হজ্ব সম্পকৃত কিছু বিবিধ মাসায়েল

Macca Kabe

১০৬৮. মসজিদুল হারাম এবং মসজিদুন্নবীতে যখন নামাযের জামাআত অনুষ্ঠিত হয় তখন মুমিনীনদের সেখান থেকে বের হওয়া উচিত নয় এবং নামাযের জামাআত এড়িয়ে চলা ঠিক নয়। অন্যান্য মুসলমানদের সাথে জামাআতে নামায পড়া উচিত।

১০৬৯, সব রকমের পাথরে সেটা মার্বেল পাথর হোক আর খনিজ কালো পাথর বা চুনাপাথরই হোক (তা পোড়ানোর আগে)’,( বরং পোড়া খড়ি ও চুনাপাথর এবং ইট ইত্যাদির ওপরও সিজদা করা যায়।) আর মসজিদুল হারামে এজাতীয় যেসব পাথর আছে, ঐসব পাথরের ওপর সিজদা করতে অসুবিধা নেই। একইভাবে মসজিদুন্নবী (সাঃ)তেও অসুবিধা নেই।

১০৭০, মক্কা ও মদীনায় হোটেল ও মেহমান খানাসমূহে জামাআতে নামায পড়া ঠিক নয়। মসজিদে অন্যান্য মুসলমানদের সাথে জামাআতে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

১০৭১. মক্কা ও মদীনায় নামায সম্পূর্ণ বা কছর পড়ার অধিকার থাকার বিষয়টি কেবল মসজিদুল হারাম এবং মসজিদুন্নবীর ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট। সমগ্র মক্কা ও মদীনার জন্যে তা প্রযোজ্য নয়। হ্যাঁ, তা কেবল মূল মসজিদেই নির্ধারিত নয়, সম্প্রসারিত স্থানগুলোতেও প্রযোজ্য হবে। যদিও সতর্কতা হলো মূল মসজিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা। সুতরাং বর্তমান মসজিদের সম্পূর্ণ অংশে নামায পুরোপুরি পড়তে পারে, তেমনি কছরও পড়তে পারে।

১০৭২, তামাণ্ডু ওমরাহ’য় যেসব ত্রুটি করেছে সেগুলোর জন্য সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো ভেড়া ইত্যাদি মক্কায় জবাই করবে। আর যদি হজ্বে ত্রুটি করে তাহলে
পিনায় জবাই করবে।’ আর যদি তা বর্জন করে এবং নিজের জায়গায় ফিরে আসে, তাহলে স্বীয় মহল্লায় জবাই করবে এবং দান করবে।

১০৭৩. যে ব্যক্তি মীকাত কিম্বা তার সমান্তরাল বরাবর স্থান থেকে বা অন্য কোন স্থান যেখানে কর্তব্য ছিল, ইহরাম বেঁধেছে, সে ঐ অবস্থায় মদীনা অথবা অন্য কোন বাস্তব্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইহরাম ভেঙ্গে হালাল হতে পারবে না। আর যদিওবা ইহরামের কাপড় খুলে ফেলে এবং ইহরাম থেকে বের হয়ে আসার উদ্দেশ্যেও করে, তবুও তার ইহরাম ভেঙ্গে যাবে না। উক্ত ইহরামের মাধ্যমে যা কিছু তার ওপর হারাম হয়েছিল তা হালাল হবে না। আর যদি কাফফারা আবশ্যক হয় এমন কোন কাজ করে, তাহলে কাফফারা প্রদান করতে হবে।

১০৭৪. যদি কোন অক্ষমতা যেমন অসুস্থতার কারণে তার সেলাইকৃত কাপড় খুলতে না পারে এবং ইহরামের কাপড় পরতে না পারে, তাহলে মীকাত কিম্বা তার সমান্তরাল স্থলে ওমরাহ কিম্বা হজ্বের নিয়ত করবে এবং লাব্বাইকা বলবে- এতেই – যথেষ্ট হবে। আর যখনই তার সমস্যা দূরীভূত হয়ে যাবে, তখনই সেলাইকৃত কাপড় খুলে ফেলবে আর যদি ইহরামের কাপড় না পরে থাকে, তাহলে তা পরবে। আর হাঁকাতে ফিরে আসার দরকার নেই। তবে সেলাইকৃত কাপড় পরার জন্য একটি ভেড়া কুরবানী করবে।

