বিসমিল্লাহর মাধ্যমে খাবারে বরকত

খাদ্যের বরকত : হযরত আলী (আ.) থেকে বর্ণিত –

“اذا سمّى الله على اوّل طعام و حمد على آخره وغسلت الايدى قبله وبعده وكثرت الايدى عليه و كان من الحلال فقد تمّت بركته”

যখন খাবারের প্রথমে আল্লাহর নাম নেয়া হয় এবং শেষে প্রশংসা করা হয়,পূর্বে এবং পরে হস্ত দ্বয় ধৌত করা হয়,খাবারের দিকে সম্প্রসারিত হাত সমূহে বরকত দান করা হয় এবং হালাল পন্থায় খাদ্য সরবরাহ করা হয় আর বরকত সমূহ পরিপূর্ণ করা হয়।(মুসতাদরাকে ওয়াসায়েল,মুহাদ্দেস নুরী,১৬তম খণ্ড,পৃ.-২৩২,প্রকাশনায় মুয়াস্সাসে আলে বাইত,কুম;বিহারুল আনওয়ার,আল্লামা মাজলিসি,৬৩ তম খণ্ড,পৃ.-৩৮৩,প্রকাশনায় আল ওফা,বৈরুত,লেবানন।)

খাদ্যের হিসাব : আলী (আ.) বলেছেন –

“من ذكر اسم الله على الطعام لم يسأل عن نعيم ذالك الطّعام أبدا “

যে খাবারের সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে,সেই খাবারের নেয়ামত সম্পর্কে কখনো সে জিজ্ঞাসীত হবে না।( ওয়াসায়েলুস শীয়া,হুর আমেলী,২৪ তম খণ্ড,পৃ.-৩৪৯,প্রকাশনায় মুয়াস্সাসে আলে বাইত,কুম;আমালি শেখ সাদুক,পৃ.-২৯৮,প্রকাশনায় কিতাব খনে ইসলামি;আল মোহসেন, আহমাদ বিন খালেদ বারকি,২য়খণ্ড,পৃ.-৪৩৪,প্রকাশনায় দারুল কুতুবে ইসলাম কুম,ইরান। )

খাবারের পূর্বে এবং পরে : নবী করিম (সা.) বলেছেন: এমন কোন ব্যক্তি নেই যে তার পরিবারবর্গকে একত্রিত করে দস্তরখানা বিছিয়ে দেয় এবং তাদেরকে খাওয়ার প্রথমে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”এবং শেষে আল-হামদুলিল্লাহ”বলে দস্তরখানা উঠিয়ে ফেলে,অথচ আল্লাহর মাগফেরাতের (ক্ষমার) অন্তর্ভূক্ত হয় না।

আলী (আ.) বলেছেন : যখন খাবার খাবে প্রথমে বিসমিল্লাহ এবং শেষে আল্লাহর শুকরিয়া করবে।(  মুসতাদরাকে ওয়াসায়েল,মুহাদ্দেস নুরী,১৬তম খণ্ড,পৃ.-২৩২,প্রকাশনায় মুয়াস্সাসে আলে বাইত,কুম )

দস্তরখানায় শয়তানের উপস্থিতি :

“سئل النّبىّ (ص) هل ياكل الشيطان مع اللانسان ؟ فقال: نعم! كلّ مائدة لم يذكر فيها بسم الله عليها ياكل معه الشيطان و يرفع الله البركة عنها؛”

 নবী (সা.) কে জিজ্ঞেস করা হল শয়তানও কি মানুষের সাথে খাবার খায় ?

উত্তরে বললেন- হ্যাঁ,যে দস্তরখানায় আল্লাহর নাম স্মরণ করা হয় না সেখানে শয়তান উপস্থিত হয় এবং মানুষের সাথে খায় আর আল্লাহ তা আলা সে দস্তরখানা থেকে বরকত উঠিয়ে নেন।( বিহারুল আনওয়ার,আল্লামা মাজলিসি,৮৯তম খণ্ড,পৃ.-২৫৮,আল ওফা,বৈরুত, লেবানন )

বিসমিল্লাহ   খাওয়ার সময় : নবী (সা.) ইমাম আলী (আ.) কে বললেন

  الله و اذا فرغت فقل الحمد لله؛ ياعلىّ اذا اكلت فقل بسم”

 হে আলী যখন তুমি খাও বল বিসমিল্লাহ”এবং যখন খাওয়া শেষ কর বল আল হামদুলিল্লাহ ।  ( ওয়াসায়েলুস শীয়া,হুর আমেলী,২৪তম খণ্ড,পৃ.-৩৫৫,প্রকাশনায় মুয়াস্সাসে আলে বাইত,কুম;বিহারুল আনওয়ার,আল্লামা মাজলিসি,৬৩তম খণ্ড,পৃ.-৩৭১,প্রকাশনায় আল ওফা,বৈরুত,লেবানন )

বিসমিল্লাহ প্রতিটি কাজের শুরুতে : জনৈক্য ব্যক্তি ইমাম সাদেক (আ.) এর নিকট আরজ করল : আমি খেতে যন্ত্রণা অনুভব করি এবং কষ্ট পাই।

ইমাম সাদেক (আ.) বললেন:  কেন বিসমিল্লাহ  বল না ?

ঐ ব্যক্তি বলল : কেন ? বিসমিল্লাহ বলি তারপরও কষ্ট পাই।

 ইমাম বললেন : যখন কথা বল তখনও কি বিসমিল্লাহ  বল ?

 ঐ ব্যক্তি বলল  : না ।

 ইমাম বললেন : এই কারণে যন্ত্রনা অনুভব কর এবং কষ্ট পাও। অত:পর বললেন- যখনই কথা বলা থেকে বিরত হবে এবং খাওয়া শুরু করবে বিসমিল্লাহ বলবে। উক্ত ইমাম থেকে বর্ণিত অন্য এক রেওয়ায়েতে এসেছে,যদি খাবারের কয়েকটা পাত্র হয় তবে প্রতিটি পাত্রের জন্য একবার বিসমিল্লাহ  বলবে।

 রাবী জিজ্ঞেস করল যদি ভূলে যাই তাহলে কি করব ?

ইমাম বললেন : বল “بسم الله علي اوله وآخره ”  অর্থাৎ শুরুতে এবং শেষে বিসমিল্লাহ

Related posts

পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য: জান্নাত লাভের সহজ পথ

শবে কদরের ফজিলত, মর্যাদা ও প্রাসঙ্গিক কথা

ইমাম হাসান মুজতাবা (আ.)-এর অমিয় বাণী

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More