জান্নাতুল বাক্বী পুনঃ নির্মাণ আন্দোলন সার্বজনীন রূপলাভ করেছে

মুলঃ মাওলনা সৈয়দ মাহবুব মেহদী আবেদী,  অনুবাদ : মোহাম্মদ ইকবাল

জান্নতুল বাক্বী পুনঃনির্মাণের দাবী পাঁচটি দেশের বিশিষ্ট ও স্বনামধন্য আলেম জুম মিটিং এর মাধ্যমে পূনব্যক্ত করেন। ইন্টারন্যাশনাল আল-বাক্বী অর্গানাইজেশন শিকাগো, আমেরিকার প্রধান মাওলানা সৈয়দ মাহবুব মেহদী আবেদীর সভাপতিত্বে জুম মিটিং এর আয়োজন করা হয়।

সম্মেলনের সূচনায় বিখ্যাত কবি সাহিল আ’রেফী আহলে বাইত (আ.) এর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর কবিতার কয়েকটি লাইন উল্লেখ করে বলেন, “কয়েকদিনে উজাড় হল বাতুলের পরিবার, আজও বাতুলের হৃদয় অস্থির, মদীনায় গিয়ে জায়েরগণ ক্রন্দনরত অবস্থায় খুঁজে বেড়ান বাতুলের রওজা!” সাহিল আরেফীর আবগেঘণ কবিতার পর আল-বাক্বী অরগানাইজেশনের মূল চালিকাশক্তি মাওলনা মাহবুব মেহদী আবেদী অংশগ্রণকারী সকল আলেম ও আলোচকবৃন্দকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আলহামদুল্লিাহ জান্নাতুল বাক্বী আন্দোলন ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী হচ্ছে এবং বর্তমানে সার্বজনীন রূপলাভ করেছে। কয়েকবছর পূর্ব পর্যন্ত এ আন্দোলন শুধুমাত্র এই উপমহাদেশেই সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু বর্তমানে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। এ আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দিক হল যে, আহলে সুন্নাতের ভাইয়েরাও জেনে গেছেন যে, এই পবিত্র ও নুরানী রওজাসমূহকে আলে-সাউদরা ধ্বংস করেছে। এ সম্মেলনের মাধ্যমে আমি বিশ্বের বিবেকবান মুসলমান ভাইদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি যে, তারা জান্নাতুল বাক্বীর ধ্বংসকৃত রওজাসমূহের পূর্ণনিমানে আমাদের সহযোগী হবেন।

ইউটিভি নেটওয়ার্ক হায়দ্রাবাদ এর প্রধান মাওলানা আলী হায়দার ফেরেশতা এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন, “শুধুমাত্র মুসলমানই না বরং যারা নিজেদেরকে মানবতার কান্ডারী মনে করেন এবং প্রায়শঃই ন্যায়বিচারের বুলি মুখে উচ্চারণ করেন তাদের সকলকেই এই পবিত্র ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সংযুক্ত হতে আহবান জানাই যাতে এ আন্দোলন সফল হয়।

কর্মতৎপর বাংলাদেশের আলেমেদ্বীন মাওলানা সৈয়দ ইব্রাহীম খলীল রাজাভী বলেন যে, জান্নাতুল বাক্বীতে অবস্থিত যেসকল রওজাসমূহ ধ্বংস করা হয়েছে সেগুলো আমাদের পবিত্র স্থানসমূহের মধ্যে অন্তর্গত সে কারণে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। জান্নাতুল বাক্বীর ধ্বংসকৃত রওজাসমূহের পুনঃনির্মাণের দাবী আমাদের বৈধ অধিকার এবং আন্দোলনের মাধ্যমে এই অধিকার আলে সউদের কাছ থেকে আদায় করতে হবে। আমরা যেন এটা না ভাবি যে, একদিন আলে সাউদের বিবেক জাগ্রত হবে এবং তারা রওজাসমূহের পূনঃনির্মাণের অনুমতি আমাদেরকে দিয়ে দেবে। বস্তুতঃ আমাদের যুগপৎ আন্দোলনই তাদের বিবেককে জাগ্রত করতে পারে, তারা স্বইচ্ছায় একাজটি কখনো করবে না। তিনি উল্লেখ করেন বিশিষ্ট কবি জনাব সামাদ আলী পায়কার এই আলে সউদের উদ্দেশেই নিম্নের চমৎকার এই পংক্তিটি উচ্চারণ করেছিলেন ‘প্রদীপ নিকটে থাকে আর এমনভাবে থাকে, যেভাবে অন্ধকার থাকে প্রদীপ তলে’।

