লেখকঃ আলহাজ্জ ড. সামিউল হক
বিশ্বজাহানের জন্য প্রেরিত রহমত হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (সূরা আনবিয়া/১০৭) তাঁর উম্মতের জন্য কেয়ামত পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ঐশি ও দুনিয়াবি নেয়ামত হিসেবে পরিগণিত। কোরআনের আয়াত মতে: হযরত ঈসা (আ.) ও তাঁর উম্মতের জন্য বেহেশতি খাবার প্রেরণের দিনটি ঈদ হিসেবে পরিগণিত ছিল (মায়েদা/১১৪)। তাই নিঃসন্দেহে রাহমাতুল্লিল আলামিনের আগমণের দিনও মুসলিম উম্মাহের জন্য সবচেয়ে বড় ঈদউৎসব। তাঁর আগমণের কথা স্মরণ করে শরিয়তি বৈধ উপায়ে মিলাদ মাহফিল পরিচালিত করা যখন থেকেই শুরু হোক না কেন বেদআত হতে পারে না যদিও একধরণের আলেম মিলাদ মাহফিলকে বেদআত বলে থাকেন। এই প্রবন্ধে বিরোধী পক্ষের যুক্তিকে খন্ডন করে এ বিষয়টিকে কোরআন ও সহীহ হাদিসসমূহের দলিলের ভিত্তিতে জায়েয বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং তার পক্ষে ১৬টি আরব দেশের সরকারি ফতোয়া বোর্ডের দেয়া ফতোয়া তুলে ধরা হয়েছে।
মহানবী (সা.)-এর উপর মিলাদ মাহফিল বলতে মুসলিম বিশ্বজুড়ে যা অনুষ্ঠিত হয় তা দু’ধরণের হয়ে থাকে। একটিতে শরিয়তবিরোধি কিছু বিষয় থাকার কারণে তা বেদআত বলা গেলেও শরিয়তি বিধি-বিধান মেনে পালিত মিলাদ মাহফিল কখনোই বেদআত হতে পারে না।
মিলাদ মাহফিলের সঠিক রূপটিতে যেসব আমল করা হয় তা হল: ১-কোরআন তেলাওয়াত, ২-নবীর প্রশংসায় উৎসর্গিত বাণীসমূহ পড়ে তাঁর উপর ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের উপর দরূদ ও সালাম পেশ করা। ৩-মিলাদ শেষে সর্বসাধারণের জন্য নবী (সা.) ও তাঁর আহলে বাইতের উসিলা দিয়ে আল্লাহর দরবারে দোয়া করা। ৪-অবশেষে সাধ্যমত উপস্থিত লোকজনদেরকে আপ্যায়ন করানো। এই প্রবন্ধে এরূপভাবে পরিচালিত মিলাদ মাহফিলের পক্ষে কোরআন ও হাদিসের অকাট্য দলিল পেশ করা হয়েছে।
১. সঠিক পদ্ধতিতে পরিচালিত মিলাদ মাহফিলের বিরোধিতা: ইবনে তাইমিয়্যাহ ও তার অনুসারিরা নবী করিম (সা.)-এর মিলাদ মাহফিলকে বেদআত হিসেবে ফতোয়া দিয়েছেন। তিনি শুধু মিলাদ মাহফিলকেই বেদআত বলেননি, বরং যেকোন ধরণের জন্মানুষ্ঠান পালনকেও বেদআত ঘোষণা করেছেন (ইবনে তাইমিয়্যাহ, মাজমুআতুল ফাতোয়া, ২৫/১৬০; ফাতোয়াল কুবরা, ১/৩৭২)। অধিকন্তু প্রাচীন আলেমদের মধ্য থেকে আবু ইসহাক শাতিবি (১/৩৯), তাজউদ্দিন ফাকেহানি; পরবর্তি আলেমদের মধ্য থেকে শেখ আলবানি ও আরো অনেকে মিলাদ মাহফিলকে বেদআত বলে ঘোষণা করেছেন (সাবুরি/১)।
এ বিষয়ে ৯০৭ পৃ. সম্বলিত একটি আরবি ম্যাগাজিন সৌদি আরবে প্রকাশিত হয়েছে, যাতে ৭টি প্রবন্ধ রয়েছে। যার মধ্যে তাজউদ্দিন ফাকেহানি আল উমর ইবনে আলী ইবনে সালেম ইবনে সাদাকাতুল লাখমি আল ইসকান্দারি প্রণীত ‘আল মুরেদ ফি আমালিল মৌলুদ’ উল্লেখযোগ্য; যেখানে মিলাদ মাহফিলের বিরুদ্ধে আনিত সমস্ত যুক্তি উল্লেখ করা হয়েছে। তার সমস্ত যুক্তিসমূহ মাওলানা জালাল উদ্দীন সূয়্যূতি প্রণীত ‘হোসনুল মাকসাদ ফি আমালিল মৌলুুদ’ গ্রন্থে খন্ডিত হয়েছে এবং অকাট্য যুক্তিসমূহ তুলে ধরা হয়েছে।
মিলাদ মাহফিলের বিরোধিপক্ষ যেসব যুক্তি তুলে ধরেছেন, তা নিম্নলিখিত চারটি বিষয়ের মধ্যে সন্নিবেশিত করা যায়:
- ১- মিলাদ মাহফিল বৈধ না হবার অন্যতম কারণ হল সাহাবি ও তাবেঈণগণ তা পালন করেননি।
