সেজদায়ে শোকর 

সেজদা শুধু নামাযের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং অন্যান্য বিষয়েও আলোচিত হয়েছে; এমনকি কখনও কখনও সেজদা করা ওয়াজিবও হয়ে থাকে। যেমন, চারটি আয়াতের কোনো একটি আয়াত তিলাওয়াত করলে সেজদা করা ওয়াজিব হয়ে যায়।
সেজদায়ে শোকর  সেজদা শুধু নামাযের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং অন্যান্য বিষয়েও আলোচিত হয়েছে; এমনকি কখনও কখনও সেজদা করা ওয়াজিবও হয়ে থাকে। যেমন, চারটি আয়াতের কোনো একটি আয়াত তিলাওয়াত করলে সেজদা করা ওয়াজিব হয়ে যায়।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি বিষয় হচ্ছে সেজদায়ে শোকর  যার প্রতি বহু আদেশ করা হয়েছে। সেজদায়ে শোকর  অর্থাৎ আমাদের ও আমাদের পরিবারের উপর অবতীর্ণ হওয়া আল্লাহর অফুরন্ত অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।
ইমাম সাদিক (আ.) বলেন: যখনই তোমার কোনো নিয়ামতের কথা স্মরণ হবে তখনই স্বীয় মুখমন্ডলকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নিমিত্তে ভূমিতে স্থাপন কর! আর যদি দেখ যে, মানুষ তোমাকে দেখছে তাহলে সে নিয়ামতের সম্মানার্থে একটু অবনমিত হও! ( ওয়াফা, ৮ম খন্ড, পৃ. ৮২৫)
লোকেরা একদা নবী করীমকে (সা.) দেখল যে, তিনি উট থেকে নেমে পাঁচটি সেজদা করে বললেন: জিবরাঈল (আ.) আমার নিকট অবতীর্ণ হয়ে আমাকে পাঁচটি সুসংবাদ দিয়েছেন। আর আমি প্রত্যেকটি সুসংবাদের জন্যে একটি করে সেজদা করলাম। ( মুহাজ্জাতুল বাইযা’, ১ম খন্ড, পৃ. ৩৪৬)
হযরত আলী (আ.) কখনও কখনও সেজদায়ে শোকরের মধ্যে বেঁহুশ হয়ে যেতেন। যামানার ইমাম (আজ্জা.) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সুন্নত হচ্ছে সেজদায়ে শোকর। সেজদায়ে শোকর  সব ধরনের যিকর ও দোয়া জায়েয আছে; তবে “শুকরান্ লিল্লাহ” ও “আল্হাম্দু লিল্লাহ” বলা অথবা সবচেয়ে বড় নিয়ামত আহলে বাইতের (আ.) বেলায়েতের স্মরণ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: যে ব্যক্তি সেজদায়ে শোকর আদায় করবে তার পুরস্কার হচ্ছে এই যে, আমিও তাকে ধন্যবাদ জানাব।( আল্ কাফী, ১ম খন্ড, পৃ. ৩৩৪ )
যদিও সেজদায়ে শোকর স্থান-কালের সঙ্গে নির্দিষ্ট নয় তবুও এর উত্তম সময় হচ্ছে প্রত্যেক নামাযের পর।

ফজর/ইয়াসিন

Related posts

হযরত ফাতিমা মাসুমা (সা.আ.): পবিত্রতা, হিজাব ও মর্যাদাশীল জীবনের অনন্য আদর্শ

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.): ইসলামী ঐক্যের মূল অক্ষ

২৮শে সফর হযরত ইমাম হাসান (আ.)-এর শাহাদাত বার্ষিকী

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More