মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে মানুষকে দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছেঃ তোমার পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব।( সুরা মুমিন-৬০ ) মহান আল্লাহ মানুষকে দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন তিনি তা কবুল করবেন। সুতরাং সবার জন্য অত্যাবশ্যকীয় কর্তব্য হল তার ধর্মীয় এবং দুনিয়ার সকল চাহিদার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা। দোয়ার বহু ফজিলত, গুরুত্ব এবং প্রভাব রয়েছে যার কিছু নিম্নে উল্লেখ করা হলঃ
১। দোয়া আল্লাহ এবং বান্দার মধ্যে সম্পর্কের মাধ্যম। বান্দা দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে তার গোনাহ মাফের জন্য তওবা করে এবং ক্ষমা চায়। আর দোয়া হচ্ছে আল্লাহর রহমতের দরজাসমূহের মধ্যে একটি দরজা। কেননা আল্লাহ তার বান্দার প্রতি অতি দয়ালু ও ক্ষমাশীল। ইরশাদ হচ্ছেঃ তারা কি অবহিত নয় যে, আল্লাহ তার বান্দাদের তওবা কবুল করেন, আর তিনিই সদকা গ্রহণ করেন এবং তিনি তওবা কবুলকারী পরম দয়ালু।( সুরা তওবা-১০৪ )
২। দোয়া মানুষের আধ্যাত্মিকতা ও আন্তরিকতাকে বৃদ্ধি করে দেয়। দোয়া মানুষকে আত্মশুদ্ধি এবং আধ্যাত্মিকতার পথে পরিচালিত করে। বিশেষকরে ইমামদের থেকে বর্ণিত দোয়ার মধ্যে অনেক মর্মার্থ লুক্কায়িত থাকে যার প্রতি দৃষ্টিপাত করলে মানুষ পূর্ণতায় পৌঁছাতে পারে। যেমন: দোয়া কুমাইল, দোয়া নুদবা ইত্যাদি।
৩। দোয়ার মাধ্যমে মানুষ তার দুনিয়া ও আখিরাতের সকলকিছু চাইতে পারে।
যেভাবে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেনঃ আমার বান্দারা যখন আমার সম্পর্কে আপনার কাছে প্রশ্ন করে, তখন বলে দিন আমি তো কাছেই রয়েছি। আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে তখন আমি তার আহ্বানে সাড়া দেই। সুতরাং তারাও আমার ডাকে সাড়া দিক এবং আমাতে বিশ্বাস স্থাপন করুক, যাতে তারা সঠিক পথে চলতে পারে। আর পূর্ণতা লাভ করে।(সূরা বাকারা-১৮৬) মহান আল্লাহ নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, যারা নিষ্ঠা এবং বিশ্বাসের সাথে আল্লাহর কাছে দোয়া চাইবে আল্লাহ তা কবুল করবেন। সুতরাং মু’মিনের দায়িত্ব হল আল্লাহর কাছে নিজের দুনিয়া এবং আখিরাতের সকল কিছু প্রার্থনা করা।
৪। দোয়ার মাধ্যমে মানুষের অন্তর নুরানি হয় এবং ভাষা ও অন্তর পবিত্র হয়ে যায়। তার চিন্তা চেতনা সুস্থ ও সুন্দর হয়। আর এর মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর সাথে কথা বলার আদব-কায়দা এবং ভদ্রতা শিখতে পারে।
৫। ইমামদের থেকে বর্ণিত দোয়া এতটাই গভীর ও আধ্যাত্মিক হয়ে থাকে যা নিয়ন্বিত পাঠ করতে পারলে সেই আধ্যাত্মিকতা মানুষের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।
৬। দোয়া হচ্ছে আধ্যাত্মিকতা অর্জনের মাধ্যম। এর মাধ্যমে মানুষ নফসের সকল খারাপ চাহিদা থেকে মুক্ত থাকে। অনুরূপভাবে তা মানুষকে ভাল নৈতিকতা ও আদব-কায়দা শিখতে সাহায্য করে।