার অভিভাবক সাঈ করার জন্য নিয়ে যায় যেমন সে (এক্কাগাড়ীতে) চড়ে আছে এবং ঘুমিয়ে আছে। এমতাবস্থায় সাঈর প্রারম্ভে তাকে কি নিয়্যতের জন্য ঘুম থেকে জাগাতে হবে? আর যদি শুরুতে জেগে থাকে ও মাঝপথে ঘুমিয়ে যায় তাহলে হুকুম কী?

উত্তর : সাঈর নিয়্যতের জন্য সূচনাতে এবং তা বলবৎ রাখার জন্য জেগে থাকতে হবে। এ কারণে মাঝপথেও ঘুমালে চলবে না। প্রশ্ন-৮৬: বর্তমানে সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী পথে একটি দ্বিতল হল রুম

নির্মাণ করা হয়েছে এমতাবস্থায় দ্বিতীয় তলায় সাঈ পালন করার হুকুম কী?

উত্তর: দ্বিতীয় তলায় সাঈ জায়েজ ও যথেষ্ট নয় যদি না হজ্বকারী নিশ্চিত হয় যে, দ্বিতীয় তলাটিও সাফা ও মারওয়ার পর্বতদ্বয়ের মাঝে অবস্থিত, তার ওপরে নয়।

প্রশ্ন-৮৭ঃ যদি শিশুকে ঘুমন্ত অবস্থায় তাওয়াফ অথবা সাঈ করার কিম্বা তাওয়াফ ও সাঈ’র কিছু অংশ ঘুমন্ত অবস্থায় হয় তাহলে হুকুম কী?

উত্তরঃ ছোট (অবুঝ) শিশুদের বেলায় আপত্তি নেই।

প্রশ্ন-৮৮: সাফা পাহাড়ের পাদদেশ যার উপরিভাগে পাথর আচ্ছাদিত করা হয়েছে, সেখানে থেকে কি সাঈ আরম্ভ করা এবং মারওয়া পাহাড়ের পাদদেশে গিয়ে যার উপরিভাগ পাথর আচ্ছাদিত করা হয়েছে, শেষ করা যায়?

উত্তর ; যদি নিশ্চিত বিশ্বাস পোষণ করে যে, এটা সাফা পাহাড়ের প্রারম্ভ এবং মারওয়ার পাহাড়ের প্রারম্ভ তাহলে অসুবিধা নেই।

প্রশ্ন-৮৯: যে ব্যক্তি ভুলক্রমে সাঈর কিয়দাংশ সম্পন্ন করেনি এবং পরবর্তীতে বুঝতে পারে সে কি প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে পারবে?

উত্তর: ওয়াজিব হলো যেটুকু বাদ গেছে সেটুকু স্বয়ং নিজেই পুনঃ আদায় করবে। আর যদি তা সম্পন্ন করা তার নিজের জন্য কষ্টকর হয়, যেমন সে যদি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করে থাকে, তাহলে প্রতিনিধি নিযুক্ত করবে।

প্রশ্ন-৯০: যে ব্যক্তি সাঈ ভুলে গেছে এবং ইহরাম থেকে বের হয়ে এসেছে এবং স্বীয় স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছে তার হুকুম কী?

উত্তর : ওয়াজিব হলো সে সাঈ’র কাযা আদায় করবে। তার সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো একটি গরু কাফফারা প্রদান করবে।

প্রশ্ন-৯১: যদি কেউ অজ্ঞতাবশত সাঈকে সাতবারের বেশি সম্পন্ন করে তাহলে তার হুকুম কী? আর যদি চৌদ্দবার সাঈ করে থাকে তাহেল কেমন?

উত্তর: তার সাঈ সঠিক।

প্রশ্ন-৯২ : সাঈর যে অংশটুকু গুটি গুটি পায়ে দৌড়ানো (হারওয়ালাহ) মুস্তাহাব রয়েছে তা যদি ভুলে যায় এবং সাধারণভাবেই চলে এবং হারওয়ালাহ’র জন্য ফিরে এসে পুনরায় হারওয়ালাহ করে তাহলে তার সাঈর হুকুম কী?

উত্তর: এখতিয়ার বা স্বাধীনতা থাকা অবস্থায় এ রকম করা যাবে না। তবে প্রশ্নের ক্ষেত্রে দৃশ্যত তার সাঈ সঠিক এবং কিছুই তার ওপর আরোপিত হবে না। যদিও এহতিয়াত হলো সাঈকে সম্পূর্ণ করে তা পুনঃ আদায় করা।

প্রশ্ন-৯৩: একটি শিশু যে মুফরাদা ওমরাহ বাবদ ইহরাম বাঁধা ছিল, সাঈ অবস্থায় কখনো সে দৌড়াচ্ছিল আবার কখনো পেছনে ফিরে আসছিল। আর এ অবস্থার মধ্য দিয়ে সে ওমরাহ’র আমলসমূহ শেষ করেছে। এখন তার কর্তব্য কী?

উত্তর: যদি সঠিক হওয়ার বিশ্বাসে তাকসীর সম্পন্ন হয়ে তাকে তাহলে শিশুটি ইহরাম থেকে বের হয়ে এসেছে। তার ওপর কোনো দায় নেই। যদিও এহতিয়াত হলো সাঈকে পুনঃআদায় করা।

(সূত্রঃ হজ্ব নির্দেশিকা, সংকলনেঃ মোহাম্মদ হুসেইন ফাল্লাহযাদেহ)

Related posts

হজ্ব

হজ্ব

হজ্ব

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More