হজ্ব এর আহকাম

Macca Kabe

৮২২. যে ব্যক্তি তামাত্তু হজ্ব পালন করে, তার ওপর ওয়াজিব হলো আম কুরবানি করা অর্থাৎ একটি উট কিম্বা একটি ভেড়া কিম্বা একটি গরু জবাই করা। উট হলো উত্তম । অতঃপর গরু ।

৮২৩. সক্ষম থাকা অবস্থায় একটি পশুতে একাধিক ব্যক্তির অংশীদার থাকা যা নয় । এমনকি জরুরি অবস্থায়ও। এতে সমস্যা রয়েছে। আর সতর্কতামূলক ওয়াজ হলো অংশীদারভিত্তিক জবাই করার সাথে সাথে রোযাও পালন করা, যার বি পরবর্তীতে উল্লেখিত হবে ।

৮২৪, উল্লেখিত তিনটি পথ ভিন্ন অন্য পশু কোরবানী দেয়া যথেষ্ট নয়।

৮২৫. কোরবানীর পশুর ক্ষেরে কয়েকটি বিষয় রয়েছে যা পালন করা বাঞ্ছনীয় : প্রথম যদি উট হয় তাহলে পাঁচ বছরের চেয়ে কম বয়সী যেন না  হয় এবং বছরে যেন প্রবেশ করে থাকে। আর যদি গরু হয় তাহলে সতর্কতামূলক ওয়াজি হলো তা দুই বছরের কম যেন না হয় এবং তৃতীয় বছরে যেন প্রবেশ করে থাকে। আর স্থাপনের ক্ষেত্রেও গরুর সমান বয়সের চেয়ে কম যেন না হয়। আর যদি মহিষ হয়। তাহলে সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো এক বছরের চেয়ে কম যেন না হয় এবং দ্বিতীয় বছরে যেন প্রবেশ করে থাকে।

দ্বিতীয় সুস্থ পশু হতে হবে। কাজেই রুগ্ন পশু হলে যথেষ্ট হবে না। এমনকি সরকতার ভিত্তিতে, লোম ওঠা রোগে আক্রান্ত হলেও চলবে না।

তৃতীয় : খুব বেশি বয়স্ক হলে চলবে না

চতুর্থ: পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত হতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ কিম্বা বিকলাঙ্গ হলে চলবে না। সুতরাং, পশুর কানা বা খোড়া হওয়া যদি সুস্পষ্ট থাকে, তাহলে জোরালো মত হলো কুরবানির জন্য যথেষ্ট হবে না। আর সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো, যদি তা সুস্পষ্ট নাও থাকে, তাহলেও যথেষ্ট নয়। আর সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো যেন পশুর চোখ সাদা হয়ে না গিয়ে থাকে এবং কান ও লেজ কাটা না হয়। আর শিং যেন ভাঙ্গা বা কাটা না থাকে ।

পঞ্চম: শীর্ণকায় না হওয়া। আর যদি পশুটির গোর্দার মধ্যে মেদ থাকে তাহলেই যথেষ্ট হবে । আর সতর্কতা হলো, সাধারণ বিচারে সেটাকে কৃশকায় না বলা ।

ষষ্ঠ : খাসিকৃত না হওয়া। অর্থাৎ উক্ত পশুর অ-কোষ দুটো যেন বের করে আনা না হয়ে থাকে ।

সপ্তম: সতর্কতামূলক ওয়াজিব উক্ত পশুর অ-কোষ দুটো মেশিন দ্বারা চাপ দিয়ে গুলিয়ে দেয়া যেন না হয়।

অষ্টম : জন্মগতভাবে যেন লেজবিহীন না ভিত্তিতে)। আর যদি কান বা শিং জন্মগতভাবে না থাকে তাহলে যথেষ্ট ও নয়, যদিও সতর্কতার পরিপন্থী।

নবম: জন্মগতভাবে অ-কোষ বিহীন না হওয়া ।

৮২৬.ওয়াজিব করবানির জন্য মহিষ যথেষ্ট হয় । তবে বলা হয় মাকরূহ।

৮২৭. যদি পশুর বাইরের শিং ভাঙা কিম্বা কর্তিত থাকে, তাহলে অসুবিধা নেই। বাহিরের শিং বলতে শিং এর কালো রঙের শক্ত অংশকে বুঝায়, যা আবরণ হিসাবে থাকে ভেতরের শিঙের ওপরে যা সাদা রঙের হয় ।

৮২৮. কান ছেঁড়া বা ছিদ্র থাকলে অসুবিধা নেই। আর সতর্কতা হলো এরূপ না থাকা ।

৮২৯. সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো জামারাহ আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপের পরে কুরবানির পশুকে জবাই করতে হবে ।

