একটি জাতির মেরুদণ্ড হলো তার শিক্ষা ও নৈতিকতা। ইসলাম শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং একে ইবাদতের মর্যাদা দিয়েছে। অজ্ঞতা হলো সমস্ত অন্যায়ের মূল, আর জ্ঞান হলো মুক্তির চাবিকাঠি।
পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা: কোরআনের প্রথম বাণীই ছিল ‘ইকরা’ বা ‘পড়’। আল্লাহ তায়ালা জ্ঞানীদের উচ্চ মর্যাদা দিয়ে বলেছেন, “বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে?” (সূরা আল-জুমার, আয়াত: ৯)। এই আয়াত আমাদের প্রমাণ করে যে, জ্ঞানার্জনই হলো মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি।
আহলে বাইত (আ.)-এর জ্ঞানের সমুদ্র: জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব আহলে বাইতের জীবনে সবচেয়ে উজ্জ্বলভাবে দেখা যায়। আমিরুল মুমিনীন হযরত আলী (আ.)-কে বলা হয় ‘জ্ঞানের শহরের দরজা’। তিনি বলেছেন, “জ্ঞান হলো বীরত্বের চেয়েও বড় সম্পদ; এটি তোমাকে রক্ষা করে, কিন্তু ধনসম্পদকে তোমার রক্ষা করতে হয়।” (সূত্র: নাহজুল বালাগা)। তিনি আরও বলতেন, “সেই জীবন বৃথা যা জ্ঞান অর্জনের পেছনে ব্যয় হয়নি।” ইমাম মুহাম্মদ বাকির (আ.) এবং ইমাম জাফর আস-সাদিক (আ.) এমন এক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিজ্ঞান, দর্শন ও ধর্মতত্ত্বের শিক্ষা নিতেন।
জ্ঞানের লক্ষ্য কী? প্রকৃত জ্ঞান কেবল সার্টিফিকেট অর্জন নয়, বরং এর লক্ষ্য হলো স্রষ্টাকে চেনা এবং মানুষের সেবা করা। যে জ্ঞান মানুষের মধ্যে অহংকার সৃষ্টি করে, তা জ্ঞান নয় বরং বোঝা। প্রকৃত জ্ঞানী ব্যক্তি বিনয়ী হন। আমাদের আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি আধ্যাত্মিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া প্রয়োজন, যাতে আমরা একটি বুদ্ধিভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে পারি।