- ২- সর্বপ্রথম যারা মিলাদ মাহফিলের প্রচলন করেছেন তারা হলেন: ফাতেমি সম্প্রদায় যারা নবী ও তাঁর আহলে বাইতকে ভীষণভাবে ভালবাসতেন।
- ৩- মিলাদ মাহফিলকে বেদআতের হাদিস দ্বারা রহিত করা যায়।
- ৪- মিলাদ মাহফিলে যেসব কাহিনী বর্ণিত হয় তা ঠিক নয়।
২. বিরোধি পক্ষের যুক্তি পর্যালোচনা ও দলিলভিত্তিক জবাব: বিরোধি পক্ষের যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে সংক্ষেপে বলা যায়:
১- যারা মিলাদ মাহফিলের বিরোধিতা করেন, তাদের আচরণ থেকে বলা যায় যে, তাদের জীবন আনন্দহীন নিরামিষ।
২- শেখ মাহমুদ সুবকি’র মতে ওহাবি সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়েছে ইসলামকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে, তারা ধর্মের যেকোন জৌলুশকে অস্বীকার করেন কারণ, তারা ধর্মীয় আনন্দানুষ্ঠানকে বিধর্মী অনুষ্ঠান বলে পরিগণিত করে থাকেন। (সুয়্যূতি, হোসনুল মাকসাদ ফি আমালিল মৌলুুদ, পৃ: ১৩)।
৩- মহানবী (সা.) নিজে তাঁর জন্য মিলাদ পড়েননি বা জন্মদিন পালন করেননি একথা ঠিক। কিন্তু এই যুক্তিতে মিলাদ মাহফিল বন্ধ করা যাবে না। কারণ, নিজের জন্য জন্মদিন পালন করা গর্বের বিষয় নয়। বরং গর্বের বিষয় হল অন্য কেউ তার জন্য জন্মদিন পালন করবে ও মিলাদ পড়বে। অবশ্য মহানবী (সা.)-এর জীবনেতিহাস থেকে অনুধাবন করা যায় যে, তাঁর জন্মের পূর্বে পিতা মারা গিয়েছিলেন এবং ছয় বছর বয়সে তাঁর মাতাও মারা যান। পিতা-মাতা হারা এতিম শিশুর জন্য তখন কে জন্মদিন পালন করবে? যখন জানা ছিল না যে, তিনি নবী মনোনীত হবেন কি-না!
৪- প্রশ্ন আসতে পারে যে, নবুওতের আগে জন্মদিন পালিত না হলেও নবুওতের পরে কেন পালিত হল না? এরূপ প্রশ্নের উত্তর অতি সহজ, তা হল নবী (সা.)-এর নবুওত প্রাপ্তির বিষয়টি কি আরবের কুরাইশরা স্বাভাবিকভাবে নিয়েছিল? না, তারা তা স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয়নি, বরং তাঁর নবুওতের বিপক্ষে শক্তভাবে অবস্থান করেছিল এমনকি তার সাথে যুদ্ধ করতে উদ্ধ্যত হয়েছিল এবং ২৩ বছরের নবুওতি জীবনে নবী (সা.)-এর বিরুদ্ধে তারা ছোট বড় ২৭টি যুদ্ধ করেছিল। এমতাবস্থায় জন্মদিন পালন করার সময় তাঁর ছিল না এমনকি মক্কা বিজয়ের পরও নবীকে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে কাবার মধ্যবর্তী মূর্তি ধ্বংস করার কাজে।
৫- বর্ণিত আছে যে, মহানবী (সা.) নবুওত প্রাপ্তির পর নিজের জন্য আকিকা করেছিলেন (বাইহাকি, ৯/৩০০; হাইসামি, ৪/৫৯)। মূলতঃ আকিকা হল এক ধরনের জন্মদিনের পার্টি। মাওলানা জালাল উদ্দিন সুয়্যূতি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “নবী (সা.) নবুওত প্রাপ্তির পর নিজের জন্য আকিকা করেছিলেন, অথচ আব্দুল মোত্তালিব তাঁর জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা দিয়েছিলেন। কিন্তু আকিকা তো পুনরাবৃত্তি হয় না। অতএব প্রমাণিত হয় যে, তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় স্বরূপ তা করেছিলেন, কারণ আল্লাহ তায়ালা তাকে রাহমাতুল্লিল আালামিন হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। তাঁর এই কাজটিই আমাদের মিলাদ মাহফিলের পক্ষে শরিয়তি দলিল হিসেবে অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে, আমরা রাহমাতুল্লিল আলামিনের শুকরিয়া আদায়ের জন্য একত্রিত হবো, উপস্থিত জনতাকে আপ্যায়ন করাবো ও আনন্দ প্রকাশ স্বরূপ মিলাদ মাহফিল পালন করবো।” (সুয়্যূতি, ১৮)
