সূরা সাফফের তাফসীর

মু’মিনদের জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে আশার ভূমিকা
আমরা সূরা সাফ্ফের তাফসীর আলোচনার শুরুতে উল্লেখ করেছি যে, এ সূরাতে মু’মিন ও মুসলমানদেরকে জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করা হয়েছে। মু’মিনদেরকে জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণের অন্যতম পন্থা হচ্ছে তাদেরকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করা যে, জিহাদের মাধ্যমে অবশেষে তাদের ইচ্ছা ও ঈমান সুদৃঢ় হবে। আর এ বিষয়টি তাদেরকে জিহাদের ময়দানে অগ্রসর হতে অনুপ্রাণিত করে। হে বিশ্বের ঈমানদারগণ! হে মানবেতিহাসের ঈমানদারগণ! জেনে রাখুন, আপনাদের এ চেষ্টা-প্রচেষ্টা এবং আল্লাহর পথে আপনাদের এ জিহাদ কখনও বিফলে যাবে না; বরং তা অবশ্যই সফলতার মুখ দেখবে। যেমনভাবে ইসলামের প্রাথমিক যুগের মুসলিম মুজাহিদদের চেষ্টা ও সাধনার ফসল আজকের ঈমানদার প্রজন্ম, তেমনভাবে আপনাদের পরিশ্রমও আগামীতে এমন (ঈমানদার) প্রজন্মের জন্ম দিবে এবং তাদের মাধ্যমে একদিন কাঙ্খিত ও প্রত্যাশিত ইসলামি সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। কাজেই জেনে রাখুন, আপনাদের এ পরিশ্রম এবং আল্লাহর পথে চেষ্টা ও প্রচেষ্টা কখনও বিফলে যাবে না। আর তাই তো আল কুরআনে ইশারা করা হয়েছে, “নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না।” ( সূরা তওবাহ : ১২০ )
সুতরাং এখন আমরা সূরা সাফ্ফের যে দু’টি আয়াতের (৮ ও ৯) তাফসীর সম্পর্কে আলোকপাত করব, সে দু’টি আয়াতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি ইশারা করা জরুরী মনে করছি; সে বিষয়গুলো হচ্ছে- প্রথমত, শত্রুদের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়া প্রসঙ্গে; দ্বিতীয়ত, নবী-রাসূলগণের (আ.) লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়ন অবশ্যম্ভাবী হওয়া প্রসঙ্গে এবং তৃতীয়ত, আল্লাহর পথে জিহাদ ও চেষ্টা-প্রচেষ্টার ধারা অব্যাহত রাখতে মু’মিনদেরকে উদ্বুদ্ধ করা প্রসঙ্গে; কেননা এর প্রতিফল অত্যন্ত কল্যাণকর। কাজেই আমরা আল্লাহর পথে যে চেষ্টা-প্রচেষ্টা ও জিহাদরত অবস্থাতে রয়েছি, তা পরিশেষে আমাদেরকে আশান্বিত করবে (অর্থাৎ কল্যাণের পথে উন্নীত করবে)। তাই আমাদেরকে অবশ্যই আশা ও প্রত্যাশাকে সামনে রেখে এ পথের যাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে। কেননা যদি আশা ও প্রত্যাশিত লক্ষ্য না থাকে তাহলে মানুষ সামনে অগ্রসর হওয়ার মনোবল হারিয়ে ফেলবে।

Related posts

সূরা সাফফের তাফসীর

সূরা সাফফের তাফসীর

সূরা সাফফের তাফসীর

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More