মানব ইতিহাসে ‘স্বাধীনতা’ শব্দটি সবচেয়ে প্রিয় শব্দ বা প্রবাদ। তবে এই শব্দটি নানাবিধ অর্থে প্রচলিত হয়ে থাকে। যেমন, দর্শনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, আত্মগঠনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, দাসত্বের মোকাবেলায় স্বাধীনতা (জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে স্বাধীনতা) এবং চারিত্রিক গুণাবলী অর্জনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ইত্যাদি। আশুরার বিপ্লবী আদর্শের মধ্যেও সেরূপ স্বাধীনতার নানা দিক-নির্দেশনা পাওয়া যায়। এখানে তার কয়েকটি উল্লেখ করা যাক : আশুরা বিপ্লবের প্রধান শ্লোগান ‘স্বাধীনতা” আশুরা বিপ্লবের স্বাধীনতা ও এর চেতনামূলক শিক্ষা মূলতঃ নৈতিক স্বকীয়তার স্বাধীনতা সংশ্লিষ্ট। কিন্তু পাশাপাশি তা স্বাধীন ব্যক্তিত্ব ও পরাধীনতা থেকে মুক্তি অর্জনের শিক্ষাও দিয়ে থাকে। নিম্নোক্ত দৃষ্টান্তগুলোর প্রতি ১. আশুরার দিন ইমাম হোসাইন (আঃ) বলেন, “সম্মানের সাথে মৃত্যু অপমানের সাথে বেঁচে থাকার চেয়ে শ্রেয়।” ২. ইমাম হোসাইন (আঃ) প্রতিপক্ষ ও শত্রæসৈন্যদের উদ্দেশে বলেন, “যদি তোমাদের ধর্ম নাও থাকে এবং কিয়ামত দিবসের প্রতি বিশ্বাস নাও করো, তবে অন্ততঃপক্ষে তোমাদের দুনিয়ার ব্যাপারে তোমরা স্বাধীন হও। আর যদি আরব হয়ে থাক, তাহলে অন্ততঃপক্ষে তোমাদের পূর্ব-পুরুষদের আদব-কায়দা নিয়ম-রীতি অনুসরণ কর।” যদি কেউ কিয়ামতের প্রতি বিশ্বাস রাখে তাহলে সে কারণে তাকওয়ার অধিকারী হওয়ার চেষ্টা করে, অন্যের উপর যুলুম করে না। এমনকি যদি কেউ স্বাধীনচেতা হয় এবং পরাধীনতার শৃঙ্খল তার ঘাড়ে না থাকে তাহলেও সে অন্যের উপর যুলুম করতে পারে না এবং সে অন্যের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে। ইমাম হোসাইন (আঃ) তাঁর আসন্ন বিপদের সামনে দাঁড়িয়েও অপমানে হাতকড়া পরিত্যাগ করেন (যদি তিনি ইয়াজিদের বিরোধিতা না করতেন, তাহলে অনেক আয়েশী জীবনযাপন করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা পরিহার করেন। আশুরা বিপ্লবে ইমাম হোসাইন (আঃ) এর শ্লোগান ছিল, “অপমান আমাদের মানায় না।