৬- বিন বাজ মিলাদ মাহফিলের বিপক্ষে তার যুক্তি উপস্থাপনের ধারায় বেদআতের হাদিসটির পক্ষে কোরআনের আয়াত তুলে ধরেন, কিন্তু শরিয়তিপন্থা অবলম্বন করে মিলাদ পড়ার বিষয়ে সূরা আহযাবের ৫৬ নং আয়াত এতই স্পষ্ট যে, বিন বাজ তা অস্বীকার করতে পারেননি। বরং মিলাদ মাহফিলের বিষয়ে ফতোয়া দেয়ার শেষে অকাট্য ভাষায় তিনি বলেন, “নবী (সা.)-এর উপর দরূদ ও সালাম প্রেরণ করা আল্লাহর নৈকট্যলাভের সর্বোৎকৃষ্ট মাধ্যম এবং নেক আমল হিসাবে বিবেচিত হয়। ঠিক যেভাবে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তার ফেরেশ্তাকুল নবীর উপর দরূদ ও সালাম পেশ করেন ওহে মুমিনব্যক্তিবর্গ তোমরাও তাঁর উপর যথাযথভাবে দরূদ ও সালাম পেশ কর। (সূরা আহযাব/৫৬)
আর নবী (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পেশ করে আল্লাহ তায়ালা তার উপর দশবার দরূদ পেশ করেন। (আহমাদ, মুসলিম, আবু দাউদ ও তিরমিযি এই রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন।) এ কাজটি সর্বসময় শরিয়তিভাবে স্বীকৃত এবং সকল নামাযে তা পড়ার জন্য তাগাদা করা হয়েছে। এমনকি নামাযের শেষ রাকাতের তাশাহহুদের পরে দরূদ পড়া কিছু আলেমদের মতে ওয়াজিব। দরূদ ও সালাম পেশ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ, উদাহরণ স্বরূপ আযানের পরে, তাঁর নাম বলার সময় এবং শুক্রবারের রাত ও দিনের আমলের মত অনেক ক্ষেত্রে তা পড়ার জন্য হাদীসসমূহে তাগাদা করা হয়েছে। (রাসায়েল ম্যাগাজিন, ৬৩)
৭- তারাবি নামায বৈধ হবার বিষয়ে ইবনে তাইমিয়ার যুক্তিও মিলাদ মাহফিল উদযাপনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং এ বিষয়ে কিছু সামঞ্জস্য তুলে ধরছি:
ক- ইবনে তাইমিয়া বলেছেন,“হযরত ওমরের মতে তারাবি নামায বেদআতে হাসানা, এখানে বেদআত শব্দটি আভিধানিক অর্থে প্রয়োগ হয়েছে এবং বেদআতের এই শ্রেণিভেদকে শরিয়তি শ্রেণিভেদ বলা যাবে না।” তার এই যুক্তিও মিলাদ মাহফিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং মিলাদ মাহফিলকেও শরিয়তি বেদআতের শ্রেণিভেদে পরিগণিত করা যাবে না এবং যদি তাকে বেদআত বলা হয় তবে তা হবে আভিধানিক বেদআত।
খ- ইবনে তাইমিয়ার বক্তব্য: “শরিয়তিভাবে সেই আমলকেই বেদআত বলা হবে যার বৈধতার বিষয়ে শরিয়তি কোন দলিল নেই; অতএব যে আমলে কোরআন ও হাদিসের যুক্তি রয়েছে তাকে শরিয়তি বেদআত বলা যাবে না। যদি তাকে বেদআত বলতে হয় তবে তা হবে আভিধানিক বেদআত।” আমরাও বলব: মিলাদ মাহফিলের পক্ষে কোরআন ও হাদিসের যুক্তি রয়েছে। (মিলাদ মাহফিলের পক্ষের আলেমগণ অসংখ্য যুক্তি তুলে ধরেছেন। মুসলিম নিশাপুরি বেশ কিছু হাদিস “মান সান্না সুন্নাতান হাসানাতান আও সাইয়্যেয়াহ” অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।) অতএব মিলাদ মাহফিলের বেদআতটিও শরিয়তি বেদআতের বহির্ভূত বিষয়।
