পবিত্র মহররম উপলক্ষে আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী ট্রাষ্ট-এর উদ্যোগে শোক মজলিস অনুষ্ঠিত

পবিত্র মহররম উপলক্ষে আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী ট্রাষ্ট আয়োজিত ১০ দিন ব্যাপী শোক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রায় চৌদ্দশ’ বছর আগের এই দিনে ইরাকের কারবালায় বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (স.)’র প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর ৭২ জন সঙ্গী-সাথী সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
১লা হতে ১০ই মহররম পর্যন্ত শোক আলোচনা করবেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী।
গত ৭ মহররম ২২ জুন ২০২৬ (সোমবার) বাদ মাগরিব এ মজলিসের সূচনা হয় মার্সিয়া মাধ্যমে।
৭ মহররমে শোক মজলিসে বক্তব্য রাখেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী। তিনি বলেন, রাসুল (সা.)-এর জীবনদশায় ইসলাম পৃথক হয়নি, রাসুল (সা.) ওফাতের পর ইসলাম পৃথক হয়েছে। কারবালাকে কেন্দ্র করে মুসলমানেরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। প্রত্যেক জমি কারবালা এবং প্রত্যেক দিনই আশুরা তাই জুলুমবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার নামই হচ্ছে কারবালা। ইমাম হোসাইন (আ.) এর রক্তের বিনিময়ে ইসলাম বেচে গেল বলে রাসুলুল্লাহ (সাা.) বলেছেন, আমি হোসাইন থেকে আর আমি হোসাইন থেকে।
হোসাইন (আ.)কে মূল্যায়ন করা ১ লক্ষ ২৪ হাজার পয়গাম্বারকে মূল্যায়ন করা।
আলী আসগরের শাহাদাত কারবালার যুদ্ধকে কেবল দুটি রাজনৈতিক দলের ক্ষমতার লড়াই হিসেবে দেখার সব পথ বন্ধ করে দেয়। এটি প্রমাণ করে যে, একপক্ষে ইয়াজিদ বাহিনী ছিল চরম অধর্ম ও নিষ্ঠুরতা, আর অন্যপক্ষে হোসাইন (আ.) এর বাহিনী ছিল পরম সত্য ও আত্মত্যাগ। ইমাম সন্তানকে নিজের কোলে এভাবে শহীদ হতে দেখেও ইমাম হোসাইন (আ.) আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি আলী আসগরের রক্ত নিজের মুখে মাখেন। ইমাম হোসাইন (আ.) বলেন, আমার ওপর এই মুসিবত সহ্য করা সহজ, কারণ আল্লাহ এটি দেখছেন।
আলী আসগরের রক্ত ইয়াজিদ বাহিনীর তথাকথিত ইসলামী খেলাফতের মুখোশ চিরতরে খুলে দেয়। একজন ৬ মাসের শিশুকে হত্যা করার পর তারা বিশ^বাসীর কাছে আর কোনো অজুহাত বা বৈধতা জাহির করার সুযোগ পায়নি। এটি উমাইয়া রাজবংশের পতনের বীজ বপন করেছিল।
তিনি আরও বলেন, আজ বিশ^জুড়ে শিয়া-সুন্নি নির্বিশেষে সমস্ত মুসলমান তো বটেই, এমনকি অমুসলিম মানবতার কাছেও আলী আসগর (আ.) নিপীড়নের সবচেয়ে বড় প্রতীক। প্রতি বছর মহররম মাসে ইরানে আলী আসগর দিবস বা শিশু দিবস পালন করা হয়, যেখানে মায়েরা তাদের সন্তানদের নিয়ে সমবেত হন এবং এই নিষ্পাপ শাহাদাতকে স্মরণ করেন।
এই শোকসভার আয়োজনে মুসলমানদের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণে হযরত আলী আসগর (আ.)-এর শাহাদাত কেবল কারবালার বিয়োগান্তক ঘটনাই নয়, এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক নীরব অথচ ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিবাদ বহিঃপ্রকাশ।
মজলিসের শেষে ইমামবাড়ীর বাইরে মিছিল বিভিন্ন স্থানে প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ইমামবাড়ীতে এসে মাতম, যিয়ারতে আশুরা, দোয়া-এ-ইমাম জামান (আ.) এবং তাবারুক বিতরণের মাধ্যমে শোক অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

Related posts

সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ-উয-উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী (রহ.) শাহাদাত স্মরণে শোক আলোচনা সভা

গায়েবানা জানাজা ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে খুলনায় বিশিষ্ট শিয়া ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত আলেমদের গোলটেবিল বৈঠক

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More