ক্বায়েমের (আ.ফা.) সহযোগীদের সংখ্যা

ক্বায়েমের (আ.ফা.) সহযোগীদের সংখ্যা এ ব্যাপারে প্রসিদ্ধ অভিমত হচ্ছে এই যে, যুগের ইমামের (আ.ফা.) সহযোগী ও বন্ধুগণের সংখ্যাটি হবে ৩১৩ জন এবং এ বিষয়ে একাধিক হাদিসে ইঙ্গিত করা হয়েছে। হযরত ইমাম সাদেকের (আ.) বরাত দিয়ে “মোফাজ্জাল ইবনে উমর” হতে এরূপে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে: “ঠিক যেন আমি হযরত ক্লায়েমকে (আ.ফা.) কুফার (মসজিদের) মেম্বারে দেখতে পাচ্ছি যেখানে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের সমসংখ্যক ৩১৩ জন পুরুষ তাঁরই চতুর্দিকে সমবেত হয়ে আছেন। তাঁরা হচ্ছেন সমরবিদ (যুদ্ধে সিদ্ধহস্ত) পুরুষ এবং আল্লাহর পৃথিবীতে আল্লাহর সৃষ্টির উপর শাসনকর্তা। ( বিহারুল আনওয়ার, ৫২তম খণ্ড, পৃ. ৩২৬, ৪২তম হাদিস ) ।

 আরও অপর কতক হাদিসের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, তাঁর বন্ধু ও সহযোগীদের সংখ্যাটি উপরোক্ত সংখ্যাতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এই সংখ্যাটি হচ্ছে তাঁদেরই যাঁরা হযরত মাহ্দীর (আ.) আন্দোলনের সূচনা থেকেই তাঁকে সঙ্গদান করবেন। তবে ক্রমান্বয়ে এ সংখ্যা বর্ধিত হতে থাকবে। অবশ্য, বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই ৩১৩ ব্যক্তি এক মুখ্য বিশেষত্বের অধিকারী হওয়ার কারণে তাঁরা হযরত মাহ্দীর (আ.ফা.) সেনাবাহিনীর সেনাপতিত্ব ও নেতৃত্বদানের ভূমিকা পালন করবেন।(  মওউদ, ৯ম সংখ্যা, পৃ. ৩৪ )

আবু বসির হযরত ইমাম সাদিক (আ.) হতে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যেখানে বলা হয়েছে: “হযরত মাহ্দীকে (আ.ফা.) ঘিরে সমবেত হওয়া লোকদের সংখ্যাটি পূর্ণ না হওয়া অবধি তিনি মক্কা থেকে বের হবেন না (আন্দোলনের আহ্বান জানাবেন না)।” আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম: “এই সংখ্যাটি কতজনের?” উত্তরে তিনি বল্লেন: “দুই হাজার জন; হযরত জিবরাঈল তাঁর ডানপাশে এবং হযরত মিকাঈল তাঁর বামপাশে চলবেন-ইত্যাদি।

( বিহারুল আনওয়ার, ৫২তম খণ্ড, পৃ. ৩৬৭-৩৬৮, ১৫২তম হাদিস )

Related posts

প্রতিবেশীর অধিকার: সামাজিক সম্প্রীতি

পরোপকার ও সহমর্মিতা: মানবিকতার মূল ভিত্তি ও ঈমানের দাবি

নম্রতা ও বিনয়: আত্মিক প্রশান্তির চাবিকাঠি

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More