মাসআলা (১১২৬): জীবন যাপনের প্রয়োজনীয় জিনিস যা প্রয়োজনের বাইরে চলে গেছে মর্মে যা কিছু বলা হলো, তা জীবন যাপনের প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রয়ের বেলায়ও প্রযোজ্য হবে। কাজেই বাড়ি, গাড়িসহ মানুষের নিজের ও পরিবারের প্রয়োজনীয় জীবন সামগ্রী, যা তার বছরের মধ্যবর্তী আয় হতে অথবা যে টাকার খুমস দেওয়া হয়েছে তা দ্বারা অথবা যে টাকার কোনো খুমস নেই (যেমন: দান ও মীরাস) সেই টাকা দিয়ে ক্রয় করা হয়, অতঃপর কোনো জরুরতার কারণে কিংবা আরো উন্নত মানের জিনিসে রূপান্তরিত করা অথবা অন্য যে কোনো কারণে যদি তা বিক্রয় করা হয়, তাহলে তা বিক্রয়লব্ধ টাকায় এবং একইভাবে তার মূল্য বৃদ্ধিজনিত লাভের টাকায় খুমস থাকবে না। তবে হ্যাঁ, যদি ঐসব সামগ্রীকে এমন আয়ের টাকা দ্বারা খরিদ করা হয়ে থাকে যাতে খুমস ধার্য ছিল, কিন্তু পরিশোধ করা হয়নি, তাহলে তা খরিদ করতে যে টাকা খরচ করা হয়েছিল তার খুমস প্রদান করবে। যদিও তা বিক্রয় নাও করে।
মাসআলা (১১২৭): যে ব্যক্তি তার গাড়ি বিক্রয় করবে, তার গাড়ি যদি তার জীবন সামগ্রী হয়ে থাকে (অর্থাৎ তার ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য এবং জীবন যাপনের প্রয়োজন মেটানোর জন্য হয় আর তার ব্যক্তিগত অবস্থার সাথে মানানসই দরকারী জিনিস হয়ে থাকে) তাহলে তা বিক্রয়ের টাকা জীবন সামগ্রী বিক্রয়ের টাকার হুকুমভুক্ত হবে, যে সম্পর্কে আগেই বলা হয়েছে। কিন্তু যদি তা কাজের জন্য হয়ে থাকে, তাহলে যে টাকা পরিশোধ করা হয়েছে তার খুমস ওয়াজিব।
মাসআলা (১১২৮): যে পুঁজি ব্যবসা ও কাজের (বেতনভাতা ইত্যাদি) মাধ্যমে উপার্জন হয়েছে, তাতে খুমস রয়েছে। একারণে কেউ যে টাকা মুদারাবার পুঁজি হিসাবে আরেকজনকে দেয়, তাকে ঐ টাকার খুমস পরিশোধ করতে হবে। অনুরূপভাবে পুঁজি দ্বারা ব্যবসায়ের মাধ্যমে লাভের যে অংশ জীবন নির্বাহ কাজে ব্যয় হবে তাতে খুমস নেই। আর যা বছরের খরচের উদ্বৃত্ত আসবে তাতে খুমস রয়েছে।
মাসআলা (১১২৯): যে ব্যক্তি তার বছরের উপার্জন থেকে এক খণ্ড জমি খরিদ করেছে সেটা বিক্রয় করে উক্ত টাকা বাড়ি নির্মাণের কাজে লাগাবার জন্য, তাকে উক্ত টাকার খুমস পরিশোধ করতে হবে।
মাসআলা (১১৩০): যে ব্যক্তি কয়েক তলা বিশিষ্ট একটি বাড়ি নির্মাণ করেছে যাতে কোনো কোনো তলা ভাড়া দিয়ে উক্ত ভাড়ার টাকা দ্বারা তার জীবন নির্বাহের খরচ যোগাতে পারে, তাকে অতিরিক্ত তলাগুলোর জন্য আয়ের থেকে যে টাকা খরচ করেছে উক্ত টাকার খুমস পরিশোধ করতে হবে।
সূত্রঃ রেসালায়ে মুস্তাখাব আল-আহকাম বই থেকে সংগ্রহীত
হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী (মুদ্দা যিল্লুহু )- এর ফতোয়া অনুযায়ী সংকলিত