জাফর তাইয়্যারের নামায
জাফর তাইয়্যার হচ্ছেন হযরত আলীর (আ.) ভ্রাতা যিনি ইথিওপিয়ায় হিজরত করতঃ স্বীয় যথোপযুক্ত ব্যবহার ও যুক্তি প্রয়োগ দ্বারা নাজ্জাশী ও বহুসংখ্যক লোকের অন্তরকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করতে সক্ষম হন এবং আফ্রিকা মহাদেশে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা হন। তিনি মুতার যুদ্ধে আল্লাহর পথে স্বীয় দুই হাত উৎসর্গ করেন এবং মহান আল্লাহ্ সে দু’টির পরিবর্তে বেহেশ্তে তাকে দু’খানা ডানা প্রদান করেন। আর এ জন্যে তিনি জাফর তাইয়্যার হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
ইথিওপিয়া হতে জাফর যখন প্রত্যাবর্তন করেন তখন রসুল (সা.) তাকে বলেন: আমি তোমাকে মূল্যবান উপহার প্রদান করি, একি তুমি চাও? লোকেরা ধারণা করল যে, রসুল (সা.) তাকে সোনা অথবা রূপা দিতে চান। আর রসুলের এ উপহার দেখার জন্যে লোকেরা ভিড় জমাল। কিন্তু রসুল (সা.) বললেন: তোমাকে আমি একটি নামায উপহার দিচ্ছি, প্রত্যেক দিন যদি তুমি তা আঞ্জাম দাও তবে পৃথিবী ও পৃথিবীর মাঝে যা কিছু আছে তদোপেক্ষা ভাল হবে। আর যদি প্রত্যেক দিন অথবা প্রত্যেক শুক্রবারে অথবা প্রত্যেক মাসে অথবা প্রত্যেক বছরে একবার তা আঞ্জাম দাও তবে দুই নামাযের অন্তরবর্তী (যদিও এক বছর অন্তর হয়) পাপরাশিকে মহান আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন। (বিহার, ১৮তম খন্ড, পৃ. ৪২১।
ইমাম সাদেক (আ.) বলেন: যখনই কোনো প্রয়োজন অথবা কোনো সমস্যা দেখা দিবে তখনই জাফরের নামাযান্তে দুয়া কর, ইন্শা আল্লাহ তা গৃহীত হবে।
শীয়া ও সুন্নী উৎসের নির্ভরযোগ্য সনদসমূহ হতে এ নামায বর্ণিত হয়েছে এবং এটি স্বয়ং বৃহৎ মহৌষধ ও পরশপাথর নাম ধারণ করেছে।
মাফাতিহুল জেনানের প্রথম দিকে জুমার দিনের আমলসমূহের মধ্যে মাসূম ইমামগণের (আ.) নামাযের আলোচনার পর এ নামায আদায়ের পদ্ধতি সমúর্কে বলা হয়েছে।
অবশ্য শতাধিক মুস্তাহাব নামাযের মাঝে এটি একটি নামায যা সমস্যাদি সমাধানের জন্যে বর্ণিত হয়েছে। পরিশেষে, মুস্তাহাব নামাযসমূহের উপর একখানা কিতাব লিখিত হয়েছে যাতে প্রায় তিনশত পঞ্চাশটি মুস্তাহাব নামাযের নাম ও রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আর এটি স্বয়ং নামাযের গুরুত্বের অন্তর্ভুক্ত যার এসব বিচিত্রতা বিদ্যমান এবং প্রত্যেকটি উপযুক্ত ক্ষেত্রে নামাযের বিষয় এসেছে।
( সূত্র : তাফসীরে নামায গ্রন্থ থেকে)
