সূরা সাফফের তাফসীর

শিক্ষা গ্রহণের নিমিত্তে বনি ইসরাইলের ঘটনাবলির বর্ণনা
পবিত্র কুরআনের আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে,
“(স্মরণ কর ঐ সময়ের কথা) মূসা যখন তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কেন আমাকে কষ্ট দিচ্ছ যখন তোমরা নিশ্চিত ভাবে জান যে, আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল।” এখানে মুসলমানদের জন্য এক ঐতিহাসিক শিক্ষা নিহিত রয়েছে; তা হচ্ছে- কখনও কখনও দেখা যায় যে, একদল ধর্মপ্রাণ মু’মিন এবং কোন ধর্ম ও নবীর উপর আকিদা পোষণকারী গাফিলতি এবং নানাবিধ মানসিক ব্যাধির -যে সব ব্যাধির বিষয়ে আমরা ইতঃপূর্বে আলোকপাত করেছি- নেতিবাচক প্রভাবে বিচ্যুতির শিকার হয়। এছাড়া তাদের অন্তরে যে ঈমান ও আকিদা বিদ্যমান ছিল তা নিঃশেষ হয়ে যায় এবং ক্রমান্বয়ে তারা এক পথভ্রষ্ট ও অভিশপ্ত গোত্রে পরিণত হয়। আল্লাহ তায়ালা এ সূরার দু’টি আয়াতে -যে আয়াত দু’টি সামনে বর্ণিত হবে- এ গোত্রের দু’টি নমুনা তুলে ধরেছেন এবং তা হতে আমাদেরকে শিক্ষা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে আমরা সতর্ক থাকতে পারি। প্রথম নমুনাটি হচ্ছে- হযরত মূসা (আ.) ও তাঁর গোত্র সম্পর্কিত। হযরত মূসার (আ.) গোত্রের নাম বনি ইসরাইল; যারা মূসার (আ.) প্রতি ঈমানপোষণ করত এবং তাঁকে মান্য করত। তারা ছিল সেই সম্প্রদায় যারা হযরত মূসার (আ.) সাথে ফেরাউনের কবল থেকে পালিয়ে এসেছিল। ফেরাউনের কবল থেকে মুক্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বনি ইসরাইল তেমন কোন ভূ-খণ্ড কিংবা সমাজ ব্যবস্থার অধিকারী ছিল না। তখন হযরত মূসা (আ.) তাদেরকে যে সব নির্দেশনা দিত, তা তারা যথাযথভাবে পালন করত। কিন্তু ফেরাউনের রাজ্য থেকে তাদের পলায়নের পর নিজস্ব সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠার আগেই তাদের মধ্যে নানাবিধ সামাজিক অবক্ষয় ও ব্যাধির প্রাদূর্ভাব ঘটে যে বিষয়ে পবিত্র কুরআনের বহু আয়াতে ইশারা করা হয়েছে। বাস্তবিক অর্থে সে বিষয়গুলোর ব্যাপারে আমাদেরকে অর্থাৎ মুসলমানদেরকে সাবধান করে দেয়া হয়েছে যাতে আমরা বনি ইসরাইলের উক্ত ব্যাধিসমূহে আক্রান্ত না হই।
বনি ইসরাইল এক অতি বিস্ময়কর সম্প্রদায় এ সম্প্রদায় এক আজব পরীক্ষাগার হিসেবে বিবেচিত। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ তায়ালা এ সম্প্রদায়কে অপরিসীম নেয়ামত ও অনুগ্রহ দান করেছিলেন। তাদের মধ্য থেকে অনেক খ্যাতনামা নবী-রাসূলকে (আ.) আল্লাহ মনোনীত করেছেন, অনেক শক্তিশালী শাসক ও মহামানব তাদের মধ্য থেকে উত্থিত হয়েছেন, বনি ইসরাইলের কোন কোন নবী-রাসূলকে -যেমন হযরত দাউদ ও সুলাইমান- আল্লাহ বিশাল সাম্রাজ্যের মালিক করেছিলেন যেখানে দ্বীনী ও খোদায়ী শাসন বহাল ছিল। একটি সম্প্রদায়ের জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের নেয়ামত ও অনুগ্রহ আল্লাহ বনি ইসরাইলকে দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা নানাবিধ সামাজিক অবক্ষয় ও ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে নিজেরাই নিজেদেরকে ঐ সব নেয়ামত থেকে বর্ঞ্চিত করেছে। সুতরাং পবিত্র কুরআনের বহু আয়াতে বনি ইসরাইলের ঘটনাবলি তুলে ধরে মুসলমানদেরকে সাবধান করা হয়েছে। অর্থাৎ মুসলিম জাতিকে উদ্দেশ্য করে এভাবে সতর্ক করা হয়েছে- হে মুসলিম জাতি! তোমরাও বনি ইসরাইলের ন্যায়। যেভাবে বনি ইসরাইল সম্প্রদায় আল্লাহর আপনজন ও সন্তানাদি ছিল না; তেমনভাবে তোমরাও আল্লাহর বিশেষ প্রিয়ভাজন নও। আল্লাহ বনি ইসরাইল সম্প্রদায়ের প্রতি অনেক অনুগ্রহ প্রদর্শন করেছেন; তাদের প্রতি অনেক স্নেহশীল নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন, তাদের প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনার ব্যবস্থা করেছেন এবং তাদেরকে অপরিসীম নেয়ামত দান করেছেন। কিন্তু তারা আল্লাহর অবাধ্যতার মাধ্যমে সে সব অনুগ্রহ ও নেয়ামত থেকে নিজেদেরকে বঞ্চিত করেছে। কাজেই তোমরাও যদি তাদের ন্যায় অবাধ্য হও, তাহলে অনুরূপভাবে বঞ্চিত হবে।

Related posts

সূরা সাফফের তাফসীর

সূরা সাফফের তাফসীর

সূরা সাফফের তাফসীর

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More