অনুবাদ : মোঃ হোসাইন কাদীর গাজী
ছাত্র, ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র, খুলনা
আয়াতুল্লাহ আল উযমা সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ কাযেম তাবাতাবায়ী ইয়াজদী হলেন “ওরওয়াতুল উসকা” গ্রন্থের লেখক। তিনি তার নিজের জন্য এক টুকরো কাফন কিনলেন।
তিনি নাজাফে আমিরুল মুমিনীন ইমাম আলী (আঃ) এর মাজারে গিয়ে উক্ত কাফনের উপর সমস্ত কোরআন লিখলেন, অতঃপর কারবালায় গিয়ে সাইয়্যেদুশ শোহাদা ইমাম হোসাইন (আঃ) এর মাজারে গিয়ে কাফনের চারপাশে কারবালার মাটি দ্বারা যিয়ারাতে আশুরা লিখলেন।
তিনি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য ইয়াজদ শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন এবং ইয়াজদ সফরে কাফনটি নিজের সাথে নিয়ে গেলেন।
ইয়াজদে আগমনের প্রথম রাত্রে তার মেয়ের বাড়িতে বিশ্রাম নিলেন।
স্বপ্নে ইমাম হোসাইন (আঃ) তার কাছে আসলেন এবং বললেন:- আমাদের একজন ভক্ত মারা গেছেন এবং ইয়াজদ কবরস্থানে কাফন দেওয়ার অপেক্ষায় আছেন। আমি চাই যে, এই কাফনটি তাকে দেওয়া হোক।
তিনি ঘুম থেকে জেগে উঠলেন এবং আবার ঘুমালেন। কিন্তু পূর্বের সেই একই স্বপ্ন পুনরায় দেখলেন।
তিনি পোশাক পরে ইয়াজদ কবরস্থানে গিয়ে দেখলেন যে “কারিমে সিয়াহ” নামে একজন লোক মারা গেছে, তাকে গোসল দিয়ে পাথরের উপর শুইয়ে রাখা হয়েছে এবং কাফনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
তাদের নিকট পৌছানো মাত্রই তারা বলে উঠলো:- কাফন এসে গেছে।
আয়াতুল্লাহ ইয়াজদী তাদের নিকট জিজ্ঞাসা করলেন:- আপনারা কারা?
তারা বললেন:- একই ভদ্রলোক যিনি আপনাকে কাফন আনার নির্দেশ দিয়েছেন, তিনিই তাকে (মৃতব্যক্তি) এখানে দাফন কাফন বা সমাধিস্থ করার জন্য আমাদেরকে আদেশ করেছেন।
আয়াতুল্লাহ ইয়াজদী জিজ্ঞাসা করলেন:- এই ব্যক্তিটি কে?
তারা জবাব দিলেন:- ইনি কারিম সিয়াহ নামে একজন সাধারণ ব্যক্তি। তবে তিনি ইমাম হোসাইন (আঃ) এর আশেক (প্রেমিক) ছিলেন। যেখানেই ইমাম হোসাইন (আঃ) এর নামে মজলিস অনুষ্ঠিত হতো তিনি কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই সেখানে উপস্থিত হতেন।
এখানে একটা বিষয় স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে যে, কারিম সিয়াহ নামের ব্যক্তিটি ইমাম হোসাইন (আঃ) এর আযাদারীতে উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে এমন হোসাইনী চরিত্র গঠন করেছিলেন যে, সর্বাবস্থায় ইমামের বিশেষ অনুগ্রহের অন্তর্গত হয়ে গিয়েছিলেন।
তথ্যসূত্র- জোরয়েই আয কারামাতে ইমাম হোসাইন (আঃ)।###
