রসুলের (সা.) আগমন ও সামাজিক সেবা

বিভিন্ন প্রমাণপঞ্জির সাক্ষ্য অনুসারে তৎকালীন আরব উপদ্বীপের সামাজিক অবস্থা কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভালো থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যায় জর্জরিত ছিল। তারা গোত্রীয় জীবনযাপন করত, কিন্তু এক গোত্র অপর গোত্রের অর্থসম্পদ লুণ্ঠনসহ পরস্পরের সঙ্গে মারামারি-হানাহানিতে লিপ্ত থাকত। তৎকালীন ইয়াসরিবের ‘আউস’ ও ‘খাযরাজ’ গোত্রদ্বয়ের দ্বন্দ্ব দীর্ঘকাল হতে চলে আসছিল। এ দ্বন্দ্বের কারণে তাদের উভয় গোত্রকেই বহু ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয়েছিল। তাদের এক গোত্র অপর গোত্রকে পরাজিত করে তাদের উপর নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার বাসনায়ও দ্বন্দ্বে লিপ্ত হত। বর্ণিত আছে যে, আরবে বার্ষিক এক ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় বিজিত পক্ষ জয়ী পক্ষের জয়কে মেনে নিতে না পেরে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয় এবং এ দ্বন্দ্ব দীর্ঘ চল্লিশ বছর যাবৎ অব্যাহত থাকে। আরবদের উপরোক্ত আচার-ব্যবহার যে কোনো বিবেকবান ব্যক্তিকেই ব্যথিত করে তুলবে, আর আখেরী নবী ও আশরাফুল মাখলুকাতের কথা তো বলাই বাহুল্য। কাজেই তিনি সেই সমাজে আগমন করে, তাদের সামাজিক অবস্থা দেখে আন্তরিকভাবে ব্যথিত হয়ে উঠতেন এবং এর সমাধানের পথ খুঁজতেন। আর এই গঠনমূলক চিন্তাভাবনাকেই ফলপ্রসূ করার উদ্দেশ্যে, স্বীয় জীবনের যৌবনকালে, সেই সমাজের সমমনা কতিপয় যুবককে নিয়ে ‘হিলফুল ফুজুল’ নামক একটি সংগঠনের গোড়াপত্তন করেন। এ সংগঠনের কাজগুলোর মধ্যে ছিল: শোষিতের পক্ষ নিয়ে শোষকের অত্যাচারের লাগাম টেনে ধরা। মজুরের ন্যায্য মজুরী আদায় করে দেয়া। অত্যাচারিতকে সান্ত্বনাদানের পাশাপাশি অত্যাচারীকে, স্বীয় আচরণ সংশোধনের নিমিত্তে নীতিবাক্য ও আশার বাণী শোনানো ইত্যাদি। আর এতে তিনি সমাজের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হন। ফলে সেই সমাজের শত্রু-বন্ধু সকলেই তাঁকে ‘আল্ আমীন’ বা বিশ্ব বিশ্বস্ত ও পরম বন্ধু আখ্যা দেয়। আর এটি প্রাথমিকভাবে কতিপয় লোক তথা যুবকের সমবেত চেষ্টা ও ঐক্যের ফলেই সম্ভব হয়।
সমাজের সামাজিক বিভিন্ন রোগ-ব্যধির আরও উন্নততর ও সুচিকিৎসা করার বাসনা তাঁকে অস্থির করে তুলে। তিনি নিরিবিলিতে অধিক চিন্তাভাবনা করার জন্যে আবাসগৃহ হতে কিছুটা দূরে অবস্থিত এক পাহাড়ের উপর এক গুহা খুঁজে বের করেন যেটি ‘হেরা গুহা’ নামে খ্যাত। বিশেষ বিশেষ সময়ে সেখানে তিনি একাকী ধ্যানে মগ্ন হতেন। আর এভাবেই এক সময় যাবতীয় সমস্যার সমাধান দান কল্পে সেখানে ঐশী দূত হযরত জিবরাঈলে (আ.) আগমন ঘটে। শুরু হয় তাঁর জীবনের অপর পর্ব।

Related posts

রাসূলুল্লাহর (সা.) নিকট সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যক্তি

ফজর ১৫ অক্টোবর-২০২৬

জান্নাতে যাওয়ার পথ যেভাবে সুগম করে সদকা

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More