সূরা সাফফের তাফসীর

ইসলামি বিধানাবলির উপেক্ষা অবমাননা ও লাঞ্ছনা বয়ে আনে
দ্বিতীয় নমুনাটি আমাদের নিজেদের সাথে সম্পর্কিত; আমরা আজ ইসলামের আলোয় আলোকিত, ইসলামের প্রতি আমরা ঈমান আনয়ন করেছি এবং মুসলমান হিসেবে আত্ম পরিচয় পেয়েছি। এতদসত্ত্বেও যদি আমরা ঐ সব মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হই, তবে নিশ্চিত থাকবেন আমরাও ধীরে ধীরে অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হব। এমনটি ভাববেন না যে, আমি ও আপনি যেহেতু বিপ্লবী শ্লোগান দেই, জিহাদ করি, ‘আল্লাহু আকবার’ শ্লোগান দেই; এগুলোর বদৌলতে কি আল্লাহ আমাদের গাফিলতিসমূহকে ক্ষমা করে দিবেন? না, তা কখনও সম্ভব নয়। আমরা যদি জুলুম, অবিচার করি, অপচয় করি, যদি আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ মেনে না চলি এবং তাকওয়া অবলম্বন না করি; তাহলে আমরাও বনি ইসরাইলের ন্যায় কঠিন পরিণতির শিকার হব। যেভাবে ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলমানদের সোনালী গৌরব এবং সুউচ্চ মান-মর্যাদা আজ ম্লান হয়ে গেছে; আমরাও যদি নিজেদের অবস্থান ধরে না রাখি ও সজাগ না থাকি, তবে আমাদের জন্যও অনুরূপ প্রতিফল অপেক্ষা করছে। সুতরাং সূরা সাফ্ফের এ আয়াতসমূহে যখন হযরত মূসা (আ.) ও ঈসার (আ.) সময়কার পরিস্থিতি এবং তাদের সম্প্রদায়ের পরিণতি সম্পর্কে ইশারা করা হয়; তখন এর অর্থ হচ্ছে কুরআন আমাদেরকে ইতিহাসের উক্ত অধ্যায় থেকে বাস্তব শিক্ষা গ্রহণের সুপারিশ করছে। কাজেই এ বিষয়ে আমাদের বিশেষ মনোনিবেশ করা উচিত।
যেহেতু এখানে আমাদের আলোচনা অনেক দীর্ঘায়িত হয়েছে, সেহেতু আমরা পরবর্তী আলোচনায় আলোচ্য আয়াতের (সূরা সাফফের ৫ নং আয়াত) অবশিষ্ট তাফসীর উত্থাপনের পর নতুন আলোচনা শুরু করব, ইনশা আল্লাহ।

Related posts

সূরা সাফফের তাফসীর

সূরা সাফফের তাফসীর

সূরা সাফফের তাফসীর

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More