সূরা সাফফের তাফসীর

ইসলাম থেকে দূরে সরে আসাই মুসলমানদের দূর্ভাগ্য ও দূর্ভোগের কারণ
আমি আপনাদের উদ্দেশ্যে নিবেদন করি, হে আমার ভ্রাতাগণ! আমরাও আজ তাদের -বনি ইসরাইলের- ন্যায় হতে যাচ্ছি। আপনারা খুব ভালভাবেই অবহিত আছেন যে, মহান আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে অপরিসীম নেয়ামতে সমৃদ্ধ করেছেন। হযরত মুহাম্মাদের (সা.) ন্যায় সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম রাসূলকে প্রেরণ করেছেন, ইসলামের ন্যায় পূর্ণাঙ্গ ধর্ম বা জীবন ব্যবস্থা দান করেছেন এবং কালের আবর্তে অনেক শক্তিশালী রাষ্ট্র ক্ষমতা ও হুকুমতের অধিকারী করেছেন। কিন্তু তারা বনি ইসরাইলের ঘটনাপ্রবাহ থেকে যথার্থ শিক্ষা গ্রহণ করে নি। মুসলমানরা বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় ও ব্যাধি থেকে নিজেদেরকে নিরাপদ রাখে নি। কাজেই তারা শতাব্দীর পর শতাব্দী অবজ্ঞা, অবহেলা এবং লাঞ্ছনা-বঞ্চনার শিকার হয়েছে। যার কিছু নমুনা বর্তমান সময়েও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষত যে বনি ইসরাইলকে পবিত্র কুরআনে এত অধিক তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করা হয়েছে; বর্তমানে সেই অভিশপ্ত সম্প্রদায়ই এক অবৈধ ও দখলীকৃত রাষ্ট্র গঠন করে লক্ষ লক্ষ মুসলমানদেরকে নিজেদের ভূ-খণ্ড থেকে বিতাড়িত করেছে। প্রকৃতপক্ষে জায়নবাদিরা ফিলিস্তিনের অসহায় মুসলমানদের সব কিছুকে গ্রাস করে ফেলেছে।
ইহুদিবাদী ইসরাইল আজ মধ্যপ্রাচ্যের কোটি কোটি মুসলমানের অধিকার বিনষ্ট করে তাদের উপর দখলদারিত্ব বজায় রেখে নিজেদের অবৈধ বসতি ও একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। এক সময় এ অঞ্চলের মুসলমানরাই এসব ইহুদিদের জায়গা দিয়ে তাদেরকে সাহায্য ও সহযোগিতা করেছিল। তাদের প্রতি বদান্যতা ও দয়া দেখিয়েছিল। কিন্তু সেই ইহুদি গোষ্ঠীই আজ তাদের প্রতি মুসলমানদের মহানুভবতার কথা ভুলে মুসলিম নিধনে মত্ত হয়ে পড়েছে। ইহুদিদের বর্বরতা ও নৃশংসতার অন্যতম নমুনা হচ্ছে ছাবরা ও শাতিলার হত্যাযজ্ঞ। এছাড়া মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ ও বিভক্তি ছড়িয়ে দেয়া, মুসলিম জাতিসমূহের মধ্যে অনৈক্য, ফিৎনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি করা, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিস্তার সাধন, এ অঞ্চল মুসলিম দেশগুলোর উপর অব্যাহত সামরিক ও রাজনৈতিক অধিপত্য বজায় রাখা এবং সরকার প্রধানদেরকে মার্কিন লেজুড়বৃত্তিতে বাধ্য করা প্রভৃতি হচ্ছে বর্তমান সময়ে জায়নবাদি ইসরাইলের সীমাহীন অপরাধের অংশবিশেষ।
মুসলমানদের গাফিলতি ও উদাসীনতা, ইসলামের বিধানাবলির প্রতি অবজ্ঞা ও উপেক্ষা এবং কুরআন প্রদত্ত খোদায়ী দিকনির্দেশনা মেনে না চলার কারণে তারা আজ বনি ইসরাইলের পরিণতির শিকার হয়েছে। আজ বিশ্বের সর্বত্র মুসলিম জাতি বনি ইসরাইলের ন্যায় চরম লাঞ্ছনা, দূর্ভাগ্য, অবজ্ঞা ও অপমানের জাতিতে পরিণত হয়েছে। ইসলামের শিক্ষা ও আদেশাবলি না মানার কারণে মুসলমানরা দিন দিন ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অপরদিকে যে সব মুসলমান ইসলামের শাশ্বত বিধানাবলি মান্য করে চলছে; যেমন- ইরানি জাতি ইসলামের বিধানাবলি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সম্মান অর্জনে সক্ষম হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ইরানি জাতি আজ যে সম্মান ও মর্যাদার আসনে সমাসীন হতে পেরেছে, তা ইরানের ইতিহাসে কখনও ছিল না। সব সময় দখলদাররা ইরানের উপর নিজেদের সভ্যতা চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করেছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, অতীতকাল থেকেই ইরান ভূ-খণ্ডে খ্যাতনামা ও শাসকশ্রেণী তারাই ছিলেন যারা হয় পশ্চিমা (রোম সাম্রাজ্য) থেকে এসেছেন নতুবা দূর ও নিকট প্রাচ্যের অঞ্চলসমূহ থেকে এ দেশে এসে হুকুমত পরিচালনা করেছেন। ইসলাম অভ্যূদয়ের আগে ও পরে ইরান ভূ-খণ্ডের শাসকদের পরিচয় বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।

Related posts

সূরা সাফফের তাফসীর

সূরা সাফফের তাফসীর

সূরা সাফফের তাফসীর

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More