গ- ইবনে তাইমিয়া যেখানে বলেছেন: বেদআত সংক্রান্ত নবী (সা.) এর বক্তব্য “কুল্লু বিদআতুন দ্বলালাহ” তথা ‘সব বিদআতই ক্ষতিকর’ সব আমলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। কারণ ইসলাম ধর্মের আমল, সকল নবীর (সা.) সুন্নত ও আহকামসমূহ নতুন সৃষ্ট বা বেদআত। বিশেষ করে আমাদের নবী (সা.) যেসব আহকাম দিয়ে গেছেন তার সবই নতুন উদ্ভাবন। নবী (সা.)-এর আমলে তারাবি নামায ফুরাদা ও জামাতবদ্ধভাবে পড়া হয়েছে কিন্তু তৃতীয় ও চতুর্থ রাতে তা নিষেধ করেছেন। অবশ্য বলেছিলেন তোমরা বাড়িতে গিয়ে তা পড়বে। কারণ এভাবে জামাতবদ্ধভাবে পড়লে কেউ তা ওয়াজিব মনে করতে পারে। তাই তা মাকরুহ এবং তোমরা রাতের নামায বাড়িতে পড়বে। ইবনে তাইমিয়াহ এরূপ ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে তারাবি নামাযকে শরিয়তি বেদআত থেকে বহির্ভূত করেছেন। এই একই যুক্তির ভিত্তিতে মিলাদ মাহফিল শরিয়তি বেদআত থেকে বহির্ভূত হয়। মিলাদ মাহফিলের বৈধতা অগ্রাধিকারপ্রাপ্য, কারণ মিলাদ মাহফিলকে কেউ বাধ্যতামূলক করেনি বরং তারাবি নামায অনেক দেশেই বাধ্যতামূলক। তারাবি নামাযকে যদি “এটা উত্তম বেদআত” বলা হয় (বুখারি, ২/২৫২), তবে মিলাদ মাহফিলও উত্তম বেদআত বলে পরিগণিত হবে। কারণ রাসূল (সা.)-এর প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করার জন্যই মিলাদ পড়া হয়; তিনি তো সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মানব, সর্বশেষ নবী ও রাহমাতুল্লিল আলামিন। তার জন্য মিলাদ পড়লে তা আল্লাহর প্রেরিত নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে না।
ঘ- কোন আমলকে বেদআতের মধ্যে পরিগণিত করতে হলে ঐ আমল যে শরিয়তিভাবে হারাম তা প্রমাণ করতে হবে। মিলাদ মাহফিলকে শরিয়তি যুক্তিতে হারাম প্রমাণ করা যাবে না বরং তার পক্ষে কোরআন ও হাদিসের অসংখ্য দলিল বিদ্যমান।
৩. সুস্পষ্ট দলিলের ভিত্তিতে মিলাদ মাহফিলের বৈধতা
৩.১. মিলাদ মাহফিলের পক্ষে কোরআনী দলিলসমূহ সংক্ষেপে উল্লেখ করা হল:
১- আল্লাহ তায়ালা বলেন: বলুন, আল্লাহর দয়া ও মেহেরবাণীকে উপলব্ধি করে তোমাদের উচিৎ আনন্দ প্রকাশ করা। তোমরা যা সঞ্চয় করবে তা থেকে এটিই হবে উত্তম। (সূরা ইউনুস, আয়াত নং ৫৮)
আনন্দ প্রকাশ করা ও তার জন্য সাধ্যমত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা মানুষের সহজাত প্রবণতার একটি আর যে সহজাত প্রবণতা আল্লাহ তায়ালা-ই মানুষের অন্তরে স্থাপন করেছেন। আর এ কারণেই তিনি আদেশ করেছেন আনন্দ প্রকাশের জন্য তবে তার মানদন্ড হল আল্লাহর দয়া ও মেহেরবাণীকে উপলব্ধি করা। আর আমাদের নবী (সা.)-এর প্রেরণ কি আমাদের জন্য আল্লাহর দয়া ও মেহেরবাণীর মধ্যে পরে না? যারা এই আয়াতের মর্মকথাকে অস্বীকার করে নবীর স্মরণে মিলাদ মাহফিল পালন করাকে বেদআত বলে ঘোষণা করে তারা আল্লাহর কাছে কী জবাব দেবে?
কারণ কোরআনের মোফাসসেরবৃন্দ এই আয়াতের তাফসীরে “ফাজল” বলতে কোরআন এবং “রাহমাত” বলতে রাসূলকে তাফসীর করেছেন। (ইবনে জাউযি, যাদুল মাসির ফি এলমেত তাফসির, ২/৩৩৬; সুয়্যূতি, আদ্দুররুল মানসুর ফি তাফসীরিল মা’সুর, ৩/৩০৮; তাবারসি, ৫/১৭৭-১৭৮; বাহরানি, ২/১৮৮; তাবাতাবাঈ, ১০/৮২, ৯৬ ও ৯৭।)
২- নবী (সা.) যে সারা বিশ^বাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত হয়েছে তা স্বয়ং আল্লাহ তায়ালাই ঘোষণা করেছেন, “আমি আপনাকে বিশ^বাসীর জন্য একমাত্র রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি।” (সূরা আন্বিয়া/১০১০৭) মিলাদ মাহফিলের বৈধতা প্রমাণ করার জন্য এই দু’টি আয়াতই যথেষ্ট।
