আল্লাহর নুরকে নির্বাপিত করতে শত্রুদের ব্যর্থ চেষ্টা
সূরা সাফফের ৮ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে,
‘তারা আল্লাহর নুরকে ফুৎকারে নির্বাপিত করতে চায়।’ যারা রাসূলুল্লাহর (সা.) দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছিল; তারা আল্লাহর নুরকে নিজেদের মুখের ফুৎকারে নিভিয়ে দিতে চায়। এখানে ইঙ্গিতসূচক ভঙ্গিতে একটি বিশেষ বার্তা দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ প্রদত্ত হেদায়েতকে এক অত্যুজ্জ্বল নুরের সাথে তুলনা করা হয়েছে যা সব কিছুর উপর দীপ্তিমান (যেমন: সূর্যের আলো)। এখন এ আলোকে কী কোন মানুষের পক্ষে মুখের ফুৎকারে নিভিয়ে দেয়া সম্ভব? উত্তর খুবই স্পষ্ট; না তা আদৌ সম্ভব না। এরপর আয়াতে বলা হচ্ছে- ‘কিন্তু আল্লাহ নিশ্চয়ই তাঁর নুরকে পূর্ণতা দান করবেন।’ অতঃপর আয়াতের শেষাংশে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।’ এখানে মুখ্য আলোচ্য বিষয় হচ্ছে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন এবং ধর্মের প্রতি আকিদা পোষণ। এ আয়াতে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা দেয়া হচ্ছে যে, আল্লাহ তায়ালা নুর তথা বিধানের বিস্তার সাধন করবেন যদিও তা কাফিরদের নিকট অপছন্দনীয় হোক না কেন। কেননা কাফিররা আল্লাহর বিধানকে অস্বীকার করে। কিন্তু পরবর্তী আয়াতে বলা হয়েছে- ‘যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। কেননা এখানে নির্দিষ্টভাবে ইসলাম ধর্মের প্রতি ইশারা করা হয়েছে, অনির্দিষ্ট কোন ধর্মের কথা বলা হয় নি। কারণ এ আয়াতে মূখ্য বিষয় হচ্ছে ইসলাম এবং ইসলাম অবশ্যই সমস্ত আসামনি ধর্ম ও অন্যান্য মতাদর্শের উপর প্রাধান্য লাভ করবে। স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা এ ধর্মকে অন্যান্য ধর্মের উপর কর্তৃত্বশীল করবেন; যদিও তা মুশরিকদের -যারা বহু ধর্মে ও একাধিক প্রভূতে বিশ্বাস পোষণ করে- নিকট অপছন্দনীয়।