কেন আমিরুল মুমিনীন (আ.) জ্ঞানকে সম্পদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলেছেন?

জ্ঞানই আসল সম্পদ: আমিরুল মুমিনীন (আ.)-এর তাত্ত্বিক দর্শন

মানব সভ্যতার বিকাশ এবং একজন মানুষের আত্মিক উন্নতির সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো জ্ঞান (ইলম)। ইসলামে জ্ঞানার্জনকে প্রতিটি মুসলিমের জন্য ফরয করা হয়েছে। কিন্তু পবিত্র আহলে বাইত (আ.)-এর শিক্ষা আমাদের দেখায় যে, ধন-সম্পদের চেয়ে জ্ঞানের মর্যাদা কেন অনেক উর্ধ্বে এবং প্রকৃত জ্ঞান আসলে কী।

সম্পদ বনাম জ্ঞান: ইমাম আলী (আ.)-এর তুলনা

আমিরুল মুমিনীন ইমাম আলী ইবনে আবী তালিব (আ.) তাঁর প্রিয় সাহাবী কুমাইল ইবনে জিয়াদকে জ্ঞান ও সম্পদের পার্থক্য বোঝাতে গিয়ে এক ঐতিহাসিক বাণী প্রদান করেছিলেন। তিনি বলেন:

“হে কুমাইল! জ্ঞান হলো ধন-সম্পদের চেয়ে উত্তম। কারণ জ্ঞান তোমাকে পাহারা দেয় (মন্দ থেকে রক্ষা করে), অথচ ধন-সম্পদকে তোমাকেই পাহারা দিতে হয়। সম্পদ খরচ করলে কমে যায়, কিন্তু জ্ঞান বিতরণ করলে আরও বৃদ্ধি পায়।” — নাহজুল বালাগা, 

এই একটি বাণীর মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, পার্থিব ধন-সম্পদ মানুষকে লোভী ও চিন্তিত করে তোলে, পক্ষান্তরে সঠিক জ্ঞান মানুষকে মুক্ত ও নিরাপদ করে।

প্রকৃত জ্ঞানের পরিচয়

ইসলামে কেবল তথ্য মুখস্থ করা বা জাগতিক ডিগ্রি অর্জনকেই প্রকৃত জ্ঞান বলা হয়নি। প্রকৃত জ্ঞান তা-ই, যা মানুষের ভেতরে আল্লাহর ভয় এবং নৈতিকতা তৈরি করে। ইমাম জাফর আস-সাদিক (আ.) প্রকৃত জ্ঞানের আলো সম্পর্কে এরশাদ করেছেন:

“জ্ঞান কোনো বই বা শিক্ষার আধিক্যের নাম নয়; বরং জ্ঞান হলো একটি ঐশ্বরিক নূর (আলো), যা মহান আল্লাহ যাকে হেদায়েত করতে চান তার অন্তরে ঢেলে দেন।” — বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড: ১, তাই একজন মোমিনের উচিত কেবল দুনিয়াবী স্বার্থে নয়, বরং নিজের আত্মাকে আলোকিত করতে এবং সমাজকে অন্ধকার থেকে মুক্ত করতে জীবনভর জ্ঞানের সন্ধান করা।

 

Related posts

মহানবীর (সা) দৃষ্টিতে সেরা পুরুষ

গাদির-এ-খুম: ব্যক্তিগত, সাম্প্রদায়িক ও সামাজিক পূর্ণতার পথ

দো‘আ কবুলের অন্তরায় ও আত্মশুদ্ধি

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More