৩- সূরা শারহে তথা ইনশিরাহ’তে আল্লাহ তায়ালা বলছেন, আমি আপনার স্মরণকে সমুচ্চ করেছি। (সূরা শারহ বা ইনশিরাহ/৪) সম্মিলিতভাবে রাসূলের উপর দরূদ ও সালাম পেশ করা কি তাঁর নাম ও স্মরণকে সমুচ্চ করার মধ্যে পরিগণিত হয় না? নিশ্চয়ই আজকে যখন ইসলামের শত্রুরা নবী (সা.)কে নিয়ে ব্যাঙ্গ চিত্র প্রকাশ করে আনন্দ করে থাকে তখন যারা নবীকে ভালবাসে ও তার স্মরণে মিলাদ পড়ে নিজের অন্তরের ভালবাসা প্রকাশ করতে চায় তখন কি-না একদল আলেম বলে বেড়ায় যে, এটা বেদআত। তাহলে কি বলা যায় না যে, যারা এরূপ বলে থাকে তারা ইসলামের শত্রুদেরই এজেন্ট? কারণ নবীর যেকোন দুশমনের কাছেই তাঁর নাম ও স্মরণকে সমুচ্চ করা হলে সে তার বিরোধিতা করবে এটাই স্বাভাবিক।
৪- আল্লাহ তায়ালা বলেন, “নিশ্চয় আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলীসহ প্রেরণ করেছিলাম যাতে তার স্বজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে ধাবিত করে আনে এবং তাদেরকে আল্লাহর দিনসমূহ স্মরণ করায়। (সূরা ইবরাহিম/৫) এই আয়াতে আমাদের যুক্তি হল এই “আইয়্যামুল্লাহ” শব্দটি যার অর্থ আল্লাহর দিনসমূহ। নবীর আগমণের দিনটি কি এই “আইয়্যামুল্লাহ” শব্দটির মধ্যে পড়ে না? নিশ্চয়ই পড়ে। (রুজু করুন: ফাখরুদ্দিন রাযি, ১৯/৬৫; আলুসি, ৭/১৭৯)
৫- পবিত্র কোরআনে অসংখ্যবার “আযকার” শব্দটি পুণরাবৃত্তি হয়েছে। যার অনেক ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হল: তোমাদের পূর্ববর্তী সৎকর্মশীল লোকদের স্মরণে রেখো। (উদাহরণস্বরূপ: মায়েদা/১১০, সুরা সাদ, ১৭, ৪১, ৪৫; আহকাফ/২১) অতএব স্পষ্টভাবে বলা যায় কোন কাজের মাধ্যমে যদি নবী মুহাম্মদকে (সা.) স্মরণ করা যায় তাহলে তা বেদআত হবে না, তাহলে মিলাদ মাহফিল কেন বেদআত হবে?
৬- আল্লাহ তায়ালা বলেন (সুরা মায়েদা/১১৪):
মারইয়ামের পুত্র ঈসা বলল, ‘হে আল্লাহ, হে আমাদের রব, আসমান থেকে আমাদের প্রতি খাবারপূর্ণ দস্তরখান নাযিল করুন; এটা আমাদের জন্য ঈদ হবে। আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের জন্য। আর আপনার পক্ষ থেকে এক নিদর্শন হবে। আর আমাদেরকে রিয্ক দান করুন, আপনিই শ্রেষ্ঠ রিয্কদাতা’।
এ আয়াতে আমাদের যুক্তি এরূপ: যদি হযরত ঈসা (আ.) এর প্রতি বেহেশতি খাবার বা দস্তরখান নাজিলের দিনটি তার জন্য এবং তার পরবর্তি উম্মতের জন্য ঈদ হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। যে কথা আল্লাহ তার কোরআনে বর্ণনা করেছেন, তবে বিশ^নবির আগমণের দিনটি কেন উ¤মতে মোহাম্মাদির জন্য ঈদ হিসেবে পালন করা যাবে না?
হ্যাঁ, অবশ্যই নবীর জন্মদিন আমাদের জন্য হবে ঈদের দিন এবং সেই দিন স্মরণ করে আমরা সারা বছর মিলাদ মাহফিল পালন করে যাব এবং উদ্দেশ্য থাকবে কেয়ামতের দিন যাতে তাঁর প্রতি এহেন ভালবাসার কারণে আমাদের হিসাবকে আল্লাহ তায়ালা সহজ করে দেন।
৩.২. ইসলামি সম্প্রদায়সমূহের আলেমদের মতামত: ঠিক যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, শুধু ওহাবি সম্প্রদায় ও সৌদি আরব ছাড়া অন্য সব মাযহাব ও আরব দেশের ফতোয়া বোর্ড সঠিক পন্থায় পালিত মিলাদ মাহফিলকে বৈধ ও জায়েয বলে ঘোষণা করেছেন। অন্যসব আলেমদের মধ্যে পুরাতন ও সনাতন সব আলেমরাই মিলাদ মাহফিলকে বৈধ ও জায়েয বলে ঘোষণা করেছেন। আমরা এ পর্যায়ে প্রথমে পুরাতন আলেমদের ফতোয়া এবং তারপর সনাতন আলেমদের ফতোয়া তুলে ধরব:
