আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ; সর্ববৃহৎ অবিচার
আয়াতে বলা হচ্ছে- ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে তার অপেক্ষা অধিক জালিম আর কে?’ ( সূরা সাফফ : ৭ ) সর্বশক্তিমান আল্লাহ যদি কোন নবী কিংবা রাসূলকে প্রেরণ করেন, তাহলে মানুষের ঈমানি দায়িত্ব হচ্ছে নবী কিংবা রাসূলের (সা.) প্রতি ঈমান আনয়ন করা। যদি কুরআনের কোন আয়াত আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী হিসেবে নাযিল হয়, তবে মানুষের উচিত তা গ্রহণ করা। যদি কেউ কুরআনের কোন আয়াত কিংবা রাসূলের (সা.) কোন মোযেজাকে ‘যাদু’ হিসেবে অভিহিত করে, তাহলে সে আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করেছে; যা সবচেয়ে বড় ও জঘন্যতম অবিচার হিসেবে গণ্য। কিন্তু কেন? কারণ কারও উপর মিথ্যারোপ হচ্ছে এক ধরনের জুলুম ও অবিচার। এখন এ মিথ্যা অপবাদ যার উপর আরোপ করা হবে সে যত ভাল ও সঠিক লোক হবে, জুলুমের মাত্রাও ততবেশি হবে। কোন ফাসেক ব্যক্তির উপরও মিথ্যা অপবাদ আরোপ করা হয়, তবে তা নিশ্চয়ই অবিচার হিসেবে গণ্য; কেননা হয়তো সে ব্যক্তি হিসেবে ফাসেক হতে পারে, কিন্তু সে যে কাজ করে নি সে কাজের অপবাদ তার উপর আরোপ তো আদৗ সঠিক নয়। এমতাবস্থায় এমন এক ব্যক্তি যে ফাসেক তো নয় বরং মু’মিন ও ঈমানদার। তার উপর যদি এমন কোন দোষ চাপানো হয় যে দোষটি সে আদৌ করে নি; তাহলে এটা যেমনভাবে একটা বড় ধরনের গুনাহ তেমনভাবে মারাত্মক অবিচারও বটে। কিন্তু কেন? কারণ যার উপর অপবাদ আরোপ করা হয়েছে, সে একজন নির্দোষ ব্যক্তি। এখন যদি সে শুধু মু’মিন ও ধার্মিক ব্যক্তিই নয়, বরং তার চেয়ে অধিক মর্যাদাসম্পন্ন ও পবিত্র হয়ে থাকেন যেমন- ইমাম, নবী কিংবা রাসূল; তাহলে এমন ব্যক্তিত্বের উপর এ ধরনের মিথ্যা অপবাদ আরোপ তুলনামূলক বড় গুনাহ ও মারাত্মক জুলুম হিসেবে গণ্য। কিন্তু কেন? কেননা তিনি (নবী বা ইমাম) পবিত্রতার পূর্ণাঙ্গ বাস্তব নমূনা ও উদাহরণ; আসলে নবী ও ইমাম হচ্ছেন প্রকৃত পবিত্রতার বাস্তব নমূনা (নবী ও ইমাম পাক-পবিত্র সত্তার অধিকারী এবং তাদের সত্তা সব ধরনের দোষমুক্ত ও ভুল-ত্রুটির উর্ধ্বে)। এখন যদি কেউ এমন মিথ্যা অপবাদ সরাসরি আল্লাহ তায়ালার প্রতি আরোপ করে যিনি সব ধরনের পবিত্রতা ও কল্যাণের উৎসমূল এবং এ পৃথিবীর সমস্ত পাক ও পবিত্র সত্ত্বার একমাত্র স্রষ্টা; এমতাবস্থায় এর চেয়ে মারাত্মক গুনাহ ও অবিচার আর কি কিছু আছে? এ কারণে আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে তার অপেক্ষা অধিক জালিম আর কে?’ এরপর আয়াতে আরও বলা হচ্ছে- ‘অথচ তাকে তো ইসলামের দিকে আহ্বান জানানো হচ্ছে।’ অর্থাৎ তিনি তাদেরকে ইসলাম ধর্মের শান্তির ছায়াতলে আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যভাবে বলা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদেরকে সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি আত্ম সমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন; না তাদেরকে অপমান ও লাঞ্ছনার দিকে আহুত করেছেন, না বাতিল ও অন্যায়ের দিকে ডেকেছেন। আল্লাহর প্রতি সমর্পিত হওয়া বান্দার জন্য সর্বোত্তম নেয়ামত হিসেবে বিবেচিত। আল্লাহর প্রতি সমর্পিত হওয়ার অর্থ হচ্ছে সৃষ্টিজগতের একমাত্র প্রতিপালক আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নিকট মাথানত না করা। অর্থাৎ এমন পথে অগ্রসর হওয়া যার মধ্যে মানুষের জন্য কল্যাণ নিহিত; যে কল্যাণ সম্পর্কে মানুষ অপেক্ষা আল্লাহই অধিক অবহিত। সুতরাং যদি কাউকে আল্লাহর বন্দেগীর দিকে দাওয়াত দেয়া হয় এবং তাকে জানান হয় যে, এর মধ্যে তোমার জন্য কল্যাণ নিহিত আছে। কিন্তু প্রতি উত্তরে যদি সে আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে, তবে এর চেয়ে মারাত্মক জুলুম ও অবিচার আর কিছু হতে পারে না।