সততা সন্দেহ প্রবণতার অপনোদন ঘটায়

একজন সমাজ সংস্কারকের পরিবারের অসামজস্যতা তার সংস্কার কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব অথবা তার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে থাকে।

অবশ্য এরূপ পরিস্থিতি কখনও কখনও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং তারা উক্ত সমাজ সংস্কারকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। চাই এ সমাজ সংস্কারক কোন নবী (আঃ) অথবা ন্যায়বান ব্যক্তি হোক না কেন। কেননা, এ ধরনের সুযোগ সন্ধানী লোকেরা চেষ্টা করে এ অবস্থার নেতিবাচক দিককে তিল থেকে তাল বানিয়ে তা জনসম্মুখে এভাবে প্রচার করবে : এ ব্যক্তির আহ্বানে কোন সততা ও দৃঢ়তা নেই। বরং তার যাবতীয় কার্যক্রম ও আহ্বানের মূখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতা ও প্রাচুর্য করায়ত্ব করা। পবিত্র কোরআনে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যাবে ঃ নবী (আঃ)দের যুগের লোকেরা তাঁদেরকে অভিযুক্ত করত যে, তাঁরা নিজেদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মানুষদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। যেমনভাবে হযরত মুসা (আঃ) এবং ফেরাউনের ঘটনায় উল্লেখিত হয়েছে যে, ফেরাউনপন্থীরা এভাবে অভিযোগ তুলত : যদি মুসার আহ্বান সত্য হয়ে থাকে, তাহলে সে প্রথমে তার পরিবার- পরিজনদেরকে নিজের প্রতি ঈমান আনার দাওয়াত প্রদান করুক। আসলে তাগুত শাসকবর্গ ও তাদের দোসরদের এ ধরনের অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের মূল লক্ষ্য ছিল নবী (আঃ) ও ওলি-আওলিয়াগণের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ এবং তাদের তাবলিগী কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করা। অবশ্য মানুষ যদি প্রত্যক্ষ করে যে, কেউ লোকদেরকে সংশোধনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে অথচ দৃশ্যতঃ সে নিজেই উক্ত আহ্বানের উপর, আমল করছে না। তাহলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ তার সম্পর্কে এমন মন্তব্য করবে যে, যদি তার আহ্বানের মাঝে সততা থাকত তাহলে সে নিজেই প্রথমে আমল করত এবং তারপর অন্যদের প্রতি সংশোধনের আহ্বান জানাত । হ্যাঁ, এমন পরিস্থিতি সাধারণ মানুষদের উপর বিরুপ প্রভাব ফেলে থাকে। অবশ্য, আমি বিশ্বাস করি : যখন মানুষ দেখবে যে, কোন সমাজ সংস্কারক অত্যন্ত সততা ও দৃঢ়তার সাথে সমাজ সংশোধনে আত্মনিয়োগ করছে, তার কথা ও কাজের মাঝে পূর্ণাঙ্গ সঙ্গতি রয়েছে এবং তার কার্যক্রমে কোনরূপ পক্ষপাতিত্ব পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এমনকি সে নিজের বিচ্যুত সন্তানের প্রতিও বিন্দুমাত্র শৈথিল্য প্রদর্শন করছে না। তাহলে নিঃসন্দেহে মানুষ তার আহ্বানের সততা ও দৃঢ়তার প্রতি আস্থা স্থাপন করবে। যেমনভাবে রাসূলে খোদা (সাঃ)-এর চাচা আবু লাহাব তাঁর ইসলাম প্রচারকার্যে বিঘ্ন সৃষ্টির ব্যাপক অপচেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু তা কখনও ফলপ্রসূ হয় নি। কেননা, রাসূল (সাঃ)- এর মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব, তাবলীগী কার্যক্রমে তাঁর নজিরবিহীন সততা ও দৃঢ়তা এবং নিকটাত্মীয়দের হেদায়েতদানের লক্ষ্যে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা সকলের নিকট সুস্পষ্ট করেছে যে, কুরাইশ বংশের একাংশের গোমরাহ্ থাকার পেছনে তাঁর দায়িত্ব পালনে কোনরূপ শিথিলতা ছিল না। বরং তাদের অন্তরের কলুষতা ও গোঁড়ামী তাদেরকে হেদায়েতের অত্যুজ্জ্বল আলো হতে বঞ্চিত রেখেছে। যদি সমাজসংস্কারক ও পথপ্রদর্শকগণ সন্তানদের প্রতি তাদের আবেগ ভালবাসাকে পরিমিতমাত্রায় বজায় রাখেন এবং জনসাধারণের নিকট এ বিষয়টি সুপ্রমাণে সক্ষম হন যে, আবেগের বশবর্তী হয়ে সন্তানের যে কোন ত্রুটি-বিচ্যুতির বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দিবেন না; তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সকল ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা নিষ্ফল পর্যবসিত হবে।

Related posts

হযরত যায়নাব (সা.আ.): কারবালার বার্তাবাহক ও সত্যের অবিনাশী কণ্ঠস্বর

ইমাম হোসাইন (আ.)-এর চেহলাম: শোক থেকে জাগরণের পথে

কুরআন তিলাওয়াত: ঈমানের আলো ও আত্মার প্রশান্তির উৎস

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More