৩রা শাবান মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)’র দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (আ.)-এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী ট্রাস্ট এর উদ্যোগে খুলনায় এক বিশেষ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৩রা শাবান, ২২ জানুয়ারী ২০২৬ইং (বৃহস্পতিবার), বাদ মাগরিব এ মাহফিলের সূচনা হয় পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত এর মাধ্যমে।
মাহফিলে বিশেষ অতিথি বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ সম্মিলিত ওলামা কেরামের সভাপতি মাও. ইব্রাহিম ফায়জুল্লাহ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, হযরত মোহাম্মদের (সা.) কলিজার টুকরা হযরত হাসান ও হোসেন (রা.) এর সাথে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর শরীর এবং চেহারার মিল ছিল। আজকের পৃথিবী এমন একটি জায়গায় এসেছে যেটা স্পষ্ট হওয়ার সময় এসেগেছে। শেবে আবুতালিবের মত কোণঠাসা করে একঘরে রেখেছিল ঠিক একই রকম পরিস্থিতিতে ইরানকে কোণঠাসা করে সারাবিশ্ব অপশক্তিকে পক্ষপাতিত্ব করে যাচ্ছে। ইসলামের ইতিহাসে যত মন্দ কার্যকলাপ সংঘটিত হয়েছে আমির মোয়াবিয়া প্রচলনায় তা শুরু করেছিল যেটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। আমার চিন্তা, আকিদা, মোহাব্বত, আদর্শ কোনদিকে আছে এজিদের চিন্তার দিকে নাকি হোসাইনের চিন্তার দিকে সেটা এখন মিলাই নিতে হবে।
মাহফিলে ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষক আব্দুল লতিফ বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) যেদিন তাঁর এই দৌহিত্রের জন্মের আনন্দ সংবাদ শোনে সেদিন তিনি তাঁর স্নেহাস্পদ কন্যার বাড়িতে যান এবং নবজাতককে কোলে তুলে নেন। তিনি শিশু হোসাইনকে ডান ও বাম কানে যথাক্রমে আযান ও ইকামত দেন এবং আল্লাহ তাআলার নির্দেশ মোতাবেক তাঁর নাম রাখেন আল হোসাইন।
মাহফিলে ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহিম খলিল রাজাভী বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ইমাম হোসাইন (আ.) প্রত্যেক যুগে হকের পক্ষে অবস্থান এবং বাতিলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। ইসলাম রসুলুল্লাহ (সা.) এর উপর পরিপূর্ণতা লাভ করে। রসুলুল্লাহ (সা.) এর ইন্তেকালের পর ইসলাম বিকৃতি হবেনা তা কি কারণ আছে সেই জন্য শরীয়ত সুরক্ষিত রাখার জন্য রেসালাতের পর আমাদের বিশ্বাস সেটা হচ্ছে বেলায়াতে আহলে বায়েত দ্বীন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। রাসুলুল্লাহর হালাল কেয়ামত পর্যন্ত হালাল এবং হারাম কেয়ামত পর্যন্ত হারাম রাখার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে আহলে বায়েত (আ.) এর উপর।
হযরত ইমাম হোসাইন (আ.) ছিলেন সম্মান, দয়া, বীরত্ব, শাহাদত, মুক্তি ও মহানুভবতার আদর্শ। তাঁর আদর্শ মানবজাতির জন্য এমন এক ঝর্ণাধারা বা বৃষ্টির মত যা তাদের দেয় মহত্ত্বম জীবন, গতি ও আনন্দ। মানুষের জীবনের প্রকৃত মর্যাদা ও প্রকৃত মৃত্যুর সংজ্ঞাকে কেবল কথা নয় বাস্তবতার মাধ্যমে দেখিয়ে দিয়ে অমরত্ব দান করে গেছেন এই মহাপুরুষ। বিশেষ করে আল্লাহর পথে সর্বোচ্চ ত্যাগ ও শাহাদাতকে তিনি দিয়ে গেছেন অসীম সৌন্দর্য।
শহীদ সম্রাট ইমাম হোসাইন (আঃ) এমন এক বিশাল ব্যক্তিত্ব যে কোনো নির্দিষ্ট স্থান, কাল ও পাত্রের সাধ্য নেই তাঁকে ধারণ করার। তাই তাঁর প্রতি বিশ্ববাসীর ভালবাসা ক্রমেই বাড়ছে।
আবারও পবিত্র ৩ রা শাবান হযরত ইমাম হুসাইন (আঃ)-এর উপলক্ষে সবাইকে জানাচ্ছি প্রাণঢালা মুবারকবাদ এবং এই মহামানব, তাঁর পবিত্র বংশধর ও কারবালায় শহীদ তাঁর ৭২ সঙ্গীর প্রতি জানাচ্ছি অশেষ সালাম ও দরুদ।
এই মহতী আয়োজনে শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণ ইমাম হোসাইন (আ.)-এর শিক্ষা ও মানবতার বার্তার প্রতি তাঁদের ভালোবাসার বহি:প্রকাশ। মাহফিলের শেষে যিয়ারত, ইমামে জামান (আ.) দোয়া এবং তাবারুক বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।