৩.২.১. ক. পুরাতন আলেমদের ফতোয়া: পুরাতন আলেমদের মধ্য থেকে অসংখ্য আলেম মিলাদ মাহফিলের বৈধতার ঘোষণা দিয়েছেন, যেমন ইবনে হাজার আসকালানি, ইবনে জৌযি, সুয়্যুতি, সাখাভি, ইবনুল হাজ মালেকি, ইবনে আবেদিন, হাফেজ আব্দুর রহিম ইরাকি, হাফেজ শামসুদ্দিন ইবনে জাযারি, আবু শাম্মা (শেইখ নুরি), শাহাবুদ্দিন কাসতালানি (বুখারির ব্যাখ্যাদাতা), হাফেজ শামসুদ্দিন ইবনে নাসির উদ্দিন দামেশকি ও অন্যান্য পুরাতন আলেম উল্লেখযোগ্য। এ পর্যায়ে আমরা কিছু আলেমের ফতোয়া উল্লেখ করব:
ইবনে হাজার আসকালানিকে মিলাদ মাহফিলের বৈধতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি জবাবে বলেছিলেন: যদিও মিলাদ মাহফিল নবী ও সাহাবিদের আমলে ছিল না বলে বেদআত হিসেবে পরিগণিত এবং তৃতীয় শতাব্দি পর্যন্ত তা ছিল না, কিন্তু পরস্পর বিরোধী যুক্তি তর্ক থাকা সত্ত্বেও তা পালন করা উত্তম কাজ বলে পরিগণিত। মিলাদ মাহফিলের উত্তম কাজগুলো গ্রহণ করে ও হারাম কাজগুলো পরিহার করে পালন করলে তা হবে বেদআতে হাসানা। আমার কাছে এর মূল বিষয়টি প্রমাণিত এবং সহীহাইনেও (বুখারি ও মুসলিমে) এ বিষয়টি প্রমাণিত। (সুয়্যূতি, আল হাভি লিল ফাতওয়া, ১/১৮৮)
পুরাতন আলেমদের মধ্য থেকে ‘হাফেজ আব্দুর রহিম ইরাকি’ এর মতে মিলাদ মাহফিল পালন করা মুস্তাহাব। (শারহে মাওয়াহেবুদ দিনিয়্যাহ লিল জারকানি; সাখাভি, হালাভি সিরাতুল হালাভিয়্যাহ, ১/১৩৭) ইবনে আবেদিনের মতে নবী (সা.)-এর জন্ম মাসে মিলাদ মাহফিল পালন করা প্রশংসিত বেদআত, সম্মানিত কাজ এবং আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের উপায় হিসেবে পরিগণিত। আবু শাম্মা (শেইখ নুরি) সারা বছর মিলাদ মাহফিল পালন করাকে তার যুগের শ্রেষ্ঠ ও উত্তম বেদআত মনে করেন। (আল বায়েস আলা এনকারেল বেদা’ ওয়াল হাওয়াদেস, ২৩)
পুরাতন আলেমদের প্রদেয় ফতোয়া থেকে বুঝা যায় যে, সঠিক পদ্ধতিতে নবী (সা.)-এর মিলাদ মাহফিল পালন করা অর্থাৎ কোরআন তেলাওয়াত, সম্মিলিতভাবে নবীর প্রশংসা, সালাম ও তার প্রতি দরূদ পেশ এবং উপস্থিত লোকজনদেরকে আপ্যায়ন করানো ইসলামের অন্যতম একটি সেরা আমল যার মাধ্যমে নবীর প্রতি মানুষের ভালবাসা বৃদ্ধি পায় এবং কারো প্রতি ভালবাসা বৃদ্ধি পেলে তাঁর প্রতি আনুগত্যও বৃদ্ধি পায়।
৩.২.১. খ. সনাতন আলেমদের ফতোয়া
সনাতন আলেমদের মধ্য থেকেও বড় বড় আলেমগণ মিলাদ মাহফিলের বৈধতার ঘোষণা দিয়েছেন, যেমন জামেয়াতুল জায়তুনার শেখ মোহাম্মদ তাহির ইবনে আশুর যিনি মালেকী মাযহাবের স্বনামধন্য পন্ডিত, আল-আজহার বিশ^বিদ্যালয়ের প্রফেসর শেখ হাসানাইন মোহাম্মদ মাখলুফ, তিউনিশিয়ার বড় আলেম মোহাম্মদ ফাজেল ইবনে আশুর, তিউনিশিয়ার ইসলামি বিশ^বিদ্যালয়ের প্রফেসর মোহাম্মদ শাজালি নেইফার, মোহাম্মদ মুতাওয়াল্লি শারায়ি, মোহাম্মদ আলাভি মালেকি, বিশ^ আলেম ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান ইউসুফ আল কারজাভি, মুহাম্মদ সাঈদ রামাজান বুতি, জর্দানের প্রাক্তন রাষ্ট্রীয় মুফতি নুহ আল কুজাত, মিশরের রাষ্ট্রিয় মুফতি আলী জুমুয়া, মোফাসসেরে কোরআন ওহাবাতুবনু মোস্তাফা যোহালি, মোহাম্মাদ আব্দুল গাফ্ফার শারিফ, মোহাম্মদ রাতেব নাবলাসি, ইরাকের শাবেক মুফতি ওমর ইবনে হাফিজ ও আব্দুল মালেক প্রমুখ। এরা সবাই মিলাদ মাহফিলকে জায়েজ ফতোয়া দিয়েছেন। (বিস্তারিত জানার জন্য রুজু করুন: পি.এইচ.ডি. থিসিস: বাররাসি তাতবিকি আয়াতু তাওয়াস্সুল পৃ: ৩২৫-৩৩০)