১০৭৫. যে ব্যক্তি মাসআলা না জানার কারণে কিম্বা নির্দেশ বা বিষয়বস্তু ভুলে যাওয়ার কারণে অথবা উদাসীনতার কারণে কিছু কিছু ইহরামের হারাম কাজে লিপ্ত হয়েছে, তার কাফফারা নেই। কেবলমাত্র শিকারের বেলায় আলাদা; যার জন্যে সর্বাবস্থায় কাফফারা রয়েছে। আর শিকার ভিন্ন অন্যান্য কাজে তা ইচ্ছাকৃত ও এ জাতসারে হলে কাফফারার কারণ হয়।

১০৭৬. তামাত্তু ওমরাহ এবং তামাতু হজ্ব একই বছরে সম্পন্ন হতে হবে। কাজেই যদি এক বছরে তামাকু ওমরাহ পালন করে আর পরের বছরে তামাত্তু হজ্ব পালন করে তাহলে সঠিক হবে না।

১০৭৭, যদি তামাত্তু হজ্বে লিপ্ত হওয়ার পর সে তামাতু ওমরাহ্ সম্পন্ন করেছে কি- না, কিম্বা সন্দেহ করে যে সঠিকভাবে পালন করেছে কি-না, সেদিকে ভ্রূক্ষেপ করবে না। তার আমল সঠিক।

১০৭৮. ওমরাহ ও হজ্বের প্রত্যেকটির আমলসমূহে তার পরবর্তী ধারাবাহিক – আামলে লিপ্ত হওয়ার পর যদি সন্দেহ করে, তাহলে সেদিকে ভ্রূক্ষেপ করবে না। তা সে

আদৌ সম্পন্ন করেছে, নাকি করেনি সেই বিষয়ে সন্দেহ করুক আর সম্পন্নকৃত আমল সঠিক হয়েছে নাকি হয়নি, সেই সন্দেহই করুক।

১০৭৯. তামাত্তু ওমরাহ এবং তামাকু হজ্ব উভয়ই হজ্বের মাসসমূহেই সম্পন্ন হতে হবে। হজ্বের মাসসমূহ হলো যথাঃ শাওয়াল, যিলকাদ এবং যিলহজ্ব। কাজেই কেউ যদি শাওয়াল কিম্বা যিলকাদে তামাণ্ডু ওমরাহ পালন করে আর হজ্বের সময় তামাকু হজ্ব পালন করে, তা সঠিক হবে। আর যদি শাওয়ালের আগে তামাকু ওমরাহ পালন করতে চায় তা সঠিক হবে না, যদিও ওমরাহ’র কিছু কিছু আমল শাওয়ালের আগে সম্পন্ন হয়। আর বাদবাকী শাওয়ালের মধ্যে কিম্বা হজ্বের অন্যান্য মাসে পড়ে।

১০৮০. যে ব্যক্তি তামাত্তু ওমরাহ’র ইহরাম সহকারে মক্কায় প্রবেশ করেছে, যদি তার হজ্ব হাতছাড়া হয়ে যায়, তাহলে মুফরাদা ওমরাহ’র নিয়ত করবে। আর ঐ ইহরাম দিয়েই মুফরাদা ওমরাহ পালন করবে এবং ইহরাম থেকে বের হয়ে আসবে। আর যদি তার ওপর স্থির হয়ে থাকে কিম্বা পরবর্তী বছরে হজ্বের সামর্থ্যের অধিকারী থাকে, তাহলে হজ্বে যেতে হবে।

১০৮১. তামাত্তু হজ্বে কুরবানী হিসেবে যে পশু জবাই করা হবে, তার জন্য নির্ধারিত শর্তাবলী অন্য কোন পশুর ক্ষেত্রে যেগুলো কোন আমলে ত্রুটির কারণে কাফফারা হিসেবে জবাই করতে হয়, প্রযোজ্য নয়। কজেই খাসীকৃত ও ত্রুটিযুক্ত ভেড়াও কাফফারা বাবদ কুরবানী করতে পারবে।

