অনুবাদ- মোঃ হোসাইন কাদীর গাজী, ছাত্র, ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র, খুলনা
যুগের ইমামের (আঃ) সাহায্য পাওয়ার জন্য আত্মশুদ্ধি অত্যাবশ্যকীয়।
আয়াতুল্লাহ বেহজাত (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, তেহরানে একজন আধ্যাত্মিক শিক্ষক ছিলেন। যিনি “লোমাতাঈন” বিষয়ে পাঠদান করতেন। তিনি খেয়াল করলেন যে, তার একজন ছাত্র পড়ালেখায় খুব একটা ভালো ছিলো না, তবে তার সমস্ত কাজ তুলনামূলকভাবে অসাধারণ ছিলো।
একদিন শিক্ষকের একটি ছুরি (এমন ছুরি যেটি কলম তৈরির কাজে ব্যবহার করা হতো) হারিয়ে যায়, যেটি তার খুব পছন্দের ছিলো।
তিনি ছুরিটি কোনোভাবেই খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এবং কল্পনা করে দেখেন যে, এখানে বাচ্চাদের আনা হয়েছিল, হয়তোবা তারা এটি সরাতে পারে। তাই তিনি বাচ্চা ও পরিবারের উপর ক্রধান্বিত হলেন। এভাবে কিছুসময় অতিবাহিত হলো। তবে তিনি তার ছুরিটি খুজে পেলেন না। তাই কিছুতেই তার ক্রোধেরও অবসান হচ্ছিল না।
একদিন সেই ছাত্রটি ক্লাস শেষে শিক্ষককে বললো- “ওস্তাদ, আপনি আপনার ছুরিটি আপনার পুরানো কোটির পকেটে রেখেছিলেন এবং পরে তা ভুলে গিয়েছিলেন, এখানে বাচ্চাদের কী কোনো দোষ আছে বলেন !!!”
ভদ্রলোকের স্মরণে আসলো এবং তিনি অবাক হয়ে গেলেন এই ভেবে যে, উক্ত ছাত্র এটি কিভাবে জানলো।
তখন তিনি নিশ্চিত হলেন যে, ছাত্রটির সাথে নিশ্চয়ই কোনো আল্লাহর ওলির সম্পর্ক রয়েছে।
একদিন তিনি উক্ত ছাত্রকে বললেন- “ক্লাস শেষে তোমার সাথে আমার কিছু কাজ আছে।”
শিক্ষক তাকে একাকি ডেকে বললেন- “হে প্রিয়, এটা নিশ্চিত যে তুমি বিশেষ কারো সাথে সম্পর্কিত। অনুগ্রহপূর্বক আমাকে বলো, তুমি কি ইমামে জামানের খেদমতে নিয়োজিত?”
শিক্ষক বলার জন্য জোর করলেন এবং ছাত্র বাধ্য হয়ে সমস্ত ঘটনা তাকে খুলে বললো।
শিক্ষক বললেন- “হে প্রিয়, এবার যখন তার সাথে দেখা করবে আমার সালামকে তার নিকট পৌছায়ে দিবে এবং বলবে, যদি তিনি উপযুক্ত মনে করেন তাহলে আমি (একজন নগন্য ব্যক্তি) তাকে একবার দেখতে চাই।”
কিছুদিন কেটে গেলো তবে ছাত্র এখনো কোনো উত্তর দেইনি।
শিক্ষকও নিজে থেকে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জাবোধ করছে এই ভেবে যে, যদি উত্তরটি না সূচক হয়।
কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পর শিক্ষক ধৈর্যহারা হয়ে নিজেই ছাত্রকে জিজ্ঞাসা করলেন- “হে প্রিয়, তিনি আমার বার্তাটি শুনেন নি?”
তিনি (শিক্ষক) দেখলেন যে, ছাত্রটি কালক্ষেপন করছে।
শিক্ষক বললেন- “হে প্রিয়, লজ্জিত হয়োনা, তিনি যা বলেছেন তা এই অধমকে বলো। কেননা, তুমি এখানে শুধুমাত্র একজন বাণী প্রেরণকারী বা বার্তাবাহক। (রাসুলের দায়িত্ব ছিলো শুধুমাত্র বার্তা পৌছে দেওয়া।)
ছাত্রটি অত্যন্ত দুঃখের সাথে বললো যে, তিনি (ইমামে জামান) বলেছেন- “এটা প্রয়োজন নেই যে আমি তোমার সাথে কয়েক মিনিট সাক্ষাৎ করি, বরং যদি তুমি নিজের নাফসকে পরিশুদ্ধ করো তাহলে আমি নিজেই তোমার নিকট আসবো।”###