আল্লাহ থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণেই মানুষ শয়তানের কবলে পড়ে

যারা আল্লাহর কর্তৃত্ব ও শাসন থেকে নিজেদের মুক্ত করতে চেয়েছিল পরিণতিতে তারাই আবার অত্যাচারী, তাগুত, নিপীড়ক, নিকৃষ্ট ও অধম লোকদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। আর এহেন অবস্থা ঐ লোকদের জন্য যারা ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় এবং আমাদের বর্তমান সময়ে মহান আল্লাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। যারা আল্লাহর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তারা দরিদ্র জাতি হোক বা ধনী জাতি, তথাকথিত সভ্য হোক কিংবা পশ্চাদপদ কিংবা তৃতীয় বিশ্বের, বস্তুত তারা আল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাতে বন্দি হয়ে পড়েছে। আল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী বা প্রতিপক্ষ কারা? তারা হচ্ছে মানবজাতির মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও অধম ব্যক্তি। যেসব জাতি আল্লাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, পরিণতিতে তারা তাদের কথিত নেতা, জালিম শাসক ও রাজাদের কবলে বন্দি হয়ে পড়েছে— যারা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে অযোগ্য, অধম ও ঘৃণিত ব্যক্তি হিসেবে গণ্য। এ কথিত নেতারা নিজেরাই আবার তাদের থেকে ক্ষমতাধর ও বলদর্পী গোষ্ঠীর সেবা ও তোষামোদি করে। হ্যাঁ, তারা স্বীয় জাতির সামনে নিজেদেরকে দাম্ভিক ও শক্তিধর হিসেবে তুলে ধরলেও তাদের কথিত প্রভু ও মোড়লদের সামনে অত্যন্ত বিনয়ী ও বিনম্র থাকে।
একই প্রভুরা আবার অন্যদের দাস। আপনি কি মনে করেন যে, আজ বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোতে যাঁরা শাসন করেন বা রাষ্ট্রপতি হন তাঁরা কি স্বাধীন কিংবা তাঁদের উপর তাঁদের থেকে ক্ষমতাধরদের কি কোনো কর্তৃত্ব নেই? না, আদৌ না; বরং তাঁরা নিজ দেশের শাসক কিংবা রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য বহুজাতিক কোম্পানি ও কর্পোরেশনের প্রধান, পুঁজিপতি ও ইহুদিবাদী জোটের অনবরত তোষামোদ ও লেজুড়বৃত্তি করে থাকেন। একইভাবে আপনি আরও লক্ষ্য করবেন যে, সেই পুঁজিপতিরাও তাদের চেয়ে ক্ষমতাধরদের দাসত্ব করে। মোটকথা হচ্ছে, যারা সর্বশক্তিমান আল্লাহর বন্দেগি ও দাসত্ব ত্যাগ করবে তারা তাগুত, জালিম ও বলদর্পী অশুভ শক্তির দাসত্ব গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।

Related posts

সূরা তাগাবুনের তাফসীর

সূরা তাগাবুনের তাফসীর

সূরা তাগাবুনের তাফসীর

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More