ভারতের মালিগাঁও শহরের প্রখ্যাত খতিব মাওলনা আমীর হামযা চিশতী আশরাফী তাঁর চমৎকার আলোচনায় উল্লেখ করেন যে, জান্নাতুল বাক্বীর সমস্যা শুধুমাত্র শীয়াদের সাথে সম্পৃক্ত নয় রবং যারাই হুজুর পাক (সা.) এর প্রতি সত্যিকার ভালবাসা পোষণ করে তারা কবরগুলোকে দেখে তাদের হৃদয় উদ্বেলিত হয়। সকল খানকা সমূহ শীয়াদের সাথে একই দৃষ্টিভঙ্গী পোষণ করে। সুতরাং বিবেক জাগ্রত করার জন্য চেষ্টা প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের মাধ্যমে আহলে বাইতের (আ.) পবিত্রতা ও নিঃষ্পাপতার পয়গাম প্রচারকারী খতিব মাওলানা ইমাম হায়দার যায়দী বলেন, আমি যখন থেকে বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই জান্নাতুল বাক্বী সম্পর্কে নানা ধরণের বিক্ষোভ প্রতিবাদ ও আলোচনা দেখে ও শুনে আসছি কিন্তু সম্প্রতিক বছরগুলোতে মাওলানা মাহবুব মেহদী ও তার সঙ্গী সাথীদের প্রচেষ্টায় আজ এ আন্দোলন সার্বজনীন রূপলাভ করেছে এবং সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। জান্নাতুল বাক্বীর পুনঃনির্মাণের বার্তা আজ ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। মাওলানা মাহবুব মেহদী ও মাওলানা আসলাম রিজভী সাহেবের প্রতি আমার আবেদন যে, তারা জান্নাতুল বাক্বীর এ বিষয়টি ভারতের জাতীয় টিভি চ্যানেলে নিয়ে আসেন এবং বিষয়টিকে নিয়ে ভারতের বিভিন্ন ধর্ম ও দৃষ্টিভঙ্গী পোষণকারী পন্ডিত ব্যক্তিগর্বের সাথে বিতর্কের ব্যবস্থা করেন যাতে সামগ্রিকভাবে এ সমস্যাটি বিদেশীদের কানে পৌঁছায়।

অষ্ট্রেলিয়া থেকে শিয়া আলেমে দ্বীন শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব ও বক্তা মাওলানা সাইয়্যেদ আবুল কাসেম সাহেব স্বীয় সংক্ষিপ্ত অথচ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বলেন, বিশ্বের সকল আহলে বাইত (আ.) প্রেমিকদের এ চেষ্টা নিশ্চিতভাবে সফল হবে। কেননা বর্তমানে চতুর্দিকে ‘বাক্বী’ বাক্বীর ধ্বনি উচ্চারিত হচ্ছে আর এ প্রতিবাদ আজ সমগ্র মানবজাতির ভাষায় পরিণত হয়েছে। সুতরাং এ আন্দোলন প্রতিবাদকে বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত করা একান্তভাবে জরুরী।

ভারতের পুনা থেকে মাওলানা আসলাম রিজভী অত্যন্ত আবেগঘন কন্ঠে সকল মুসলিম উম্মাহকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আগামী শাওয়াল মাস সকল মুমিনদের জন্য আল্লাহপ্রদত্ত একটি পরীক্ষার মাস। বিশেষকরে তাদের জন্য যারা এ দাবি করে বলেন “হে কারবালাবাসী! আমরা যদি কারবালায় উপস্থিত থাকতাম তাহলে স্বীয় জীবন কোরবান করে দিতাম”। জান্নাতুল বাক্বীর ধ্বংসপ্রাপ্ত কবরগুলো আবারো একবার “হালমিন নাসিরুন” এর ধ্বনি উচ্চারণ করছে। এখন দেখতে হবে কতজন হাবীব ইবনে মাজাহের এ ধ্বনির প্রতি লাব্বাইক বলে নিজ গৃহ থেকে বেরিয়ে আসেন এবং সময়ের এজিদ ও ইবনে যিয়াদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যমে রেসালতের পারিশ্রমিক আদায় করেন। দেখতে হবে সাহাল ইবনে হাসান এর সংখ্যা কত এবং হারুনে মাক্কীর সংখ্যা কত।

সভাপতির ভাষণে মাওলানা সৈয়দ মাহবুব মাহদী আবেদী সকল ওলামা, বক্তাবৃন্দ ও দর্শক শ্রোতাবৃন্দকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আগামী শাওয়াল মাসে যে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হবে তা আমাদের ওয়েভসাইট baqeeglobal.com-এ আপলোড করুন যাতে এ ভিডিওগুলোর লিংক জাতিসংঘ ও সাউদি সরকারকে পাঠানো যায়।

এস.এন.এম. চ্যানেলের প্রধান সম্পাদক মাওলানা আলী আব্বাস ওফা-এর চমৎকার সঞ্চালনা এ সম্মেলনকে আরো উজ্জ্বল করতে সক্ষম হয়।

এ অনুষ্ঠানটি এস.এন.এন চ্যানেল, ইমাম আছর অফিসিয়াল ইউ,টি,ভি নেটওয়ার্ক হায়দ্রাবাদ, হায়দার টিভি কেনাডা থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।###

Related posts

পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য: জান্নাত লাভের সহজ পথ

শবে কদরের ফজিলত, মর্যাদা ও প্রাসঙ্গিক কথা

ইমাম হাসান মুজতাবা (আ.)-এর অমিয় বাণী

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More