৮৩০, একটি ভেড়া হলো কুরবানির পশু হিসাবে সর্ব ন্যূনতম, যা দ্বারা কুরবানি যথেষ্ট হয় । তবে যত বেশি পশু জবাই করবে ততই উত্তম । আর রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে যে, রসুলুল্লাহ (সাঃ) একশ’ উটকে সঙ্গে নিয়ে আসেন । তন্মধ্যে চৌত্রিশটিকে হযরত আমিরুল মুমিন (আঃ)-এর জন্য আর বাকি নিজের জন্য কুরবানি করেন ।

৮৩১. যদি কুরবানির পশু পাওয়া না যায়, তাহলে তার সমমূল্যের টাকা কোন বিশ্বাসভাজন ব্যক্তির কাছে জমা রেখে আসবে। যাতে সে যিলহজ্ব মাসের বাকী দিনগুলোতে একটি পশু সংগ্রহ করে এবং মিনায় জবাই করে দেয়। আর যদি এ না হয়, তাহলে পরবর্তী বছরে একাজটি করবে।

৮৩২.সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো করবানির পশু জবাই করার কাজটি ঈদের দিন থেকে বিলম্ব না করা।

৮৩৩, যদি কোন কারণবশত যেমন ভুলে যাওয়া বা অন্য কারণে ঈদের দিনে জবাই না করে, তাহলে সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো ‘তাশরীক; এর (১১, ১২ ও ১৩ যিলহজ্ব) দিনগুলোতে তা পালন করা। আর যদি তা না হয়, তাহলে যিলহজের অবশিষ্ট দিনগুলোতে করতে হবে ।

৮৩৪. যদি কোন পশুকে সুস্থ ও নিখুঁত ভেবে জবাই করে অতঃপর প্রতীয়মান হয় .যে তা অসুস্হ কিম্বা তাতে খুঁত ছিল, তাহলে তা যথেষ্ট হাবে না। তাকে পুনরায় কুরবানি করতে হবে ।

৮৩৫. যদি কোন পশুকে মোটা তাজা ভেবে জবাই করে, কিন্তু পরবর্তীতে প্রতীয়মান হয় যে তা শীর্ণকায় ছিল, তাহলে  তা যথেষ্ট  হবে।

৮৩৬, যদি কোন র্শীণকায় পশুকে খরিদ করে এবং ইনশাআল্লাহ মোটা তাজা হবে। এই আশায় আল্লাহর আনুগত্যের উদ্দেশ্যে সওয়াবের আশায় জবাই করে, অতঃপর প্রতীয়মান হয় যে, মোটা তাজা রয়েছে, তাহলে তা যথেষ্ট হবে ।

৮৩৭, যদি খুঁত থাকার বিষয়টি সে বিশ্বাস করতো এবং মাসআলা না জানার কারণে আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে জবাই করে, অতঃপর প্রতীয়মান হলো যে পশুটি নিখুঁত রয়েছে, তাহলে দৃশ্যত তা যথেষ্ট হবে।

৮৩৮, সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো জবাইকারী মু’মিন হতে হবে। বরং এটাই জোরালো মত। তদ্রূপ কারুকারার পশুগুলো জবাই করার বেলায়ও এই একই শর্ত প্রযোজ্য ।

৮৩৯, যদি অ-মুমিনের হাতে কুরবানি পশু জবাই হয়ে থাকে তাহলে তা যথেষ্ট না। তাকে পুনরায় কুরবানি করতে হবে । যতই কুরবানি করার সময় তার খেয়াল থাকে যে জবাইকারী মু’মিন নয়, কিম্বা এই মাসআলা তার জানা না থাকে।

৮৪০. জবাই করাও ইবাদতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে খাটি নিয়ত এবং মহান আল্লাহর নির্দেশের প্রতি আনুগত্যের সংকল্প থাকতে হবে ।

৮৪১.সর্তকতা হলো, যদি ভেড়ার মধ্যে কিম্বা অসুস্থতার আশংকা থাকে, কলে সেটা পরীক্ষা করে দেখবে। যদিও জোরালো মত হলো যদি কোন খুঁত পিত হওয়ার আশংকা করে, যেমন এর কান কিম্বা লেজকে কর্তন করা হয়েছে একে খাসি করা হয়েছে, তাহলে সেক্ষেত্রে পরীক্ষা নিরীক্ষা অনাবশ্যক। আর কুটি জন্মগতভাবে ও মাতৃগর্ভ থেকে লব্ধ বলে ধারণা করা হয়, সেগুলোর সতর্কতা পরিত্যাগ করা ঠিক নয় ।

৮৪২. যদি জবাই করার পরে ত্রুটিযুক্ত হওয়া কিম্বা অন্যান্য শর্তাবলীর অধিকার না থাকার ব্যাপারে সম্ভাবনা দেয়, তাহলে সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করবে না।

Related posts

হজ্ব

হজ্ব

হজ্ব

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More