কুরআনে অতীত জাতিসমূহের ইতিহাস বর্ণনার কারণ
অতঃপর কুরআন তাদেরকে সতর্ক করে যাদের কাছে এ কথাগুলো (আয়াতগুলো) প্রথমবার বলা হয়েছিল। তাদের নিকট এ বিষয়গুলো পৌঁছানো হয়েছে এবং তাদেরকে বলা হয়েছে, তোমরা সাবধান! এমন নয় যে, আমরা তোমাদেরকে যে জ্ঞান দিচ্ছি তা উপেক্ষা করলে তোমরা অক্ষত থাকবে। না, তোমরা এর শাস্তি ভোগ করবে, তোমরা এর ক্ষতির স্বাদ পাবে; কিভাবে? ঠিক যেমন অতীতের লোকেরা এর ক্ষতির স্বাদ ভোগ করেছিল। তাই কুরআনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় অতীত জাতিসমূহের অবস্থা বর্ণনা করার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আপনি লক্ষ্য করবেন, কুরআনে আদ, সামুদ, ফেরাউন ও অন্যান্য গোত্রের বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। ইতিহাসের বর্ণনা তো আর মজার জন্য নয়। কারণ, তাদের সাথে যে বিপর্যয় ঘটেছে তা আমাদের সাথেও ঘটতে পারে। কেন? কারণ, মহাবিশ্বের নিয়ম, ইতিহাসের নিয়ম একই। ঠিক যেমনটি আপনি এ পৃথিবী সৃষ্টির প্রথম দিন থেকে জেনে আসছেন যে, যদি আপনি একটি পাথর ফেলে দেন, তবে তা নিচে নেমে আসবে। এমন কি কখনও হয়েছে যে, আপনি কোনো পাথর ফেললে তা উপরে উঠে যায়? না, এটি স্বাভাবিক নিয়মের অন্তর্ভুক্ত। মাধ্যাকর্ষণ সূত্র, যা অবশ্যই সেদিন আবিষ্কৃত হয়নি। কিন্তু তখনও তা বিদ্যমান ছিল এবং এই সূত্রটি আজও বিদ্যমান। সেই সময়, যদি আপনি জলে একটি লাঠি ছুঁড়ে মারলে, তা ডুবে যেত না। কিন্তু আপনি যদি একটি পাথর ছুঁড়ে মারতেন, তবে তা ডুবে যেত। অনুরূপভাবে আজও একই অবস্থা বিদ্যমান। সমস্ত ঐতিহাসিক, মানবিক ও প্রাকৃতিক আইন একই রকম। যদি শতাব্দী আগে, হাজার হাজার বছর আগে মানুষ সৃষ্টির সত্যকে উপেক্ষা করে শাস্তি পেত, তবে আজও একই অবস্থা, নবীর সময়েও একই অবস্থা; আইন একই, কোনো পার্থক্য নেই। প্রাকৃতিক নিয়মের মতো ঐতিহাসিক আইনও অবিনশ্বর ও অপরিবর্তনীয়। আর এ কারণেই তো আল কুরআনে বর্ণিত হয়েছে,
“এটি আল্লাহর এক শাশ্বত রীতি যা পূর্বেও (অনুসৃত) হয়েছে এবং তোমরা আল্লাহর এ রীতিতে (নিয়মে) কোনো পরিবর্তন পাবে না। সূরা ফাতহ : ২৩”