নাফসের (আত্মা) অধিকার তোমার উপর তোমার নাফসের (আত্মা) অধিকার হচ্ছে এই যে, সেটিকে তুমি আল্লাহর অনুসরণের পথে ব্যবহার করবে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে:”শপথ সূর্যের ও তার কিরণের। শপথ চন্দ্রের যখন তা সূর্যের পশ্চাতে আসে। শপথ দিবসের যখন সে সূর্যকে প্রখরভাবে প্রকাশ করে। শপথ রাত্রির যখন সে সূর্যকে আচ্ছাদিত করে। শপথ আকাশের এবং যিনি তা নির্মাণ করেছেন তাঁর। শপথ পৃথিবীর এবং যিনি তা বিস্তৃত করেছেন তাঁর। শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন তাঁর। অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন। যে নিজেকে কুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয় এবং যে নিজেকে কলুষিত করে, সেই ব্যর্থ-মনোরথ হয়।'” (সূরা: আশ শামস ১-১০ম আয়াত।)
হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণহৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ। তারা আল্লাহ্ তায়ালা যা আদেশ করেন তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয় তাই করে।
(সূরা: তাহরীম, ৬ষ্ঠ আয়াত।)
বলুন! তিনি পরম করুণাময়, আমরা তাতে বিশ্বাস রাখি এবং তাঁরই উপর ভরসা করি। সত্বরই তোমরা জানতে পারবে, কে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় আছে।”
( সূরা: মুল্ক, ২৯তম আয়াত।)
পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার মহান মর্যাদাকে ভয় করেছে এবং নিজের নাফসের অসৎ কামনাসমূহ হতে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে, তার ঠিকানা হবে জান্নাত।””
(সূরা: নাযেআত, ৪০-৪১তম আয়াত।)
হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: হযরত ইমাম আলী (আ.) স্বীয় পুত্রের উদ্দেশ্যে বলেন: হে আমার প্রাণপ্রিয় পুত্র! নিজেকে তোমার ও অন্যের মধ্যে যে কোনো বিষয়ে মানদণ্ড মনে করা। সুতরাং যা কিছু তুমি নিজের জন্যে পছন্দ কর তা অন্যের জন্যেও পছন্দ কর, আর যা কিছু তোমার অপছন্দ হয় তা তুমি অন্যের জন্যেও অপছন্দনীয় জন কর! কারো উপর অত্যাচার করো না যেভাবে তুমি চাও না যে, তোমার উপর কেউ অত্যাচার করুক। অন্যের প্রতি কল্যাণ কর যেমন তুমি পছন্দ কর, অন্য ব্যক্তি তোমার প্রতি কল্যাণ করুক। অন্যের থেকে যে বিষয় মন্দ মনে কর তা নিজের থেকেও মন্দ গণ্য কর! অন্যের প্রতি যা করলে তারা তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হওয়া উচিত মনে করে, অন্যরা তোমার প্রতি তা করলে তুমি তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হও! আর যা কিছু জান না তা বলো না, যদিও তোমার জানার পরিমাণ খুবই অল্প হয়। যা কিছু তোমার সম্পর্কে বলাকে তুমি পছন্দ কর না, অন্যের সম্পর্কে তা বল না!
তিনি (আ.) আরও বলেন: তোমার শত্রুদের মধ্যে সবচেয়ে বড় শত্রু তোমার নাফস (যা তোমাকে মনুষ্যত্বের স্তর হতে নামিয়ে আল্লাহর ক্রোধের শিকার করায়) যা তোমার দুই পাঁজরের মাঝখানে অবস্থিত।
তিনি (আ.) বলেন: সবচেয়ে বড় অজ্ঞতা হচ্ছে মানুষের নিজের (নাফসের) ব্যাপারে তার অজ্ঞ থাকা।
তিনি (আ.) বলেন: মানুষের নিজের আত্মপরিচয় লাভ করা সবচেয়ে বড় হিকমত।
সূত্র : ( ইমাম সাজ্জাদ (আ.)-এর রিসালাতুল হুকুক (অধিকার বিষয়ক সন্দর্ভ )