ইমাম হাসান মুজতাবা’র (আ.) দৃষ্টিতে প্রকৃত শিয়া

মহান মনিষী, হাদিস বিশারদ এবং নৈতিক শিক্ষক ‘ওয়াররাম ইবনে আবি ফারাস’ বর্ণনা করেন: এক ব্যক্তি ইমাম হাসানকে (আ.) বললেন: আপনার শিয়াদের (অনুসারীদের) মধ্যে আমি একজন। ইমাম বললেন: হে আল্লাহর বান্দা! যদি তুমি আমাদের আদেশ ও নিষেধকে মান্য কর তাহলে তুমি সত্য বলেছ এবং আমাদের শিয়া (অনুসারী)। আর যদি তুমি আমাদের আদেশ ও নিষেধকে অমান্য করে নিজেকে আমাদের অনুসারী তথা শিয়া বলে দাবি কর তাহলে এহেন অন্যায় দাবির জন্য তুমি তোমার নিজের গুনাহকেই বৃদ্ধি করলে। এ কথা বলনা যে, আমি আপনার শিয়াদের মধ্যে একজন, বরং বল, আমি আপনাদের ভক্ত এবং আপনাদেরকে ভালবাসি। এমতাবস্থায় তুমি কল্যাণ ও সৌভাগ্যের মধ্যে থাকবে এবং কল্যাণ ও সৌভাগ্যের দিকে ধাবিত হবে। ইমাম হাসান মুজতাবা (আ.) তাঁর পবিত্র বাণীর মাধ্যমে সর্বপ্রথম একজন প্রকৃত শিয়ার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সার্বিক ও মূল মানদÐকে ব্যক্ত করেছেন। আর তা হচ্ছে সম্পূর্ণরূপে তাদের অনুসরণ করা এবং তাদের আদেশ ও নিষেধকে পরিপূর্ণভাবে মান্য করা। অর্থাৎ তাঁরা যে কাজের প্রতি আদেশ করেছেন, তা পালন করা এবং যে কাজের প্রতি নিষেধ করেছেন, তা বর্জন করা। ইমাম হাসানের (আ.) এ উক্তিতে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। আর তা হচ্ছে, যদি কোন ব্যক্তি প্রকৃত শিয়া না হয়ে থাকে এবং সম্পূর্ণরূপে আহলে বাইতকে (আ.) অনুসরণ না করে থাকে, তাহলে যে ব্যক্তি নিজেকে শিয়া বলে দাবী করে নিজের গুনাহকে আরও বৃদ্ধি করবে। কারণ সে এমন এক দাবী করেছে, যা পালন করে না এবং তার মিথ্যা দাবীর জন্য তার গুনাহের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং মহান আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত হবেন। পরবর্তী বিষয়টি হচ্ছে, ইমাম হাসান (আ.) ঐ ব্যক্তিকে নিজের দরবার থেকে বিতাড়িত করেন নি এবং তাকে নিরাশ বা হতাশাগ্রস্তও করেন নি। বরং তাকে সঠিক পথ পরিদর্শন করে বললেন: তুমি বলনা আমি আপনাদের একজন শিয়া, বরং বল আমি আপনাদেরকে ভালবাসি। সর্বশেষ বিষয়টি হচ্ছে, যদি ঐ ব্যক্তি এভাবেই এগিয়ে যায় তাহলে ধীরে ধীরে নবীর (সা.) পরিবারের প্রতি তার ভালবাসা আরও দৃঢ় হবে এবং সম্ভ্রান্ত মর্যাদা অর্জন করবে।

Related posts

ইসলামি শিষ্টাচার: ছোটদের স্নেহ ও বড়দের প্রতি সম্মান

ইমাম রেযা’র (আ.) জ্ঞানপূর্ণ ব্যক্তিত্ব

প্রতিবেশীর অধিকার: সামাজিক সম্প্রীতি

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More