৬৫৮. তাওয়াফের নামায পড়ার পর সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাঈ করা (বা দৌড়ানো) ওয়াজিব।
৬৫৯. সাঈ বলতে বুঝায় সাফা পাহাড় থেকে মারওয়ার দিকে যাওয়া এরপর মারওয়া পাহাড় থেকে সাফা’র দিকে ফিরে আসা।
৬৬০. সাফা ও মারওার মধ্যে সাঈ সাত বার হতে হবে। একেক বারকে একেকটি শউত বা পাক বলা হয়। অর্থাৎ সাফা থেকে মারওয়ায় যাওয়া হলো এক পাক। আর মারওয়া থেকে সাফায় ফিরে আসাও আরেক পাক।
৬৬১. সাঈ প্রথমে সাফা থেকে আরম্ভ করা ওয়াজিব। আর তা সপ্তম পাকে মারওয়ায় গিয়ে সমাপ্ত হবে।
৬৬২. সতর্কতা হলো সাফার প্রথম অংশ থেকে আরম্ভ করা এবং সেখান থেকেই সাঈ শুরু করা। আর যদি পাহাড়ের ওপরে যায় এবং প্রচলিত পদ্ধতিতে সাঈ করে তাহলেই যথেষ্ট হবে।
৬৬৩. সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী দূরত্বে বাহনে চড়ে এবং খাটিয়ায় বসেও সাঈ করা জায়েজ। তা সক্ষম থাকা অবস্থায় হোক আর কোন কারণবশতই হোক। তবে পায়ে হাঁটাই উত্তম।
৬৬৪. সাঈর মধ্যে ছোট ও বড় অপবিত্রতা থেকে পবিত্র থাকা এবং লজ্জাস্থান ঢাকা শর্ত নয়। যদিও অধিকতর সতর্কতা হলো বড় অপবিত্রতা থেকে পবিত্র থাকা।
৬৬৫. সাঈকে তাওয়াফ ও তার নামাযের পরে সম্পন্ন করা ওয়াজিব। আর যদি ইচ্ছাকৃতভাবে সেগুলোর আগে সম্পন্ন করে ফেলে, তাহলে তাওয়াফ ও তার নামাযের পরে সাঈ পুনঃ আদায় করতে হবে।
৬৬৬. যদি ভুলে যাওয়ার কারণে তাওয়াফের আগে সাঈ সম্পন্ন করে ফেলে, তাহলে অধিকতর জোরালো মত হলো তা পুনঃ আদায় করা। একইভাবে যদি মাসআলা না জানার কারণেও আগে-পরে করে ফেলে, তাহলেও এ নির্দেশই মেনে চলবে।
৬৬৭. প্রচলিত পথ ধরেই যাওয়া ও ফিরে আসা ওয়াজিব। সুতরাং যদি অপ্রচি পথে সাফা কিম্বা মারওয়ায় কেউ যায়, তাহলে তার সাঈ বাতিল হয়ে যাবেন
৬৬৮. যদি সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী পথ দুই তলা বা বহুতলবিশিষ্ট করে নির্মাত করে এবং সকল তলাই দুই পাহাড়ের মাঝে হয়ে থাকে, তাহলে যে কোনো তলা নিয়ে সাঈ করাই জায়েজ হবে। যদিও অধিকতর সতর্কতা হলো, ঐ পথ ধরেই সাঈ করা য প্রথম থেকেই প্রচলিত ছিল।
৬৬৯, মারওয়ার দিকে যাওয়ার সময় সেদিকে সম্মুখ করে এবং সাফার দিকে যাওয়ার সময় সাফা অভিমখী হয়ে চলা ওয়াজিব। কাজেই যদি সাফা ও মারওয়ার প্রতি পেছন ফিরে চলে কিম্বা আড়াআড়ি হয়ে চলে, তাহলে তা বাতিল হবে। তবে ডানে-বামে বরং কখনো পেছনের দিকে তাকাতে আপত্তি নেই। ৬৭০. বিশ্রামের জন্য ও কান্তি দূর করার জন্য সাফা কিম্বা মারওয়ার ওপরে বস কিম্বা ঘুমানো জায়েজ। তদ্রূপ পাহাড়দ্বয়ের মাঝে বিশ্রামের জন্য বসা কিম্বা ঘুনানেও। জায়েজ।
৬৭১. ক্লান্তি দূর করার জন্য কিম্বা বাতাসের উত্তাপ কমে আসার জন্য সাঈয়ে তাওয়াফ ও তার নামায কে বিলম্ব করা জায়েজ। আর রাত পর্যন্ত কোনো কারণ হয়। বিলম্ব করাও জায়েজ। যদিও অধিকতর সতর্কতা হলো বিলম্ব না করা।
৬৭২. অসুস্থতার মত কারণ ছাড়া পরের দিন পর্যন্ত তা বিলম্ব করা জায়েজ নয়।
৬৭৩. সাঈ হলো ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। একে মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনের খাঁট নিয়ত সহকারে পালন করতে হবে।
