মাসআলা (১৯) : যেসব ব্যক্তি তাকলীদ করে না কিংবা তাকলীদ করলেও সঠিকভাবে করে না, তাদের আমলসমূহ তখনরই সঠিক হবে যখন ১. এহতিয়াতের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়, ২. বাস্তবতা অনুযায়ী হয় ৩. অথবা যে মুজতাহিদের তাকলীদ করা তাদের কর্তব্য, তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী হয়।
মারজায়ে তাকলীদ এর যোগ্যতার শর্তাবলী
মাসআলা (২০) : এমন ব্যক্তির তাকলীদ করতে হবে যাঁর মধ্যে নি¤েœাক্ত যোগ্যতার শর্তাবলী বিদ্যমান:
প্রথম শর্ত : পুরুষ হতে হবে।
দ্বিতীয় শর্ত : সাবালক হতে হবে।
তৃতীয় শর্ত : সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হতে হবে।
চতুর্থ শর্ত : ১২ ইমামী শিয়া হতে হবে।
পঞ্চম শর্ত : পিতামাতার বৈধ সন্তান হতে হবে।
ষষ্ঠ শর্ত : জীবিত থাকতে হবে (এহতিয়াতে ওয়াজিব অনুসারে)।
সপ্তম শর্ত : ন্যায়পরায়ণ হতে হবে।
মাসআলা (২১) : ন্যায়পরায়ণতা বলতে উদ্দেশ্য, এমন এক আত্মিক অবস্থার অধিকারী হয়ে চলা যা একজন খোদাভীরু মানুষকে শরীয়তে যা ফরয করা হয়েছে তা তরক করা অথবা যা হারাম করা হয়েছে তা আঞ্জাম দেওয়া হতে বিরত রাখবে।
মাসআলা (২২) : ন্যায়পরায়ণ সেই ব্যক্তিকেই বলা হবে যে ন্যায়বিচারের অধিকারী হবে। অন্যকথায়, তার পরহেজগারিতা এমন মাত্রায় উপনীত হবে যে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো পাপকাজে লিপ্ত হবে না। (কোন ফরয তরক করাই হোক আর কোনো হারাম আঞ্জাম দেওয়াই হোক)।
মাসআলা (২৩) : ন্যায়পরায়ণতা প্রতিপন্ন হওয়ার জন্য বাহ্যিক সুনামই যথেষ্ট।
অষ্টম শর্ত : যেহেতু ফতোয়ার মারজায়িত্বের পদমর্যাদার গুরুত্ব ও স্পর্শকাতরতা অত্যধিক, সে কারণে এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো বেপরোয়া নফসের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সক্ষমতা থাকতে হবে এবং দুনিয়ার প্রতি কোনো মোহ থাকবে না।
নবম শর্ত : মুজতাহিদ হতে হবে।
মাসআলা (২৪) : এক দৃষ্টিতে ইজতিহাদ দুই প্রকারের :
এক. সর্বাঙ্গীন ইজতিহাদ : সেই ইজতিহাদকে সর্বাঙ্গীন ইজতিহাদ বলা হয় যখন একজন মুজতাহিদ ফিকাহর যাবতীয় অধ্যায়ে ফতোয়া ও মতামত প্রদানের সক্ষমতা রাখেন। এরূপ মুজতাহিদকে ‘মুজতাহিদে মুতলাক’ বলা হয়।
দুই. খÐিত ইজতিহাদ : সেই ইজতিহাদকে খÐিত ইজতিহাদ বলা হয় যখন একজন মুজতাহিদ ফিকাহর কোনো কোনো অধ্যায়ে (যেমন : নামাজ ও রোজা) ফতোয়া ও মতামত প্রদানের সক্ষমতা রাখেন। এরূপ মুজতাহিদকে ‘মুজতাহিদে মুতাজাযযি’ বলা হয়।
