৮৪৫, যদি কুরবানি করতে সক্ষম না থাকে, তাহলে হজ্বের মধ্যে তিনদিন হজ্ব থেকে ফিরে এসে সাতদিন রোযা পালন করবে।
৮৪৬. কুরবানি করতে সক্ষম না থাকা বলতে বুঝায় কুরবানির পশুও না থা এবং তার টাকাও না থাকা।
৮৪৭, যদি কোনো কষ্ট ও ঝামেলা ছাড়াই ঋণ করতে পারে এবং উক্ত কাদের বিপরীতে যা পরিশোধ করতে হবে, তার মালিক থাকে, তাহলে তাকে ঋণ করতে হবে। এবং কুরবানি করতে হবে ।
৮৪৮. উপার্জন করে কুরবানির টাকা সংগ্রহ করা আবশ্যক নয়। তবে যদি উপার্জন করে এবং সংগ্রহ করে তাহলে কুরবানি করতে হবে ।
৮৪৯. কোরবানীর বদলে রোযা রাখার দিন তিনটি পরপর হতে হবে ।
৮৫০, যদি সপ্তম দিনে রোযা রাখতে না পারে, তাহলে অষ্টম ও নবম দিনে রাখবে। আর মিনা থেকে ফিরে আসার পর একদিন রাখবে। আর সতর্কতা হলো তাশরীক দিনসমূহের মধ্যে যিলহজ্বের এগারো, বারো ও ভেরতম দিনের পরে রোখা রাখবে ।
৮৫১, এই তাশরীক দিনসমূহের দিনগুলোর রোযাকে মিনায় পালন করা জায়েজ। নয়। বরং তাশরীকের দিনসমূহে মিনায় রোযা রাখা সকলের জন্য হারাম। তা সে পালন করুক অথবা নাই করুক ।
৮৫২, যে ব্যক্তি সপ্তম দিনে রোযা রাখেনি এবং অষ্টম ও নবম দিনে রোযা রেখেছে তার জন্য সতর্কতামূলক মুস্তাহাব হলো মিনা থেকে প্রত্যাবর্তনের পর তিন দিন প্রাযা পালন করবে, যার প্রথম দিন হলো রওনা হবার দিন। অর্থাৎ এগারতম দিন তা একাধারে রেখে যাবে। আর তার উদ্দেশ্য হবে পাঁচ দিনের মধ্যে তিন দিন। নাজির রোযা পালনের জন্য থাকবে ।
৮৫৩, যদি অষ্টম দিনে রোযা না রাখে, তাহলে নবম দিনেও রাখবে না। অতঃপর মিনা থেকে প্রত্যাবর্তন করার পর তিনদিন একাধারে রোযা রাখবে । ৮৫৪. এই তিনদিন সফরেও রোযা রাখতে পারবে। মক্কায় অবস্থানের নিয়ত করা। আবশ্যক নয়। বরং যদি মক্কায় তিন দিন অবস্থান করার অবসর না থাকে, তাহলে পথিমধ্যে রোযা রাখা জায়েজ।
৮৫৫. এই তিন দিনের রোযাকে ‘ওমরাহ’র ইহরাম বাঁধার পরে পালন করতে হবে। এর আগে পারবে না।
৮৫৬, অবশিষ্ট সাত দিনের রোযা হজ্ব সফর থেকে ফিরে আসার পরে পালন করতে হবে ।
৮৫৭. এই সাতদিন মক্কায় কিম্বা পথে রোযা রাখা জায়েজ নয়, যদি না মক্কায় অবস্থানের সিদ্ধান্ত নেয়। এক্ষেত্রে যদি কিছুদিন অতিবাহিত হয়ে যায় যে সময়ের মধ্যে সে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারতো, তাহলে পালন করা জায়েজ । তদ্রূপ যদি একমাস অবস্থান করে তাহলেও জায়েজ।
৮৫৮. যদি মক্কা ভিন্ন অন্যত্র কিম্বা তার নিজ জন্মভূমি ব্যতীত অন্য কোনো দেশে অবস্থান গ্রহণ করে তাহলে দৃশ্যত সেখানে সাত দিনের রোযাকে পালন করতে পারবে না। যদিও এমন পরিমাণ বিলম্ব করে যে যদি পথ চলতো তাহলে তার জন্মস্থানে পৌঁছে যেত ।
৮৫৯. যদি রোযা রাখতে সক্ষম হয় এবং রোযা রাখার আগে মৃত্যুবরণ করে তাহলে ওয়াজিব হলো তার তিন দিনের রোযা কাযা করবে (জোরালো মত অনুযায়ী)। আর বাকি সাত দিনকে কাযা করবে সতর্কতামূলক ওয়াজিবের ভিত্তিতে ।
৮৬০. নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের পর সেখানেই রোযা রাখতে হবে এমন কোন আবশ্যকতা নেই । কাজেই যদি অন্যত্র অবস্থান করার নিয়ত করে, তাহলে সেখানেও রাখতে পারবে ।