খুলনার কাসরে হুসাইনী ইমামবাড়ায় আঞ্জুমানে পাঞ্জাতানি, খুলনা-এর ব্যবস্থাপনায় আমিরুল মুমিনিন হযরত ইমাম আলী ইবনে আবু তালিব (আ.)-এর পবিত্র জন্মদিন উপলক্ষে এক বিশাল আনন্দ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মাহফিলের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল শিয়া ও সুন্নি উভয় সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম এবং সাধারণ জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, যা এক অনন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহিম খলিল রাজাভী। এছাড়াও উপস্থিত হয়ে মাহফিলের গুরুত্ব বাড়িয়ে দেন সম্মিলিত উলামায়ে কেরামের সভাপতি মাওলানা জনাব ইব্রাহিম ফয়জুল্লাহ , খুলনা আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক মুহাদ্দিস হযরত মাওলানা আজিজুল হক সিদ্দিকী, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুর রশীদ সাহেব, মাওলানা আখতার সাহেব এবং মাওলানা শাহাদাত সাহেবসহ উভয় ঘরানার বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম। বক্তারা তাঁদের আলোচনায় হযরত আলী (আ.)-কে মুসলিম ঐক্যের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহিম খলিল রাজাভী আলোচনায় বলেন,পবিত্র রজব মাস অত্যন্ত মহিমান্বিত ও বরকতময় একটি মাস। এই মাসের ফজিলত যেমন অপরিসীম, ঠিক তেমনি এই মাসেই আগমন করেছেন আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী ইবনে আবু তালিব (আ.)। তবে আক্ষেপের বিষয় হলো, ইমাম আলীর (আ.) ‘বেলায়েত’ নিয়ে আমাদের সমাজে যতটা বিস্তারিত আলোচনা হওয়া উচিত ছিল, আমরা আজও সেভাবে তা তুলে ধরতে পারিনি।
বিশেষ আলোচনায় মাওলানা জনাব ইব্রাহিম ফয়জুল্লাহ সাহেব বলেন, “পবিত্র রজব মাস অত্যন্ত বরকতময়। নবী করিম (সা.)-এর পর যাঁর স্থান সর্বোচ্চ, তিনি হলেন মাওলা আলী । তাঁর প্রতি মুহাব্বত রাখা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। পবিত্র কুরআনের অসংখ্য আয়াত তাঁর শানে নাযিল হয়েছে । পবিত্র কাবার অভ্যন্তরে তাঁর জন্ম হওয়া তাঁর সুউচ্চ মাকামের প্রমাণ দেয়।