মাসআলা (২৫) : মুজতাহিদে মুতলাক’ এর ফতোয়া তাঁর নিজের জন্য হুজ্জাত এবং অন্যরাও তাঁকে তাকলীদ করতে পারবে। অনুরূপভাবে মুজতাহিদে মুতাজাযযি’র বেলায় একই কথা প্রযোজ্য। যদিও এহতিয়াতে মুস্তাহাব হলো মুজতাহিদে মুতাজাযযি’র তাকলীদ পরিত্যাগ করা।
দশম শর্ত : এতহতিয়াতে ওয়াজিবের ভিত্তিতে তাঁকে আ’লাম (সর্বাধিক জ্ঞানী) হতে হবে।
মাসআলা (২৬) : আ’লাম বলতে বুঝায় এমন ব্যক্তিকে, যিনি ধর্মীয় হুকুম বিধানসমূহ প্রতিপাদন করার ক্ষেত্রে অধিকতর সক্ষম। অন্যকথায়, তিনি এমন ব্যক্তি যিনি অপরাপর মারজাবৃন্দ অপেক্ষা খোদায়ী হুকুম বিধানকে নির্ণয় করতে অধিকতর সক্ষমতা রাখেন এবং যথাযথ প্রমাণাদি হতে শারয়ী হুকুম বিধানকে উত্তমরূপে প্রতিপাদন করতে পারেন। তদ্রƒপ নিজ যুগ যামানার অবস্থা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে ততটা বেশি অবগত থাকবেন যতটা অবগত থাকলে তাঁর আহকামের বিষয়াবলি নির্ণয় করা ও ফিকহী অভিমত ব্যক্ত করার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।
মাসআলা (২৭) : আ’লাম মুজতাহিদের তাকলীদ করার ভিত্তি বুদ্ধিবৃত্তিক এবং বুদ্ধির নির্দেশ।
মাসআলা (২৮) : এহতিয়াতে ওয়াজিব এর ভিত্তিতে আ’লাম ব্যক্তির তাকলীদ করা ঐসব মাসআলায় জরুরী যেগুলোতে আ’লামের ফতোয়া, গায়রে আ’লামের ফতোয়ার থেকে ভিন্ন হয়।
মাসআলা (২৯) : এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো নিছক আ’লামের মধ্যে যোগ্যতার শর্ত না থাকার সম্ভাবনার কারণে মতভিন্নতার মাসআলায় গায়রে আ’লামের তাকলীদ করা জায়েয নয়।
মাসআলা (৩০) : পূর্ণ যোগ্যতার শর্তসম্পন্ন মুজতাহিদের তাকলীদ করার ক্ষেত্রে তাঁকে মারজা’র পদে অধিষ্ঠিত থাকা কিংবা মাসআলা-মাসায়েল এর বই (রেসালাহ-ই-আমালিয়্যাহ)-র অধিকারী থাকতে হবে এমন কোনো শর্ত নেই। সুতরাং যদি মুকাল্লাফ ব্যক্তির নিকট প্রমাণিত হয় যে, একজন মুজতাহিদ, যিনি মারজা’র পদে অধিষ্ঠিত নন এবং মাসআলা-মাসায়েল এর কিতাবও তাঁর নেই, তবে তিনি পূর্ণ যোগ্যতার শর্তসম্পন্ন, তাহলে তাঁকে তাকলীদ করতে পারবে।
মাসআলা (৩১) : পূর্ণ যোগ্যতার শর্তসম্পন্ন মুজতাহিদের তাকলীদ করার ক্ষেত্রে এমন কোনো শর্ত নেই যে মুজতাহিদকে মুকাল্লাফ ব্যক্তির দেশের নাগরিক হতে হবে কিংবা তারই এলাকার বাসিন্দা হতে হবে।
মাসআলা (৩২) : ছেলে-মেয়েরা যখন নতুন তাকলীফের বয়সে উপনীত হয়, তখন যেহেতু তাদেরকে একজন মারজায়ে তাকলীদ নির্বাচন করতে হয়, আবার তাকলীদের ব্যাপারটা বুঝা কঠিন হওয়ায় এক্ষেত্রে তারা একা একা স্বীয় শারয়ী কর্তব্য নির্ণয় করতে সক্ষম হয় না, একারণে পিতামাতাদের উচিত এসময়ে তাদেরকে যথাযথ দিক-নির্দেশনা প্রদান করা।