দরিদ্র ব্যক্তির প্রতি ইমাম হাসানের (আ.) দয়া
জনৈক ব্যাক্তি ইমাম হাসানের (আ.) নিকট এসে বললেন: “হে আমিরুল মু’মিনীনের সন্তান! আপনার শপথ, মহান আল্লাহ আপনাকে যা দান করেছে তার মাধ্যমে আমাকে আমার শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করুন। কারণ, এ অত্যাচারী শত্রু একজন বৃদ্ধের সম্মান বজায় রাখে না এবং বয়স্ক ব্যক্তির উপর করুণা করে না। এ বৃদ্ধ ব্যক্তি যখন কথা বলছিল তখন হযরত বসেছিলেন। তার কথা শুনে ইমাম হাসান (আ.) উঠে দাঁড়ানোর পর বসে বললেন: “তোমার শত্রু কে, আমি তার নিকট তোমার জন্য সুবিচারের আহ্বান জানাব?” তিনি বললেন: “আমার শত্রু, দরিদ্রতা এবং মানসিক অস্থিরতা।” একথা শুনে ইমাম কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে রাখলেন। অতঃপর তিনি মাথা উঁচু করে নিজের দাসের দিকে লক্ষ্য করে বললেন: “তোমার নিকট যেসকল সম্পদ গচ্ছিত রয়েছে সেগুলো নিয়ে এসো।” দাস পাঁচ হাজার দেরহাম নিয়ে আসল। হযরত বললেন: ঐ ব্যক্তিকে এগুলো দাও। তখন হযরত ঐ ব্যক্তিকে বললেন: “তুমি আমাকে যে কসম দিয়েছো তার অধিকার নিয়ে বলছি: তোমার শপথ, যখনই এ শত্রু তোমার প্রতি অত্যাচার করবে, তখনই তুমি আমার নিকট এসে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে। আমি তোমার জন্য সুবিচারের আহ্বান জানাব এবং তোমার সমস্যা সমাধান করব।” সমাজে অনেকেই দরিদ্র ও নিঃস্বদের উদারভাবে অর্থ দান করে। বিশেষকরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বংশধরদের নিকট এ বিষয়টি অতি সাধারণ একটি বিষয়। উক্ত ঘটনা থেকে যে বিষয়টি অতি আশ্চর্য এবং আকর্ষণীয় সেটি হচ্ছে, ইমাম হাসান (আ.) নিঃস্ব এক ব্যক্তির শপথ দিয়ে বলেছেন, যখনই প্রয়োজন মনে করবে এবং দরিদ্রদ্র্যতার শিকার হবে এবং এ ভয়ংকর শত্রু তার প্রতি অত্যাচার করবে, তখনই তাঁর শরণাপন্ন হতে। যেন দরিদ্রতার হাত থেকে ইমাম তাকে রক্ষা করতে পারেন। অবশ্য, ঐ ব্যক্তি দরিদ্রতা সম্পর্কে যে বিশ্লেষণ করেছে ভোলার মত নয়। সে দরিদ্রতা এবং নিঃস্ব অবস্থাকে চরম শত্রু হিসেবে অভিহিত করেছে, যা বয়স্ক ব্যক্তির মান সম্মানের দিকে লক্ষ্য করে না এবং করুণাও করে না। দরিদ্রতা সম্পর্কে তার এ বিশ্লেষণটিকে ইমাম হাসান (আ.) গ্রহণ করেছেন এবং তিনিও দরিদ্রতাকে শত্রু হিসেবে গণ্য করেছেন ।
ফজর/ইয়াসিন