১০৮২. যদি হেরেম এলাকায় পথে পড়ে থাকা জিনিস তুলে নেয় এবং তা এক দেরহামের চেয়ে কম হয়, তাহলে তা মালিকানাভুক্ত করার নিয়্যত করতে পারে এবং তা ব্যবহার করতে পারে। এতে সে তার মালিকের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে না। আর যদি মালিকানাভুক্ত না করে এবং অবহেলা না করে তাহলে দায়ী নয়। কিন্তু যদি মালিকানাভুক্ত না করে রেখে দেয় এবং সংরক্ষণে অবহেলা করে, তাহলে সে দায়ী হবে। আর যদি মালিকানার নিয়ত করে এবং বিনষ্ট হওয়ার আগে তার মালিক পাওয়া যায়, তাহলে তার মালিককে তা ফিরিয়ে দিতে হবে। (সতর্কতামূলক ওয়াজিব অনুসারে)।

১০৮৩. যদি হেরেম এলাকায় পড়ে থাকা জিনিস তুলে নেয়, তা এক দেরহাম কিম্বা তার বেশি মূল্যের হয়, তাহলে এক বছর ধরে তা প্রচার করতে হবে এবং তার মালিকের সন্ধান করতে হবে। অতঃপর যদি এক বছরে তাকে না পায় সেক্ষেত্রে সে দু’টির মধ্যে যে কোনো একটি পথ বেছে নেয়ার ব্যাপারে স্বাধীন থাকবে। যথাঃ এক. সেটাকে তার মালিকের জন্য সংরক্ষণ করবে। সেক্ষেত্রে যদি সংরক্ষণে ত্রুটি না করে থাকে, তাহলে তা বিনষ্ট হলে সে দায়ী নয়। দুই. সেটা তার মালিকের পক্ষ হয়ে দান করবে। কিন্তু যদি তার মালিককে পাওয়া যায় এবং সে দানে সন্তুষ্ট না থাকে, তাহলে
তার বদলা তাকে প্রদান করবে এবং তা মালিকানাভূক্ত করা জায়েজ নয়। আর যদি মালিকানাভুক্ত করে, তাহলে মালিক হবে না, দায়ীও হবে।

১০৮৪. কেউ যদি ইহরাম বাঁধার পর এমন কোনো কর্তব্য পালন না করতে পারে যে, হালাল হতে পারে, সে যদি মাছদুদ (বা বাধাগ্রস্ত) অথবা মাহছুর (বা অবরুদ্ধ) হয়, তাহলে হজ্বের নিয়মাবলী বই’র শেষভাগে বর্ণিত তাদের কর্তব্য অনুযায়ী আমল করবে। আর যদি মাছদুদ বা মাহছুর না হয়, তাহলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মুফরাদা ওমরাহ্ পালনের মাধ্যমে ইহরাম থেকে হালাল হতে পারবে।

১০৮৫. মসজিদুন্নবী (সাঃ) মসজিদের কার্পেটের ওপরে সিজদা করতে নিষেধ নেই এবং মোহর রাখা জায়েজ নয়। আর যেখানে পাথর আছে সেখানেই সিজদা করার আবশ্যকতাও নেই। তদ্রূপ নিজের সাথে চাটাই কিম্বা অনুরূপ কিছু বহন করে নিয়ে যাবারও প্রয়োজন নেই। কিন্তু যদি মেনে চলতে গিয়ে অবমাননার কারণ না হয় এবং জায়নামায হিসেবে চাটাই সঙ্গে নিয়ে যায় এবং তার ওপর নামায পড়ে এমনভাবে যা অন্যান্য মুসলমানের কাছেও প্রচলিত, তাহলে অসুবিধা নেই। তবে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে যে, এমন সব কাজ থেকে যেন বিরত থাকে, যা অবমাননাকর এবং অন্যদের অঙ্গুলি ইশারার পাত্রে পরিণত করে।

(সূত্র :হজ্ব নির্দেশিকা, সংকলনেঃ মোহাম্মদ হুসেইন ফাল্লাহযাদেহ)

Related posts

হজ্ব

হজ্ব

হজ্ব

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More