নবীজির জন্মদিবস পালনের বিরোধিতা করার কারণ কী এবং এ বিষয়টি কোথা থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে তা বুঝা যাবে এ বিষয়ে আরব দেশগুলোর ফতোয়া থেকে। ১৬টি আরব দেশের ফতোয়ায় দেখা যায় সবাই মিলাদ মাহফিলের পক্ষে ফতোয়া দিয়েছেন, শুধুমাত্র সৌদি আরবের ফতোয়া হল মিলাদ মাহফিলের বিপক্ষে। যেসব আরব দেশ মিলাদ মাহফিলের পক্ষে ফতোয়া দিয়েছেন তারা যথাক্রমে: সুদান, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, কুয়েত, ফিলিস্তিন, তিউনিসিয়া, মরক্কো, সিরিয়া, লেবানন, আলজেরিয়া, ওমান, বাহরাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং মৌরিতানিয়া। মিলাদ মাহফিলের পক্ষে এই ১৬টি আরব দেশের ফতোয়া আরবী ওয়েব সাইট “আল-ওফাক্ব” এ প্রকাশিত হয়েছে।
আরবী পত্রিকা “আল কেইহান” এ তা ১৪/১২/২০১৬ ইং তারিখে প্রকাশিত হয়েছে। ফতোয়ার সমাপ্তিতে বলা হয়েছে:
মুসলমানরা নবী (সা.)-এর জন্মদিন উদযাপন করে মিলাদ মাহফিল পালন করে এবং সৌদি আরব বাদে সকল আরব দেশগুলোর সরকারি ফতোয়ায় তা জায়েয হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু সৌদি আরব তার বিরোধিতা করে থাকে। (রুজু করুন: http://www.al-vefagh.com/News/182302.html )
এখান থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে মিলাদ মাহফিলের বিরোধিতায় সৌদি আরবের ফতোয়ার কারণ হল: তাদের ফতোয়া বোর্ডে রয়েছে ওহাবি আলেমগণ যারা মিলাদ মাহফিলকে বেদআত বলে থাকে, শুধু তাই নয় যেকোন কাজ ও আমলে নবী ও তাঁর আহলে বাইতের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ পায় তাকেই তারা বেদআত বলে থাকে।
অতএব, মিলাদ মাহফিলের বিরুদ্ধে দেয়া যুক্তি কোরআনি আয়াতের মাধ্যমে খন্ডন করার পর দেখা যায় যে, বিরোধিপক্ষ একটি সন্দেহ তুলে ধরেছেন এবং তার পক্ষে বেদআতের হাদিস যুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন এবং বলেছেন যে, অন্যতম একটি বেদআত হল মিলাদ মাহফিল। কিন্তু পাক ভারতের মুসলমানরা যে মিলাদ মাহফিল পালন করে থাকেন তাতে কোরআন তেলাওয়াত, রাসূলের প্রশংসা, সম্মিলিতভাবে দরূদ ও সালাম পেশ, দোয়া ও মুনাজাত এবং আপ্যায়ন ছাড়া অন্য কোন কাজ করা হয় না। এইসব কাজের পক্ষে কোরআনের অসংখ্য আয়াত রয়েছে। আমরাও এ বিষয়ে কোরআনি যুক্তি তুলে ধরেছি কিন্তু বিরোধিপক্ষ বেদআতের হাদিস ছাড়া অন্য কোন যুক্তি তুলে ধরতে পারেননি। যদি বেদআতের কারণে মিলাদ মাহফিল হারাম হয় তবে কোরআনের যুক্তিগুলো কি হাদিসের কাছে মূল্যহীন হয়ে পরে না? হাদিস দ্বারা কখনোই কোরআনের আয়াত খন্ডিত হয় না। তাই বেদআতের হাদিসের কারণেও কোরআন সত্যায়িত মিলাদ মাহফিল অবৈধ হতে পারে না বরং তা মোস্তাহাব হিসেবে প্রমাণিত হয়। তবে কেউ যদি তাতে মদ পান, নারী-পুরুষের অবৈধ মেলামেশা বা নাচ-গান করে থাকে তা কোরআনের দৃষ্টিতে হারাম বলে সেই অনুষ্ঠানও হারাম হবে সন্দেহ নেই। তাই বলে বৈধ পন্থায় পালিত মিলাদ মাহফিলকে কখনোই বেদআত বলা যাবে না।
তথ্যসূত্র
১. পবিত্র কোরআন।
২. আসকালানি, আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আবুল ফাজল, ফাতহুল বারি শারহে সাহিহিল বুখারি, বৈরুত, দারুল মারিফাহ।
৩. আজালুদ্দিন, শেখ হাসান, আল আদেল্লাতুশ শারইয়্যাহ ফি জাওয়াযেল এহতেফাল বি মিলাদে খাইরিল বারিয়্যাহ, ১৪১৩হি. – ১৯৯৩।
৪. নামলেসি, ডক্টর মো. রাতেব, শারহুল হাদিস “মান আহদাসা ফি আমরিনা হাজা মা লাইসা মিনহু ফাহুয়া রাদ্দুন” ১৯৮৯।
