স্ত্রীর রাগ ও ক্রোধোন্মত্ততা

রাগ ও ক্রোধোন্মত্ততা একটি চারিত্রিক রোগ এবং অগণিত নারী ও পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত। এই ধরনের লোকেরা অসমীচীন আচার-ব্যবহারের বিপরীতে স্বীয় ক্ষমতা ও সক্ষমতাকে হারিয়ে দেন। অনুভূতিপরায়ণ, দ্রুত মর্মাহত ও কর্কশ হয়ে যান। স্নায়ুর নিয়ন্ত্রণকে হারিয়ে দেন। চিল্লা-চিৎকার করেন, গালিগালাজ করেন, মারপিট করেন, গৃহের বিভিন্ন জিনিসপত্র ও দ্রব্যসামগ্রীকে চালিয়ে ফেলে দেন, নিজের মাথা পেটেন এবং কখনও কখনও হত্যাযজ্ঞেও লিপ্ত হন।
ইমাম সাদেক (আ.) বলেন: ‘রাগ হচ্ছে সকল পাপাচারের চাবি।’
রসুল আকরম (সা.) বলেন: ‘রাগ হচ্ছে শয়তানের আগুনের একটি শিখা।’
হজরত আলি (আ.) বলেন: ‘রাগ হতে বিরত থাক, কেননা তার প্রথম পর্ব হচ্ছে পাগলামি এবং শেষ পর্ব হচ্ছে অনুতাপ।’
এই চারিত্রিক রোগটি বিভিন্ন পরিবারের সর্বাধিক বড় বিপদ। এটি ঈর্ষা, মতানৈক্য ও বাককলহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শান্তিকে বিনষ্ট করে। বহু ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিবারকে ছারখারও করে দেয় এবং খুবই খারাপ পরিণতি বয়ে আনে। কখনও নারী কর্কশ মেজাজের হন, কখনও পুরুষ, আবার কখনও উভয়েই; সর্বাধিক বিপদজনক হচ্ছে তৃতীয়টি। তবে যাই হোক, তা চিকিৎসা যোগ্য।
নারী কখনও জীবনের বিভিন্ন অসুবিধা, যেমন – আত্মীয়স্বজন কিংবা প্রতিবেশীদের খারাপ আচরণ ও অবমাননা, শিশুদের জ্বালাযন্ত্রণা, আশা পূরণ না হওয়া, অর্থনৈতিক বিভিন্ন সমস্যা ও বঞ্চনা – ইত্যাদির কারণে এতটাই বিরক্ত ও ক্রোধোন্মত্ত হন যে, নিজের স্নায়ুর নিয়ন্ত্রণকে হারিয়ে ফেলেন এবং এমন এক ব্যক্তিকে খুঁজে পেতে চান যার সামনে তিনি নিজের অন্তরের ক্ষোভ ও ক্রোধকে খালি করতে পারেন।
এই প্রেক্ষাপট হতে, তার স্বামী গৃহে প্রবেশ করা মাত্রই তিনি কর্কশতা ও ক্রোধোন্মত্ততার সঙ্গে অভিযোগ দায়ের করতে এবং চিল্লা-চিৎকার করতে আরম্ভ করেন। তিনিই জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান স্বামী যিনি স্বীয় স্ত্রীর অস্বাভাবিক পরিস্থিতিকে উপলব্ধি করবেন এবং অনুভব করবেন যে, তার স্ত্রী একজন স্নায়ুবিক রোগিনী এবং তাকে করুণা করা প্রয়োজন। ফলে তাকে শান্ত থাকতে হবে এবং নিজের পক্ষ হতে কোনোরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে না। এমনকি তিনি যদি তার স্ত্রীর অবমাননারও শিকার হন।
হয়তো স্ত্রী স্বীয় চিল্লা-চিৎকার অব্যাহত রাখতে পারেন এবং স্বামীর কর্কশ প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করতে পারেন, যাতে তিনি তার চেয়ে বেশি চিল্লা-চিৎকার আরম্ভ করেন। কিন্তু কল্যাণকর হবে যে, স্বামীটি পূর্বানুরূপ স্বীয় ধৈর্য ও নীরবতা অব্যাহত রাখবেন। স্ত্রী যখন স্বামীর পক্ষ হতে কোনোরূপ প্রতিক্রিয়া দেখবেন না, তখন কালবিলম্ব ছাড়াই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবেন। স্বীয় স্নায়ুর উপর আধিপত্যশীল হবেন। হয়তো কখনও স্বীয় কর্কশ ও শিষ্টাচারহীন আচরণের কারণে অনুতপ্ত হতে পারেন ও ক্ষমাপ্রার্থনা করতে পারেন। অতঃপর স্বামী কোনো উপযুক্ত সময় বুঝে সমবেদনা প্রকাশার্থে ও মিষ্টভাষার মাধ্যমে তার অসন্তোষের কারণগুলো শুনবেন এবং বিষয়ের সমাধানে তাকে সাহায্য করবেন।

Related posts

পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য: জান্নাত লাভের সহজ পথ

শবে কদরের ফজিলত, মর্যাদা ও প্রাসঙ্গিক কথা

ইমাম হাসান মুজতাবা (আ.)-এর অমিয় বাণী

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More