আত্মাহংকারের নিন্দা এবং সৎ কর্মের পুরস্কার ও অসৎ কর্মের শাস্তি
“যে নিজের ওপর সন্তুষ্ট (আত্মতৃপ্ত) তার প্রতি অসন্তুষ্ট লোকের সংখ্যা অনেক, সদকা (দানশীলতা) আরোগ্য দানকারী ঔষধ, পৃথিবীতে বান্দাদের কর্মসমূহ কিয়ামতের দিন তাদের চোখের সামনে থাকবে।”
ব্যাখ্যা: ইবনে মাইসাম বলেন: আত্মতৃপ্ত ব্যক্তির প্রতি অধিকাংশ মানুষ অসন্তুষ্ট থাকার দু’টি কারণ হতে পারে।
প্রথমতঃ আত্মতৃপ্ত ব্যক্তি অন্যদের চেয়ে নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করে এবং তাদের মধ্যকার ত্রুটিগুলোকেই শুধু লক্ষ্য করে। ফলে তাদের উপর নিজের অধিকারকে প্রাধান্য দেয় এবং হেয় জ্ঞান করে তাদের অধিকার খর্ব করে। যে কারণে তারা তার উপর ক্রোধান্বিত হয়।
দ্বিতীয়তঃ এরূপ ব্যক্তি যেহেতু তার মধ্যে বিদ্যমান পূর্ণতার বৈশিষ্ট্যগুলোকে অতিরঞ্জিত রূপে দেখে এবং তার মধ্যে যেসব ত্রুটি রয়েছে সেগুলো উপেক্ষা করে, ফলে সে নিজেকে অন্যদের উপর স্থান দেয়। কিন্তু অন্যরা তাকে তার ত্রুটি-বিচ্যুতিসহ মূল্যায়ন করে। ফলে তারা তাকে বাস্তবে যেরূপ ঠিক সেরূপেই দেখে। তাই এক্ষেত্রে তার আত্মম্ভরিতা অন্যদেরকে তার উপর ক্রোধান্বিত করে। দানশীলতা অন্যের দুঃখ-কষ্টে দাতার অংশীদারীত্বের প্রমাণ যা তাদের মনকে দাতার প্রতি আকৃষ্ট করে। অন্যদিকে দান আল্লাহ্র প্রতি দাতার ভালবাসারও নিদর্শন যা তার থেকে রোগ-ব্যাধি দূর হওয়ার কারণ হয়ে থাকে। এ জন্যই রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমাদের অসুস্থদের সদকা প্রদান করার মাধ্যমে চিকিৎসা কর। মানুষ যতদিন পৃথিবীতে জীবিত থাকে, ভাল ও মন্দ কর্মের ছাপ তার আত্মায় পড়তে থাকে এবং ক্রমশ তা স্থায়িত্ব লাভ করে তার সত্তার সঙ্গে মিশে যায়। বস্তুজগতে তা আবৃত অবস্থায় থাকে ঠিকই, কিন্তু আত্মা বিচ্ছিন্ন হয়ে অবস্তু জগতে প্রবেশ করলে তার প্রকৃত রূপ মানুষের সামনে ফুটে উঠবে। যেমনটি আল্লাহ্ পবিত্র কোরআনে বলেছেন: “আমরা তোমার (চোখের) উপর থেকে তোমার পর্দা সরিয়ে দিলাম, ফলে আজ তোমার দৃষ্টি অতিশয় তীক্ষ্ণ হয়েছে। ( সূরা : ক্বাফ আয়াত ২২ )
“যেদিন প্রত্যেক আত্মা যেসব উত্তম কাজ করেছে তা নিজের সামনে উপস্থিত দেখতে পাবে।” (সূরা: আলে ইমরান, ৩০তম আয়াত।)
সূত্র: কালেমাতে কেসার