৬৭৪. সাঈও তাওয়াফের মতই একটি রোকন (তথা মৌলিক বিষয়)। ত ইচ্ছাকৃতভাবে কিম্বা ভুলক্রমে ত্যাগ করা সংক্রান্ত নির্দেশ তাওয়াফে বর্ণিত নির্দেশের মতই।
৬৭৫. সাঈর মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে সাত পাকের বেশি করা, বাতিল হওয়ার কারণ। যেমনটা তাওয়াফের বেলায় বর্ণনা করা হয়েছে।
৬৭৬. যদি ভুলক্রমে সাঈ বেশি করে, সেটা এক পাক হোক বা তার বেশিই হোক, তার সাঈ সঠিক। আর উত্তম হলো অতিরিক্ত পাক ছেড়ে দেয়া। যদিও সেটাকে সাত পাকে পৌছাতে পারে এমনটা অসম্ভব নয়।
৬৭৭. যদি ভুলক্রমে সাঈ কম করে, তাহলে যখন তার স্মরণে আসবে তখনই জা সম্পূর্ণ করা ওয়াজিব। আর যদি তার নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করে থাকে এবং তয় জন্য কষ্টসাধ্য না হয় তাহলে (মক্কায়) ফিরে যাবে। আর যদি না পারে কিম্বা কষ্টসাধ হয়, তাহলে প্রতিনিধি নিয়োগ করবে।
৬৭৮. ইহরামের মাধ্যমে তার ওপর যা কিছু হারাম হয়ে গিয়েছিল, তা সাঈ সম্পূর্ণ করার মাধ্যমে হালাল হবে না।
৬৭৯. তামাওু ওমরাহ’র মধ্যে সাঈর কিছু অংশ যদি ভুলে যায়, অতঃপর ওমরাহ’র আমলসমূহ শেষ হয়ে গেছে এমন ধারণার বশবর্তী হয়ে ইহরাম থেকে বের হয়ে আসে এবং স্ত্রীর সাথে সহবাস করে, তাহলে ওয়াজিব হলো ফিরে যাওয়াকে বোর সম্পূর্ণ করা। আর সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো কাফফারা- স্বরূপ একটি গরু জবাই করা।
৬৮০. যদি সাঈ থেকে নিষ্কৃত হওয়ার পরে অথবা প্রত্যেক পাক থেকে নিষ্কৃত হওয়ার পর তা সঠিক হয়েছে কিনা সন্দেহ করে, তাহলে সে সন্দেহের প্রতি অক্ষেপ করবে না। আর তার সাঈ সঠিক হবে। একইভাবে যদি যাওয়া-আসার মাঝে পূর্ববর্তী অংশকে সঠিকভাবে সম্পন্ন করার ব্যাপারে সন্দেহ করে, তাহলেও ভ্রূক্ষেপ করবে না।
৬৮১. যদি মারওয়ায় সাতবার আসা-যাওয়া করেছে নাকি বেশি করেছে, (যেমন যদি সাতবার নাকি নয় বার) তাহলে ভ্রূক্ষেপ করবে না। আর যদি মারওয়ায় পৌঁছানোর পূর্বে সন্দেহ করে যে এটা কি সপ্তম পাক নাকি আরো কম তাহলে দৃশ্যত তার সাঈ বাতিল। একইভাবে যে সন্দেহই সাতের নিচে হবে তা বাতিল। যেমন এক ও তিনের সন্দেহ কিম্বা দুই ও চারের মধ্যে সন্দেহ ইত্যাদি।
সাঈ’র বিবিধ মাসআলা
৬৮২. যে ব্যক্তি জানতো যে, সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাত পাক সাঈ করতে হবে। ।ছ এবং এই নিয়ত সহকারেই সাফা থেকে সাঈ শুরু করলো। কিন্তু যাওয়া ও ফিরে শ্যে আসাকে এক পাক হিসাবে গণনা করলো এবং ফলশ্রুতিতে চৌদ্দ পাক সাঈ পালন করেছে, তার জন্য সতর্কতা হলো সাঙ্গ’ পুনঃ আদায় করবে। যদিও অধিকতর শ্রণ শক্তিশালী মত হলো ঐ সাঈ-ই যথেষ্ট। ৬৮৩. যে ব্যক্তি যোহরের পরে তাওয়াফ ও তার নামাযকে সম্পন্ন করে এবং -ই রাতের বেলায় সাঈ পালন করে, যদি সাধারণ বিচার অনুযায়ী বিলম্ব ছাড়াই রাতের একে বেলা তা সম্পন্ন হয়ে থাকে তাহলে আপত্তি নেই। আর সতর্কতা হলো রাত অবধি বিলম্ব না করা। যদিও অধিকতর জোরালো মত হলো সেটাই যথেষ্ট। ৬৮৪. যদি সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী ওপরের তলাসমূহে সাঈ নিশ্চিত না থাকে র তাহলে জায়েজ নয়।
(সূত্র :হজ্ব নির্দেশিকা, সংকলনেঃ মোহাম্মদ হুসেইন ফাল্লাহযাদেহ)