জাফরি ফিকাহ’র আলোকে ফৌজদারি দণ্ডবিধির রায় প্রদান ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে বিলম্ব করার কারণসমূহ (৩য় পর্ব)

লেখকঃ হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন ড. আব্দুল কাইউম

অসুস্থতার মাপকাঠি সম্পর্কে আইনবিধায়ক বেত্রাঘাতের শাস্তির মাঝে এক বিশদ ব্যাখ্যা দান করেছেন। “হদ্দের” চাবুক মারা বা বেত্রাঘাত করার ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে যে, ফেকহি মানদণ্ডের উপর ভিত্তি করেই এ ধরনের শাস্তির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং অপরাধ সাব্যস্ত বা প্রমাণিত হওয়ার পরই কেবল তা কার্যকর করা উচিৎ, না প্রমাণিত হওয়ার আগেই। যেমন – মদ্যপানের শাস্তি হচ্ছে ৮০ আঘাত। আর এটি তখনই অপরাধী ব্যক্তিকে লাগানো যেতে পারে যখন তা আইনে বা শরিয়তে প্রদত্ত পদ্ধতিতে প্রমাণিত হয়ে থাকবে। কিন্তু সব কিছুই প্রমাণিত হওয়ার পরও অপরাধী ব্যক্তিটি বেত্রাঘাতের শাস্তি সহ্য করার মত শারীরিক সক্ষমতার অধিকারী নয়; অপরদিকে, শরিয়ত নির্ধারিত এ শাস্তিকে অপর কোনো শাস্তিতে পরিবর্তন করারও কোনো সুযোগ নেই; অনুরূপভাবে, এ শাস্তিদান বিলম্ব করাও বৈধ নয়। তাহলে এমন পরিস্থিতিতে করণীয় কি?! এ ক্ষেত্রে ফকিহ বা ইসলামি মনীষীদের অভিমত হচ্ছে এই যে, ইসলামি শরিয়তের হুকুম বা বিধান (সাজা) কার্যকর করার পদ্ধতির মধ্যে পরিবর্তন আনা যেতে পারে।

আর এ পদ্ধতিগত পরিবর্তনের ব্যাখ্যা হচ্ছে এই যে, মদ্যপায়ী ব্যক্তিকে এক এক করে ৮০টি চাবুক না মেরে বরং ৮০টি চাবুককে একত্রে আঁটি আকারে বেঁধে, একবারেই অপরাধীর শরীরে আঘাত করতে হবে; এতে যদিও ৮০টি চাবুক বা বেত তার শরীরে স্পর্শ্ব না করে তাতে কোনো কিছু যায়-আসে না। ঠিক একইভাবে, কারও উপর একশটি বেত্রাঘাত নির্ধারিত হয়ে থাকলে এবং তিনি উপরোক্ত অবস্থার মুখোমুখি হয়ে থাকলে তারও ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে। ইরানের ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৯৪ ধারায় এ কথাই বলা হয়েছে। (চলবে)

Related posts

পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য: জান্নাত লাভের সহজ পথ

শবে কদরের ফজিলত, মর্যাদা ও প্রাসঙ্গিক কথা

ইমাম হাসান মুজতাবা (আ.)-এর অমিয় বাণী

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Read More