পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহ
সূরা সাফ্ফের শুরুতে বর্ণিত হয়েছে,
“আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সমস্তই আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে।” এখানে আল্লাহর সমীপে সৃষ্টিজগতের তাসবিহ ঘোষণার বিষয়টি ইশারা করা হয়েছে। অতঃপর আয়াতের শেষাংশে বিশেষ গুরুত্বারোপের সাথে এ বাক্যটি উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থাৎ তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়। এখানে ‘আল্ আযীয’ তথা পরাক্রমশালী শব্দের অর্থ কি? এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহ সব কিছুর উপর কর্তৃত্বশীল (সব কিছুই তার আয়ত্তাধীন) এবং পরাভূত হন না। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, অর্থাৎ সমুদয় মর্যাদা তো আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মু’মিনদের জন্য। ( সূরা মুনাফিকূন : ৮ )
এরপর বলা হয়েছে ‘আল হাকীম’ তথা আল্লাহ হলেন প্রজ্ঞাময়। প্রজ্ঞাবান বলতে কি বুঝায়? প্রজ্ঞাবান হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যে হিক্মত (প্রজ্ঞা) ও দৃঢ়তার সাথে কার্যাদি সম্পন্ন করে। সে-ই হাকীম হিসেবে বিবেচিত; যিনি যখন কোন কাজ সম্পন্ন করেন তখন অত্যন্ত সুনিপুণ, সূ², সুদৃঢ় এবং হিকমতপূর্ণভাবে সম্পন্ন করেন। যে কাজ সব ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতির উর্ধ্বে এবং কখনও বিনষ্ট ও ধ্বংস হয় না। মুফাসসিরগণ হাকীমকে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। সুতরাং আল্লাহ তায়ালা এ বিশাল সৃষ্টিজগতের যে বিন্যাস ও সমন্বয় সাধন করেছেন; তা আদৌ বিনষ্ট ও ধ্বংসযোগ্য নয়। সৃষ্টিজগতের সব কিছুই আল্লাহর ইচ্ছাধীন এবং তিনিই সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী। আল কুরআনের ভাষায়,
“এবং আল্লাহ নিজ কর্ম সম্পাদনে অপ্রতিহত।” এমন বর্ণনা পবিত্র কুরআনের আরও অনেক আয়াতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখিত হয়েছে। ( সূরা ইউসুফ : ২১ )