৫. একদল আলেম, রাসায়েল ফি হুকমেল এহতেফাল বিল মৌলুদিন নাবাভি, গবেষণা: আলী ইবনে হাসান ইবনে আব্দুল হামিদম, রিয়াদ, দারুল আসেমাহ, ১৪১৯হি. -১৯৯৮, দ্বিতীয় প্রকাশ: ২০১১।
৬. দার কুতনি, আলী ইবনে উমর আবুল হাসান বাগদাদি, সুনানে দার কুতনি, বৈরুত, দারুল মারিফাহ, ১৩৮৬ হি.- ১৯৬৬।
৭. সান্দুবি, হাসান, তারিখুল এহতেফাল বিল মৌলুদিন নাবাবি মিন আসরেল ইসলামিল আউয়াল ইলা আসরে ফারুকেল আউয়াল, কাহেরাহ, ইসতিকামহ প্রকাশনি, ১৯৪৮।
৮. সাবুরি, মাসউদ, আল এহতেফাল বিল মৌলুদিন নাবাভি… বেদআতু হাসানা আম সাইয়েয়াহ? ম্যাগাজিন: শারিয়াতু ফতোয়া ও এসতেশারাত।
৯. সুবকি, শেখ মাহমুদ আল খাত্তাব, আল মাকামাতুল এল্লিয়্যাহ ফি নাশয়াতিল ফাখিমাতিন নাবাবিয়্যাহ, মিশর, দারুল মাকতাম, ২০০৯।
১০. বিন বাজ, আব্দুল আজিজ, ফতোয়াল মোহেম্মাহ লি উমুমিল উম্মাহ, দারুল আসমা, রিয়াজ, ১৪১৩ হিজরি, প্রথম সংস্করণ।
১১. নেইফার, মোহাম্মদ শাজালি (১৯০৮-৯৯৯৭), প্রবন্ধ: আল এহতেফা ওয়া তাজকির, সাহিফাতু রাই আল আম বি তুনেস, আল এহতেফাল বিল মৌলুদিন নাবাভিয়্যিশ শারিফ, তারিখ: ১৯/৮/১৯৯৪।
১২. বুখারি, মোহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আবু আব্দুল্লাহ, সহীহ বুখারি (৮খন্ড), বৈরুত, দারুল ফিকর, ১৪০১হি।
১৩. ইবনে হাম্বল, আহমদ (মৃ: ২৪১হি.) মুসনাদে আহমদ, বৈরুত, দারু সাদর।
১৪. আব্দুল্লাহ ইবনে বাহরাম দারামি (মৃ: ২৫৫ হি.) সুনানে দারামি, এতেদাল প্রকাশনি, দামেশক, সিরিয়া।
১৫. নিশাপুরি, মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ আবুল হোসাইন আল কাশিরি (মৃ: ২৬১), সহীহ মুসলিম ৮খন্ড, বৈরুত, দারুল ফেকর।
১৬. কাজভিনি, আবু আব্দিল্লাহ মোহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ (মৃ: ২৭৫ হি.), সুনানি ইবনে মাযাহ, বৈরুত, দারুল ফেকর।
১৭. তিরমিযি, মোহম্মদ ইবনে ঈসা (মৃ: ২৭৯হি.), সুনান আত তিরমিযি, বৈরুত, দারুল ফিকর, ১৪০৩ হিজরি, দ্বিতীয়।
১৮. তাবারানি, সুলায়মান ইবনে আইয়ুব আল কাসিম (মৃ: ৩৬০হি.), মোজামুল কাবির তাবারানি, মোসুল, আজ জাহরা, ১৪০৪হি.।
১৯. হাকেম নিশাপুরি, মোহাম্মদ ইবনে মোহাম্মদ (মৃ: ৪০৫হি.), মোস্তাদরাক আল হাকেম, বৈরুত, দারুল মারিফাহ, ১৪০৬ হিজরি।
২০. বায়হাকি, আহমাদ ইবনে হুসাইন ইবনে আলী (মৃ: ৪৫৮হি.), সুনান আল-কুবরা, বৈরুত, দারুল ফিকর।
২১. ফখরুদ্দিন রাজি, আবু আব্দিল্লাহ মোহাম্মদ ইবনে ওমর (মৃ: ৬০৬ হি.), মাফাতিহুল গাইব, বৈরুত, ১৪০৪ হি. প্রথম।
২২. ইবনে তেইমিয়্যাহ হারাতি, শাইখুল ইসলাম তাকি উদ্দীন আহমাদ (মৃ:৭৭৮ হি.), আল ফাতওয়াল কুবরা, বৈরুত, দারুন নাশর-দারুল মারেফা।
২৩. সুয়্যুতি, জালাল উদ্দিন আব্দুর রহমান ইবনে আবি বাকর (মৃ: ৯১১ হি.), হুসনুল মাকসাদ ফি আমালিল মৌলুদ, মৌকেউল মুসলিম, মৌসুয়াতুল ইসলামিয়্যাহ সুফিয়াতিস সালাফিয়্যাতিশ শারইয়্যাহ, ১৪২৫হি. – ২০০৫।
২৪. ওসমানি দেওবান্দি, মুফতি মোহাম্মদ শাফি (মৃ: ১৩৯৬ হি.), তাফসিরে মায়ালেফুল কোরআন ৮ খন্ড, ঢাকা – বাংলাদেশ, ইসলামি ফাউন্ডেশন, ১৪৩২ হিজরি, ১৪তম প্রকাশনি, অনুবাদক: মাওলানা মহিউদ্দিন খান।
২৫. হারারি, শেখ আব্দুল্লাহ (মৃ: ১৪১৯ হি.), আর রাওয়ায়েহুয যাকিয়্যাহ ফি মৌলুদে খাইরিল বারিয়্যাহ, দারুল মাশায়েহ, ১৪৩০ হিজরি, পঞ্চম সংস্করণ।
Marion Holmes (২০০৭). The birth of the Prophet Muḥammad: devotional piety in Sunni Islam, pbl: London [u.a.], Routledge. ISBN – ০৪১৫৭৭১২৭৭####
