উপরোক্ত আলোচনার আলোকে প্রসঙ্গতঃ আমাদের পূর্বপুরুষগণের ইসলামী সংস্কৃতিতে আল্লাহর যিকরের স্থানের প্রতি আমরা এক নজর দিব এবং এর মূল্য ও গুরুত্ব হৃদয়ংগম করার চেষ্টা করব:
আমাদের ঈমানদার পিতা-মাতাগণ বিস্ময়ের সময় বলতেন: “মাশাআল্লাহ্”, “সুব্হানাল্লাহ্”; বাড়িতে প্রবেশ করার সময় বলতেন: “ইয়া আল্লাহ্”; একে অপরের নিকট হতে বিদায় নেওয়ার সময় বলতেন: “খোদা হাফেয”; কোনো স্থান হতে উঠে দাঁড়ানোর সময় বলতেন: “ইয়া আলী”; কাজের ক্লান্তি দূর করার জন্যে বলতেন: “খোদা কুওয়াত”; কুশলাদি জিজ্ঞাসার উত্তরে বলতেন: “আল্হাম্দু লিল্লাহ্”; খাবারে আহ্বানের সময় বলতেন: বিসমিল্লাহ” এবং খাওয়ার শেষে দস্তরখানের দোয়া ও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতেন।
দাদী-নানীরাও অনুরূপভাবে কাহিনী বলা শুরু করতেন: “একদা, এক সময়, অনেক অনেক দিন আগের কথা যখন আল্লাহ ছাড়া আর কেউ ছিল না।”
উল্লেখ্য যে, এ উক্ত পরিবেশে শ্বাস-প্রশ্বাস এবং এ শরীরের প্রশিক্ষণ, সবসময় ও সবস্থানে অন্তরসমূহে আল্লাহর স্মরণ এবং তাঁর নামকে মুখে মুখে জারী করিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু আমাদের উপর দিয়ে এমন এক কালো সময় অতিক্রম করে গেছে যে, আল্লাহর নাম ভুলে যাওয়াসহ শহরের অলি-গলিতে এমনকি পোশাকাদির উপরে পশ্চিমা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ছবি এবং পশ্চিমা সংস্কৃতি সমপূর্ণরূপে প্রভাব বিস্তার করেছিল। কিন্তু ইসলামী বিপ্লবের ছায়াতলে পুনরায় শহরগুলির অলি-গলিতে, রাজপথসমূহে ও সাইনবোর্ডগুলোতে আল্লাহর যিকরের ছাপ পড়েছে।