খুলনায় হযরত ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

গতকাল ০৪/০৬/২০২২ শনিবার নগরীর আলতাপোলেন্থ কাসরে হোসাইনী ইমাম বাড়ীতে আহলে বাইত (আ.) ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশের উদ্যোগে ইসলামী বিপ্লবের মহান স্থপতি আয়াতুল্লাহ উযমা হযরত ইমাম খোমেনী’র (রহ.) ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

গতকাল সন্ধ্যায় আলোচনা সভার শুরুতে পবিত্র কুরআন মাজীদ থেকে তেলাওয়াত করেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র, খুলনার ছাত্র ক্বারী মো: আমিরুল ইসলাম।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন আঞ্জুমানে পাঞ্জাতানী, খুলনার সাধারণ সম্পাদক মো: ইকবাল। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ইসলামী বিপ্লবের রূপকার মরহুম ইমাম খোমেনী’র (রহ.) এই গৌরবোজ্জ্বল বিপ্লবকে অনেকেই শিয়া বিপ্লব বলে মনে করেন। অথচ তৎকালীন শাহ সরকারও একজন শিয়া ব্যক্তি ছিলেন, তখন তো কেউ ইরানকে শিয়া রাষ্ট্র বলতো না। তাহলে এ থেকে এটাই স্পষ্ট হয় যে, এই ইসলামী বিপ্লবকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার জন্য দুরভিসন্ধিমূলক শিয়া বিপ্লব বলে প্রপাগান্ডা চালানো হয়।

উক্ত আলোচনা সভায় আলোচনা রাখেন, ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের সাংস্কৃতিক বিভাগের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম মো: আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, আয়াতুল্লাহ আল-উযমা হযরত ইমাম খোমেনী (রহ.) ছিলেন অত্যন্ত পরহেজগার ও দুনিয়াবিমুখ একজন আধ্যাত্মিক আলেম। ইসলামী বিপ্লব সংগঠিত হওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, “যারা আজ আমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ তারা যদি এখনই আমাকে ভর্ৎসনা করে তাতেও আমার কিছু আসে যায় না, কারণ আমি যা কিছু করেছি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করেছি মানুষের প্রশংসা কুড়ানোর জন্য করিনি।”

আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন, আল-মোস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়, কোম এ অধ্যয়নরত ছাত্র হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ সাজ্জাদ হোসাইন। তিনি বলেন, ইমাম খোমেনী (রহ.) যে বিপ্লব উপহার দিয়ে গেছেন সেটাকে রক্ষা করা এবং ইসলামী আইন বাস্তবায়ন করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

আরও আলোচনা রাখেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের গবেষণা বিভাগের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম ড. আব্দুল কাইউম। তিনি তার আলোচনায় বলেন, হযরত ইমাম খোমেনীকে (রহ.) শুধু ইরানের জনগণই নয় বাইরের দেশের জনগণও ভালবাসতেন। তিনি উল্লেখ করেন, যখন ইরাকের নাজাফ শহরে তিনি পাঠ করতেছিলেন সে সময় সেখানকার ধর্মীয় ছাত্ররা অন্যান্য শিক্ষকদের ক্লাস ছেড়ে ইমাম খোমেনী’র (রহ.) ক্লাসে উপস্থিত হতেন।

আলোচনা রাখেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র, খুলনার শিক্ষা বিভাগের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম মো: আলী মোর্ত্তজা। তিনি তার আলোচনায় ইমাম খোমেনী’র (রহ.) জীবনের নানা দিক উল্লেখ করে বলেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী ও নির্ভীক। যে সময় বিশ্বের মানুষ আমেরিকাকে দেখে ভয়ে দুরু দুরু করে কাঁপতো সে সময় তিনি তাকে বড় শয়তান বলে আখ্যায়িত করেছিলেন যা তার সাহসিক ভূমিকার লক্ষণ বহন করে।

সবশেষে প্রধান আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র, খুলনার অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ ইব্রাহিম খলিল রাজাভী। তিনি তার আলোচনায় ইমাম খোমেনীকে (রহ.) স্বচক্ষে দেখা ও তাঁর জানাজায় শরীক হওয়া সম্পর্কে বিবরণ তুলে ধরে বলেন, তিনি যখন ইন্তেকাল করেন আমি তখন ইরানের কোম শহরে ছিলাম। সেখানে দেখেছি তার প্রতি সেখানকার জনগণের ভালবাসার নমুনা। যখন তার ইন্তেকালের সংবাদ প্রচার করার দায়িত্ব কার উপর ন্যস্ত করা হচ্ছিল তখন তারা সংবাদ পাঠ করতে গিয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়ছিলেন, এভাবে একের পর এক ব্যক্তি যখন বেহুঁশ হয়ে পড়ছে তখন মৃত্যুর সংবাদটি কয়েক ধাপে রেকর্ডিং করে সেটাকে এডিটিং এর মাধ্যমে একত্রিত করে প্রচার করা হয়। আর তখন সাড়া দেশে নেমে আসে শোকের কালো ছায়া।

উক্ত আলোচনা সভা শেষে মরহুম ইমাম খোমেনী’র (রহ.) বিদেহী আত্ম্র মাগফেরাত কামনা ও দোয়া-মুনাজাত করা হয়।###

Related posts

হযরত ইমাম আলী রেজা (আ.)’র জন্মদিবস উপলক্ষে খুলনায় কাসরে হোসাইনী ইমামবাড়ীতে আনন্দ অনুষ্ঠান

হযরত আবু তালিব (আ.)’র জন্মদিবস উপলক্ষে খুলনায় কাসরে হোসাইনী ইমামবাড়ীতে আনন্দ অনুষ্ঠান

খুলনায় জ্যামিয়াতে মুহিব্বিনে আহলে বাইত বাংলাদেশের উদ্যোগে ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ উজমা সাইয়্যেদ আলী খোমেনির শাহাদাত স্মরণে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More