জিহাদের পার্থিব পুরস্কার
যদি মু’মিনরা আল্লাহর পথে জিহাদ করে, তাহলে আল্লাহ তাদের সে পুরস্কারকে শুধু মহাসাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবেন না, বরং তাদেরকে আরও বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করবেন| ঐ মহাসাফল্য হচ্ছে পরকালের জন্য নির্ধারিত এবং পারলৌকিক জীবনে তা অর্জিত হবে| কিন্তু আল্লাহ জিহাদকারীর পুরো পুরস্কারকে শুধু পরকালেই বরাদ্দ করেন নি, বরং তার আগেই এ পৃথিবীর জীবনেও আল্লাহর পথে জিহাদকারীর জন্য একটি বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন| সেটা কি? সেটা হচ্ছে এমনই বিষয় যা প্রত্যেকেই পছন্দ করে; আয়াতের ভাষায়, ‘এবং অপর একটি বিষয় যা তোমরা প্রত্যেকেই পছন্দ কর|’ সে বিষয়টি কি? সে বিষয়টি হচ্ছে, ‘(তা হল) আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ও আসন্ন বিজয়|’ যদি মু’মিনরা আল্লাহর পথে জিহাদ করে এবং নিজেদের জান ও মালকে সে পথে উৎসর্গ করে, তাহলে তাদের জন্য সাহায্য এবং চূড়ান্ত বিজয় অপেক্ষা করছে; যা সরাসরি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে| এক্ষেত্রে হয়তো যারা আজ জিহাদরত রয়েছে তাদের মধ্যে একটি অংশ শাহাদত বরণ করতে পারে এবং চূড়ান্ত বিজয় তারা দেখে যেতে নাও পারে| কিন্তু এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে আয়াতে যে বিজয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা তো কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীয় বিজয় নয়| মু’মিনরা কি জিহাদ করে নিজেদের ব্যক্তিগত বিজয়ের উদ্দেশ্যে? আমরা কি জিহাদ ও সংগ্রাম করি শত্রুর বিরুদ্ধে নিজেদের ব্যক্তিগত বিজয়ের জন্য? না, আদৌ এমনটি নয়; বরং জিহাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে ইসলামকে সুদৃঢ় ও সুপ্রতিষ্ঠিত করা| বস্তুত আমরা জিহাদ করি আল্লাহর বাণীকে সর্বোচ্চে তুলে ধরা এবং কাফিরদের কথাকে পদদলিত করার জন্য; আর এমন উদ্দেশ্যে চূড়ান্ত বিজয় সন্নিকটে| যদি এমন মহৎ ব্রতিকে সামনে রেখে জিহাদ করা হয় এবং সে পথে চেষ্টা, সাধনা ও পরিশ্রম অব্যাহত রাখা হয়, তাহলে আল্লাহর সাহায্য ও চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিতভাবে সমাগত হবে| আর এমন চূড়ান্ত বিজয়কে প্রত্যেকেই পছন্দ করে; যা আল্লাহর পক্ষ থেকে অন্যতম পুরস্কার এবং তা এ পৃথিবীর জীবনেই মু’মিনরা অর্জন করবে|