ইমাম মাহদীর (আ.) স্বল্পকালীন অন্তর্ধানকালে কেউ কেউ তাঁর সাথে সরাসরি যোগাযোগের দাবি উত্থাপন করে; কিন্তু ইমামের (আ.) পক্ষ থেকে তাদের উক্ত দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়। এমন দাবি উত্থাপনকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল,
১. আহমাদ বিন হেলাল কারখি
২. হুসাইন বিন মানসুর হাল্লাজ
৩. মুহাম্মাদ বিন আলী শালমাগানী; যিনি ইবনে আবি আজাকের নামে প্রসিদ্ধ হুসাইন বিন রুহের মাধ্যমে প্রেরিত ইমাম মাহদীর (আ.) চিঠিতে তাদের প্রত্যেকের দাবিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়েছে।
সুতরাং আমরা এখন ইমাম মাহদীর (আ.) স্বল্পকালীন অন্তর্ধানকালে স্বয়ং ইমাম (আ.) কর্তৃক মনোনীত খাস বা বিশেষ প্রতিনিধিদের সাথে পরিচিত হব। ইমামের (আ.) স্বল্পকালীন অন্তর্ধানকাল ২৬০ হিজরী থেকে শুরু এবং ৩২৯ হিজরী পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এ সময়ে তাঁর খাস প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শিয়াদের সাথে পরোক্ষ যোগাযোগ বহাল ছিল। এখন আমরা ইমাম মাহদীর (আ.) চার জন খাস প্রতিনিধির পরিচয় যথাক্রমে তুলে ধরব:
১. আবু আমরু উসমান বিন সাঈদ আমরী (রা.)
তিনি সর্বপ্রথম ইমাম হাদীর (আ.) খাস প্রতিনিধি ছিলেন। অতঃপর ইমাম হাসান আসকারীর (আ.) বিশেষ প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব পালন করেন। উভয় ইমামের (আ.) জীবদ্দশায় তিনি ইমাম (আ.) ও শিয়াদের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে ছিলেন। ইমাম হাসান আসকারীর (আ.) শাহাদতের পর তাঁর পুত্র সর্বশেষ মাসুম ইমাম তথা ইমাম মাহদীর (আ.) পক্ষ থেকে খাস প্রতিনিধি হিসেবে মনোনিত হন। এ সময় তিনি ইমামের (আ.) উদ্দেশ্যে লিখিত শিয়াদের পত্রসমূহ তাঁর নিকট হস্তান্তর এবং সেগুলোর জবাব গ্রহণ করতেন।
২. আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন উসমান আমরী (রা.)
তিনি উসমান বিন সাঈদের পুত্র। তার পিতার ইন্তেকালের পর তিনি ইমাম মাহদীর (আ.) খাস প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার ইন্তেকালের পর তৃতীয় খাস প্রতিনিধির দায়িত্বকাল শুরু হয়।
৩. আবুল কাসেম হুসাইন বিন রুহ (রা.) তিনি সম্ভ্রান্ত বনি নৈবাখত বংশের সদস্য। তিনি ইমাম মাহদীর (আ.) তৃতীয় খাস প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হন।
৪. আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ সামারী
তৃতীয় খাস প্রতিনিধির ইন্তেকালের পর আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ সামারী চতুর্থ এবং সর্বশেষ খাস প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ হয়ে পড়লে শিয়ারা তাকে অনুরোধ করে যে, তার পর ইমাম মাহদীর (আ.) সাথে যোগাযোগের পরবর্তী প্রতিনিধিকে তাদের মাঝে পরিচয় করিয়ে দিতে। তিনি ইমামের (আ.) নিকট তাদের এ অনুরোধ উত্থাপনের পর; স্বয়ং ইমাম (আ.) প্রতি উত্তরে যে জবাব দেন, তা আমরা নিচে পাঠকদের জ্ঞাতার্থে তুলে ধরছি,
হে আলী বিন মুহাম্মাদ সামারী! আল্লাহ তোমার ওফাতের মধ্য দিয়ে তোমার ভাইদের পুরস্কারকে দ্বিগুণ করবেন। তুমি আর ছয়দিন পর ইহধাম ত্যাগ করবে। তোমার উপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করে নাও এবং তোমার পর আর কাউকে এ দায়িত্বে হস্তান্তর করবে না। কেননা দীর্ঘকালীন অন্তর্ধানের সময় শুরু হয়ে গেছে। এখন একমাত্র আল্লাহর নির্দেশ জারী হওয়ার পরই আবির্ভাব ও সাক্ষাত সম্ভব হবে। আমার এ অন্তর্ধান অনেক দীর্ঘ হবে; যখন অন্তরসমূহ শক্ত এবং পৃথিবী অন্যায় ও অবিচারে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে (তখন এ অন্তর্ধানের অবসান ঘটবে)। হয়তো কেউ কেউ আমার সাথে সাক্ষাতের দাবি তুলবে। কিন্তু সুফিয়ানের বিদ্রোহ ও আসমানী ফরিয়াদের পূর্বে যদি কেউ এমন দাবি তুলে তাহলে সে মিথ্যাবাদী। আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং তার ইচ্ছাই চুড়ান্ত।
শিয়ারা এ চিঠিটির অনুলিপি নিজেদের মাঝে বিলি করে এবং ৬ষ্ঠ দিনে আলী বিন মুহাম্মাদ সামারী’র বাড়ীতে এসে দেখে যে, তিনি মুমূর্ষু অবস্থাতে রয়েছেন। এ সময় কেউ কেউ তাকে জিজ্ঞাসা করেন: আপনার বিদায়ের পর প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব কে পালন করবে? জবাবে তিনি বলেন,
আল্লাহ তার কাজকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাবেন।