ইমাম জাওয়াদ (আ.) ইয়াহিয়া বিন আকসামের নিকট ফিকাহ সংক্রান্ত বিষয়ে যে প্রশ্ন করেছিলেন, তা তার জ্ঞানের গভীরতা ও বিচারিক ক্ষমতা নিরূপণের উদ্দেশ্যেই সম্পন্ন হয়েছিল। যদিও এমন প্রশ্ন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কিন্তু যদি বিচারক এ প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দানে সক্ষম হয়, তবে তা তার ফিকাহ ও বিচার জ্ঞানের গভীরতার প্রমাণ বহন করবে।
ইমাম জাওয়াদ (আ.): জনাব ইয়াহিয়া বিন আকসাম!
১. এক ব্যক্তি প্রত্যুষে কোন নারীর প্রতি দৃষ্টিপাত করে, তার এ দৃষ্টি হারাম হিসেবে গণ্য।
২. সকাল হওয়ার পর উক্ত নারী তার জন্য বৈধ হয়।
৩. দুপুরে সে নারী আবার তার জন্য হারাম হয়ে যায়।
৪. বিকালের দিকে পুনরায় উক্ত নারী সে পুরুষের জন্য বৈধ হয়।
৫. সূর্যাস্তের সময় সে নারী তার জন্য হারাম হিসেবে গণ্য হয়।
৬. আবার এশার ওয়াক্তের সময় বৈধ হয়।
৭. মধ্যরাতে তারা পরস্পরের জন্য হারাম হয়ে যায়।
৮. ভোরের দিকে আবার বৈধ হয়।
এখন আপনি বলুন যে, এ নারী কেন ও কিভাবে একবার হালাল এবং আবার পুনরায় হারাম হয়?
ইয়াহিয়া বিন আকসাম: এ প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই। যদি সম্ভব হয় তাহলে আপনিই তা বলুন।
ইমাম জাওয়াদ (আ.) তখন (স্বল্প বয়সী হওয়া সত্বেও) উক্ত প্রশ্নের অত্যন্ত বিজ্ঞজনোচিত জবাব দিলেন:
উক্ত নারী একজনের দাসী ছিল এবং দিনের শুরুতে অন্য পুরুষের তার প্রতি দৃষ্টিপাত শরিয়াতের বিধানানুযায়ী হারাম।
সকালের দিকে জনৈক ব্যক্তি সে দাসীকে ক্রয় করে, ফলে তার জন্য বৈধ হয়।
দুপুরের সময় তাকে মুক্তি দেয়, ফলে উক্ত নারী তার জন্য হারাম হয়ে যায়।
বিকালে সে নারীর সাথে তার বিবাহ হয়, ফলে সে তার জন্য বৈধ হয়।
সূর্যাস্তের সময় পুরুষটি তাকে ইজহার (এমন উক্তি করা যার কারণে সহবাস হারাম হয়ে যায়) করে, ফলে সে হারাম হয়ে যায়।
এশার ওয়াক্তের সময় কাফফারা দেয়, ফলে সে নারী বৈধ হয়।
মধ্যরাতে তাকে এক তালাক দেয় এবং হারাম হয়ে যায়।
ভোরের দিকে পুরুষটি উক্ত নারীর প্রতি রুজু করে, ফলে সে পুনরায় হালাল হয়ে য়ায়।
অতঃপর খলিফ মা’মুন ইয়াহিয়া বিন আকসাম ও বৈঠকে উপস্থিত পন্ডিতবর্গের উদ্দেশ্যে বলে: তোমরা কী শরিয়াতের এ সুক্ষ বিধানাবলি সম্পর্কে অবহিত ছিলে? তারা সমস্বরে বলল: না, আমরা ইতিপূর্বে কখনও শরিয়াতের বিধানাবলি সম্পর্কে এমন গভীর চিন্তা করি নি।