হাওয়ারীগণের বিজয় সম্পর্কে দু’টি মত
হযরত ঈসার (আ.) হাওয়ারীগণ ও খ্রিষ্টধর্মে ঈমান আনয়নকারীরা তদানীন্তন কাফিরদের বিরুদ্ধে কখন বিজয় অর্জন করেছিলেন সে সম্পর্কে মুফাসসিরগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে| এক্ষেত্রে একটি মত হচ্ছে যা আমরা ইতোপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, হযরত ঈসা (আ.) লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যাওয়ার দুই থেকে তিন শত বছর অতিবাহিত হওয়ার পর রোমান সাম্রাজ্যের প্রথম রাজা কনস্টান্টিন খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন| কাজেই খ্রিষ্টধর্মের প্রতি রোমান সম্রাটের ঈমান আনয়নের পর হযরত ঈসা (আ.) তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন এবং খ্রিষ্টধর্মের অনুসারীদের প্রতি যারা অন্যায় ও অবিচার করত তাদের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়| একই সাথে রোমান সাম্রাজ্যের আওতাধীন অঞ্চলসমূহ, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, জর্দান ও পার্শ্ববর্তী দেশসমূহে খ্রিষ্টধর্মের প্রচার ও প্রসার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং লোকেরা দলে দলে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হতে থাকে|
পক্ষান্তরে, এক্ষেত্রে অপর একটি মত হচ্ছে- হযরত ঈসার (আ.) হাওয়ারীগণ ও তাদের অনুসারীরা শত্রুদের বিরুদ্ধে তখন বিজয় অর্জন করেছিল যখন ইসলামের অভ্যুদয় ঘটেছিল| অর্থাৎ হযরত মুহাম্মাদ (সা.) কর্তৃক যখন আরবের বুকে তওহীদের পতাকা উত্থিত হয়েছিল, তখন স্বাভাবিকভাবেই হযরত ঈসার (আ.) আনীত ধর্মও পুনর্জীবন লাভ করে| কেননা হযরত ঈসা (আ.) তো রাসূলুল্লাহর (সা.) দিকনির্দেশনাই মানুষের সম্মুখে তুলে ধরতেন| হযরত ঈসা (আ.) যে ঐশ্বরিক শিক্ষা-দীক্ষার বর্ণনা করতেন হযরত মুহাম্মাদ (সা.) তো মানুষকে সেগুলোরই শিক্ষা দিতেন| সুতরাং যখন হযরত মুহাম্মাদ (সা.) তওহীদের বাণী নিয়ে আবির্ভূত হন, তখন সমস্ত শিরক ও কুফরের পতন ঘটে| এমনকি যারা হযরত ঈসার (আ.) ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও শিরকের জালে আটকা পড়ে দ্বিত্ববাদ ও ত্রিত্ববাদে বিশ্বাসী হয়েছিল, তারাও তওহীদের বিজয়ের স্রোতধারায় হারিয়ে যায়| কাজেই বস্তুতপক্ষে হযরত মুহাম্মাদের (সা.) যুগে যখন বিশ্বব্যাপী তওহীদের একচ্ছত্র বিজয় ঘটে, তখন হযরত ঈসার (আ.) তওহীদ ভিত্তিক ধর্মেরও চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়|