বিপ্লবের নেতা, মাহ্দাভিয়্যাতের প্রতি বিশ্বাসকে জাতির হৃদয়সমূহে বিবর্তন আনা ও আশা জাগিয়ে তোলার উৎস জ্ঞান করেন এবং সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, শত্রুরা চেষ্টায় রয়েছে যাতে আন্দোলনের এই মোটর বা ইঞ্জিনকে মাদকদ্রব্য ও নিদ্রা আনায়নকারী দ্রব্যে রূপান্তর করতে পারে। তারা বলে: “তিনি আগমন করেই সব কিছু ঠিক করবেন!” এটা প্রকৃতপক্ষে আক্বিদা বিশ্বাসকে নষ্ট করার নামান্তর। তাহলে বর্তমানে আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য কী?
ক্ষেত্র তৈরী করা আপনার উচিৎ যাতে সেই মহান ইমাম (আ.ফা.) ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব আগমন করতে পারেন এবং সেই প্রস্তুতকৃত ক্ষেত্রে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন; শূন্য থেকে তো আর শুরু করা যায় না! সেই সমাজই প্রতিশ্রুত মাহদীর (আমাদের প্রাণ তাঁর জন্যে উৎসর্গিত হোক।) আপ্যায়ন করতে সক্ষম হবে যার প্রস্তুতি ও উপযুক্ততা থাকবে, অন্যথা অতীত ইতিহাসের সুদীর্ঘ সময় ধরে আগমন করা আল্লাহর নবী ও ওলিগণের ন্যায় হবে। কোন এমন কারণ ছিল যে, অনেক মহান ও উলুল আজম নবী-রসুল (আ.) পৃথিবীতে আগমন করার পরও এই পৃথিবীকে মন্দ ও অশ্লীল কার্য থেকে পবিত্র করতে সক্ষম হননি? কারণ, তাঁদের নিমিত্তে ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়নি। যুগের ইমাম (আ.ফা.) যদি এক অপ্রস্তুত পৃথিবীতে আগমন করেন তাহলে অবস্থা তাই দাঁড়াবে! কাজেই তাঁর আগমনের জন্যে প্রস্তুতি থাকা উচিৎ। কিন্তু এই প্রস্তুতি কেমন হবে? এই প্রস্তুতি তেমন হওয়া উচিৎ যার নমুনাসমূহ আপনারা আপনাদের সমাজে প্রত্যক্ষ করছেন। বর্তমানে ইসলামী ইরানে এমন সব বিষয় আধ্যাত্মিক উজ্জ্বলতায় ভাস্বর হয়ে রয়েছে যা পৃথিবীর আর কোথাও বিদ্যমান নেই। আজ পৃথিবীর কোন্ এমন স্থানে এমন সব তরুণ খুঁজে পাওয়া যাবে যারা প্রবৃত্তি ও বস্তুগত চাহিদার প্রতি পদাঘাত করে আধ্যাত্মিকতার প্রতি এগিয়ে যাবে? এটাও বলা যেতে পারে যে, আমাদের দেশের নারীরা পৃথিবীর সকল নারীর চেয়ে শ্রেয়তর। কাজের সময় উপস্থিত হলে তারা রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। জিহাদ বা সংগ্রামের সময় হলে তারা নিজেদের সন্তানদেরকে স্বহস্তেই যুদ্ধের ময়দানে প্রেরণ করেন। গৃহপরিচালনা ও সন্তানসন্ততি লালন-পালনের সময় উপস্থিত হলে তারা ভদ্রোচিতভাবে গৃহের দেখা-শুনায় আত্মনিয়োগ করেন। এসব বিষয় পৃথিবীতে খুবই নজিরহীন। এসবের অত্যন্ত মূল্য রয়েছে। এগুলোই হচ্ছে ইসলামের লালন- পালন ব্যবস্থা। এসব আমাদের আশার সঞ্চার করে। সুতরাং, বিভিন্ন ক্ষেত্রকে প্রস্তুত করা সম্ভব।
সূত্র : আশার সোনালী কিরণ (মূল : সৈয়দ হুসাইন ইসহাকী অনুবাদ : ড.এম.এ. কাইউম )